ঢাকা ১০:৩৫ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ২৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-চীন জি-টু-জি চুক্তিতে গ্রামীণ উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৭:৫০:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬
  • ৫১৫

বাংলাদেশ-চীন জি-টু-জি চুক্তি নিয়ে বৈঠক। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ-চীন জি-টু-জি চুক্তি দেশের কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। কৃষি, মৎস্য, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কোল্ড স্টোরেজ ও সার সরবরাহসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বাংলাদেশ এবং চীনের ফুজিয়ান প্রদেশ।

গত বুধবার সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াসিনের সঙ্গে চীনের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত বীজ, গবেষণা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কৃষি খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক অবস্থান নেয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কৃষি বিজ্ঞানী, গবেষক ও কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ ও স্কলারশিপ কর্মসূচি চালুর বিষয়েও নীতিগত সম্মতি হয়েছে।

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান জি-টু-জি ডিএপি সার সরবরাহ চুক্তির দ্রুত নবায়ন। চীনা প্রতিনিধি দল জানায়, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মৌসুমে সরকারি সার সংগ্রহ শুরু হওয়ার আগেই নতুন চুক্তি কার্যকর করা প্রয়োজন। কৃষিমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত চুক্তি নবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

এ ছাড়া ধানের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলের প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত কোল্ড চেইন ব্যবস্থা, কাঁকড়া হ্যাচারি, অ্যাকুয়াকালচার, মাছ চাষ, সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় লবণাক্ত জমির উন্নয়নে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব খাতে প্রযুক্তি, কারিগরি সহায়তা এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনা প্রতিনিধি দল।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ফুজিয়ান সফর করবে। সেখানে কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মৎস্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং গ্রামীণ উন্নয়ন খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি বিনিময় এবং যৌথ বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ-চীন জি-টু-জি চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তার এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশ-চীন জি-টু-জি চুক্তিতে গ্রামীণ উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনা

Update Time : ০৭:৫০:০৪ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

বাংলাদেশ-চীন জি-টু-জি চুক্তি দেশের কৃষি ও গ্রামীণ উন্নয়নে নতুন সম্ভাবনার দুয়ার খুলে দিয়েছে। কৃষি, মৎস্য, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কোল্ড স্টোরেজ ও সার সরবরাহসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) অংশীদারিত্ব গড়ে তুলতে নীতিগতভাবে একমত হয়েছে বাংলাদেশ এবং চীনের ফুজিয়ান প্রদেশ।

গত বুধবার সচিবালয়ে কৃষিমন্ত্রী আমিন উর রশিদ ইয়াসিনের সঙ্গে চীনের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে এই বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বৈঠকে আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি, উন্নত বীজ, গবেষণা, প্রযুক্তি হস্তান্তর এবং কৃষি খাতের সক্ষমতা বাড়ানোর বিষয়ে উভয় পক্ষ ইতিবাচক অবস্থান নেয়। একই সঙ্গে বাংলাদেশি কৃষি বিজ্ঞানী, গবেষক ও কর্মকর্তাদের জন্য প্রশিক্ষণ ও স্কলারশিপ কর্মসূচি চালুর বিষয়েও নীতিগত সম্মতি হয়েছে।

আরও পড়ুন  চীন-রাশিয়া যৌথ সামরিক মহড়া শুরু ৬ জুলাই

বৈঠকের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল বাংলাদেশ ও চীনের বিদ্যমান জি-টু-জি ডিএপি সার সরবরাহ চুক্তির দ্রুত নবায়ন। চীনা প্রতিনিধি দল জানায়, সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মৌসুমে সরকারি সার সংগ্রহ শুরু হওয়ার আগেই নতুন চুক্তি কার্যকর করা প্রয়োজন। কৃষিমন্ত্রী জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং কৃষকদের নিরবচ্ছিন্ন সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে দ্রুত চুক্তি নবায়নের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।

আরও পড়ুন  সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ালে কমতে পারে দুর্নীতি: অর্থমন্ত্রী

এ ছাড়া ধানের উৎপাদনশীলতা বাড়াতে আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, কাঁঠালসহ বিভিন্ন ফলের প্রক্রিয়াজাতকরণ, উন্নত কোল্ড চেইন ব্যবস্থা, কাঁকড়া হ্যাচারি, অ্যাকুয়াকালচার, মাছ চাষ, সৌরচালিত সেচ ব্যবস্থা এবং উপকূলীয় লবণাক্ত জমির উন্নয়নে প্রযুক্তিগত সহযোগিতা নিয়ে আলোচনা হয়েছে। এসব খাতে প্রযুক্তি, কারিগরি সহায়তা এবং সম্ভাব্য বিনিয়োগে আগ্রহ প্রকাশ করেছে চীনা প্রতিনিধি দল।

বৈঠকে আরও জানানো হয়, আগামী এক থেকে দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশের একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ফুজিয়ান সফর করবে। সেখানে কৃষি, খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ, মৎস্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং গ্রামীণ উন্নয়ন খাতের গবেষণা প্রতিষ্ঠান ও সম্ভাব্য বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। এতে ভবিষ্যতে দুই দেশের মধ্যে প্রযুক্তি বিনিময় এবং যৌথ বিনিয়োগ আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  তেল রপ্তানি সংকটে ইরান, মজুত সক্ষমতা নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ

বিশেষজ্ঞদের মতে, বাংলাদেশ-চীন জি-টু-জি চুক্তি বাস্তবায়িত হলে দেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, আধুনিক প্রযুক্তির বিস্তার এবং গ্রামীণ অর্থনীতির উন্নয়নে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন আসতে পারে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ ও চীনের দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়ন সহযোগিতা আরও শক্তিশালী হবে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন।