ঢাকা ০৮:০৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬, ২৮ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আল্লাহ ছাড়া কারো নামে কসম কাটা যায়? কসমের কাফফারা কী?

কসমের কাফফারা সম্পর্কে কোরআন ও হাদিসে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

কসমের কাফফারা সম্পর্কে ইসলামে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। প্রয়োজন হলে আল্লাহর নামে কসম করা জায়েজ হলেও আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে কসম করা বৈধ নয়। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী বাবা-মা, সন্তান, কাবা, কোরআন কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর নামে শপথ করা নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে শপথ করে, সে শিরকের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তাই একজন মুসলমানের উচিত কসম করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা।

বর্তমান সময়ে অনেকেই কথায় কথায় কসম করেন। কখনো নিজের কথা বিশ্বাসযোগ্য করতে, আবার কখনো রাগ বা আবেগের বশে শপথ করে বসেন। অথচ পবিত্র কোরআনে বারবার কসম করার অভ্যাস নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সূরা আল-কলমে আল্লাহ তাআলা এমন ব্যক্তির অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন, যে অহেতুক বেশি বেশি কসম করে। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, একজন মুমিনের চরিত্র এমন হওয়া উচিত যাতে তার কথার সত্যতা প্রমাণের জন্য বারবার কসম করার প্রয়োজন না হয়।

কসমের কাফফারা দিতে হয় তখনই, যখন কেউ আল্লাহর নামে কোনো কাজ করার বা না করার শপথ করে পরে তা ভঙ্গ করেন। পবিত্র কোরআনের সূরা আল-মায়িদার ৮৯ নম্বর আয়াতে কসম ভঙ্গের কাফফারার বিধান বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কসম ভঙ্গ করলে ১০ জন দরিদ্র মানুষকে নিজের পরিবারের প্রচলিত মান অনুযায়ী খাবার খাওয়াতে হবে অথবা তাদের পোশাক দিতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে টানা তিন দিন রোজা রাখতে হবে। এভাবেই একজন মুসলমান কসম ভঙ্গের প্রায়শ্চিত্ত আদায় করতে পারেন।

তবে সব ধরনের কসমের জন্য কাফফারা প্রযোজ্য নয়। অতীতের কোনো বিষয়ে জেনে-শুনে মিথ্যা কসম করা বা আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে শপথ করা ইসলামে কবিরা গুনাহ হিসেবে গণ্য। এমন মিথ্যা কসমকে ‘গামুস কসম’ বলা হয়। এ ধরনের অপরাধের জন্য শুধু কাফফারা যথেষ্ট নয়; বরং আন্তরিক তাওবা করতে হবে এবং কারও অধিকার নষ্ট হয়ে থাকলে তা ফিরিয়ে দিতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) মিথ্যা কসমকে বড় গুনাহগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ইসলামে ভালো কাজের জন্য করা কসম যথাসম্ভব পূরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ যদি রাগের মাথায় এমন কোনো কসম করেন, যা পালন করলে গুনাহ হবে বা আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট হবে, তাহলে সেই কসম পালন করা উচিত নয়। বরং উত্তম কাজটি করে কসম ভঙ্গের কসমের কাফফারা আদায় করতে হবে। এ বিষয়ে সহিহ মুসলিমের হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেউ যদি দেখে অন্যটি তার কসমের চেয়ে উত্তম, তাহলে সে যেন উত্তম কাজটি করে এবং কসমের কাফফারা আদায় করে।

ইসলামী বিশেষজ্ঞরা বলেন, আল্লাহর নামের মর্যাদা রক্ষা করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব। তাই অযথা কসম করা, অন্যের নামে শপথ করা কিংবা মিথ্যা কসম করা থেকে বিরত থাকা উচিত। সত্যবাদিতা, ওয়াদা রক্ষা এবং আল্লাহর প্রতি আন্তরিকতা একজন মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কসমের কাফফারা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকলে মানুষ যেমন শরিয়তের বিধান মেনে চলতে পারবে, তেমনি অজান্তে বড় ধরনের গুনাহ থেকেও নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আল্লাহ ছাড়া কারো নামে কসম কাটা যায়? কসমের কাফফারা কী?

Update Time : ০৬:১২:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ জুলাই ২০২৬

কসমের কাফফারা সম্পর্কে ইসলামে সুস্পষ্ট নির্দেশনা রয়েছে। প্রয়োজন হলে আল্লাহর নামে কসম করা জায়েজ হলেও আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে কসম করা বৈধ নয়। ইসলামি শরিয়ত অনুযায়ী বাবা-মা, সন্তান, কাবা, কোরআন কিংবা অন্য কোনো ব্যক্তি বা বস্তুর নামে শপথ করা নিষিদ্ধ। এ বিষয়ে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি আল্লাহ ছাড়া অন্য কারও নামে শপথ করে, সে শিরকের মতো গুরুতর অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। তাই একজন মুসলমানের উচিত কসম করার ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করা।

বর্তমান সময়ে অনেকেই কথায় কথায় কসম করেন। কখনো নিজের কথা বিশ্বাসযোগ্য করতে, আবার কখনো রাগ বা আবেগের বশে শপথ করে বসেন। অথচ পবিত্র কোরআনে বারবার কসম করার অভ্যাস নিরুৎসাহিত করা হয়েছে। সূরা আল-কলমে আল্লাহ তাআলা এমন ব্যক্তির অনুসরণ করতে নিষেধ করেছেন, যে অহেতুক বেশি বেশি কসম করে। ইসলামী চিন্তাবিদদের মতে, একজন মুমিনের চরিত্র এমন হওয়া উচিত যাতে তার কথার সত্যতা প্রমাণের জন্য বারবার কসম করার প্রয়োজন না হয়।

আরও পড়ুন  ইসলামে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের চূড়ান্ত আইনি বিধান এবং ৫টি অজানা তথ্য

কসমের কাফফারা দিতে হয় তখনই, যখন কেউ আল্লাহর নামে কোনো কাজ করার বা না করার শপথ করে পরে তা ভঙ্গ করেন। পবিত্র কোরআনের সূরা আল-মায়িদার ৮৯ নম্বর আয়াতে কসম ভঙ্গের কাফফারার বিধান বর্ণনা করা হয়েছে। সেখানে বলা হয়েছে, কসম ভঙ্গ করলে ১০ জন দরিদ্র মানুষকে নিজের পরিবারের প্রচলিত মান অনুযায়ী খাবার খাওয়াতে হবে অথবা তাদের পোশাক দিতে হবে। যদি তা সম্ভব না হয়, তাহলে টানা তিন দিন রোজা রাখতে হবে। এভাবেই একজন মুসলমান কসম ভঙ্গের প্রায়শ্চিত্ত আদায় করতে পারেন।

আরও পড়ুন  আজকের নামাজের সময়সূচি

তবে সব ধরনের কসমের জন্য কাফফারা প্রযোজ্য নয়। অতীতের কোনো বিষয়ে জেনে-শুনে মিথ্যা কসম করা বা আদালতে মিথ্যা সাক্ষ্য দেওয়ার উদ্দেশ্যে শপথ করা ইসলামে কবিরা গুনাহ হিসেবে গণ্য। এমন মিথ্যা কসমকে ‘গামুস কসম’ বলা হয়। এ ধরনের অপরাধের জন্য শুধু কাফফারা যথেষ্ট নয়; বরং আন্তরিক তাওবা করতে হবে এবং কারও অধিকার নষ্ট হয়ে থাকলে তা ফিরিয়ে দিতে হবে। রাসুলুল্লাহ (সা.) মিথ্যা কসমকে বড় গুনাহগুলোর একটি হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

ইসলামে ভালো কাজের জন্য করা কসম যথাসম্ভব পূরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আবার কেউ যদি রাগের মাথায় এমন কোনো কসম করেন, যা পালন করলে গুনাহ হবে বা আত্মীয়তার সম্পর্ক নষ্ট হবে, তাহলে সেই কসম পালন করা উচিত নয়। বরং উত্তম কাজটি করে কসম ভঙ্গের কসমের কাফফারা আদায় করতে হবে। এ বিষয়ে সহিহ মুসলিমের হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, কেউ যদি দেখে অন্যটি তার কসমের চেয়ে উত্তম, তাহলে সে যেন উত্তম কাজটি করে এবং কসমের কাফফারা আদায় করে।

আরও পড়ুন  কাবা শরিফ ধোয়ার ঐতিহ্যবাহী উৎসব: ৩০ জুনের পবিত্র আয়োজন

ইসলামী বিশেষজ্ঞরা বলেন, আল্লাহর নামের মর্যাদা রক্ষা করা প্রতিটি মুসলমানের দায়িত্ব। তাই অযথা কসম করা, অন্যের নামে শপথ করা কিংবা মিথ্যা কসম করা থেকে বিরত থাকা উচিত। সত্যবাদিতা, ওয়াদা রক্ষা এবং আল্লাহর প্রতি আন্তরিকতা একজন মুমিনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য। কসমের কাফফারা সম্পর্কে সঠিক জ্ঞান থাকলে মানুষ যেমন শরিয়তের বিধান মেনে চলতে পারবে, তেমনি অজান্তে বড় ধরনের গুনাহ থেকেও নিজেকে রক্ষা করতে সক্ষম হবে।