ঢাকা ০২:১৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইউরোপের তাপপ্রবাহে ১০ হাজারের বেশি মৃত্যু, ইংল্যান্ডেই প্রাণ গেল ২,৭০০ জনের

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:৪৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬
  • ৫৩৭

ইউরোপে তীব্র তাপপ্রবাহের প্রভাব। ছবি: সংগৃহীত

ইউরোপের তাপপ্রবাহ এবার শুধু অস্বস্তিই নয়, ভয়াবহ প্রাণহানির কারণও হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত মে ও জুন মাসে শুধু ইংল্যান্ড ও ওয়েলসেই প্রায় ২ হাজার ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে তীব্র গরমের প্রভাবে। একই সময়ে ইউরোপজুড়ে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষকেরা। তারা আবহাওয়ার তথ্য, জলবায়ু মডেল এবং অতিরিক্ত মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এই হিসাব প্রকাশ করেছেন।

গবেষকদের মতে, মে ও জুনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ নজিরবিহীন দুটি তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হয়। ইংল্যান্ডে মে মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছায় ৩৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, আর জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে। দুই মাসেই নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড গড়ে।

ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (ECDC) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-সমর্থিত ইউরোমোমোর তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে তাপপ্রবাহজনিত অতিরিক্ত মৃত্যুর মধ্যে ৯ হাজারেরও বেশি মানুষের বয়স ছিল ৬৫ বছরের বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবীণ ব্যক্তি, হৃদ্‌রোগী, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগী এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরের জলবায়ুবিষয়ক বিজ্ঞানী মার্ক ম্যাকার্থি বলেন, বছরের এত শুরুর দিকে এত তীব্র তাপপ্রবাহ পশ্চিম ইউরোপে অত্যন্ত বিরল ঘটনা। অন্যদিকে ডেনমার্কের স্ট্যাটেন্স সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান চিকিৎসক লাসে ভেস্টারগার্ডের মতে, তাপপ্রবাহ ছাড়া এত বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর অন্য কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা পাওয়া কঠিন।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে জলবায়ু পরিবর্তন না ঘটলে জুনের শেষ দিকের এই চরম তাপপ্রবাহের সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম ছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ এখন আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী এবং তীব্র হয়ে উঠছে। তাই ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসুরক্ষা, পর্যাপ্ত পানি পান, রোদ এড়িয়ে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন গবেষকেরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইউরোপের তাপপ্রবাহে ১০ হাজারের বেশি মৃত্যু, ইংল্যান্ডেই প্রাণ গেল ২,৭০০ জনের

Update Time : ০১:৪৫:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ জুলাই ২০২৬

ইউরোপের তাপপ্রবাহ এবার শুধু অস্বস্তিই নয়, ভয়াবহ প্রাণহানির কারণও হয়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, গত মে ও জুন মাসে শুধু ইংল্যান্ড ও ওয়েলসেই প্রায় ২ হাজার ৭০০ মানুষের মৃত্যু হয়েছে তীব্র গরমের প্রভাবে। একই সময়ে ইউরোপজুড়ে অতিরিক্ত মৃত্যুর সংখ্যা ১০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সংস্থার তথ্য বলছে।

গবেষণাটি পরিচালনা করেছে ইম্পেরিয়াল কলেজ লন্ডন, যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর এবং লন্ডন স্কুল অব হাইজিন অ্যান্ড ট্রপিক্যাল মেডিসিনের গবেষকেরা। তারা আবহাওয়ার তথ্য, জলবায়ু মডেল এবং অতিরিক্ত মৃত্যুর পরিসংখ্যান বিশ্লেষণ করে এই হিসাব প্রকাশ করেছেন।

আরও পড়ুন  ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধের সমাধান খুব কাছাকাছি : ট্রাম্প

গবেষকদের মতে, মে ও জুনে ইউরোপের বিভিন্ন দেশ নজিরবিহীন দুটি তাপপ্রবাহের মুখোমুখি হয়। ইংল্যান্ডে মে মাসে সর্বোচ্চ তাপমাত্রা পৌঁছায় ৩৫ দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসে, আর জুনে তা বেড়ে দাঁড়ায় ৩৭ দশমিক ৭ ডিগ্রিতে। দুই মাসেই নতুন তাপমাত্রার রেকর্ড গড়ে।

ইউরোপীয় রোগ প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র (ECDC) এবং বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা-সমর্থিত ইউরোমোমোর তথ্য অনুযায়ী, ইউরোপে তাপপ্রবাহজনিত অতিরিক্ত মৃত্যুর মধ্যে ৯ হাজারেরও বেশি মানুষের বয়স ছিল ৬৫ বছরের বেশি। বিশেষজ্ঞদের মতে, প্রবীণ ব্যক্তি, হৃদ্‌রোগী, শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত রোগী এবং দীর্ঘমেয়াদি অসুস্থতায় ভোগা মানুষ সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন।

আরও পড়ুন  মুখোভাকে হারিয়ে উইম্বলডনের নতুন রানি নোসকোভা

যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তরের জলবায়ুবিষয়ক বিজ্ঞানী মার্ক ম্যাকার্থি বলেন, বছরের এত শুরুর দিকে এত তীব্র তাপপ্রবাহ পশ্চিম ইউরোপে অত্যন্ত বিরল ঘটনা। অন্যদিকে ডেনমার্কের স্ট্যাটেন্স সেরাম ইনস্টিটিউটের প্রধান চিকিৎসক লাসে ভেস্টারগার্ডের মতে, তাপপ্রবাহ ছাড়া এত বেশি অতিরিক্ত মৃত্যুর অন্য কোনো যৌক্তিক ব্যাখ্যা পাওয়া কঠিন।

বিশেষজ্ঞরা আরও বলছেন, মানুষের কর্মকাণ্ডের ফলে জলবায়ু পরিবর্তন না ঘটলে জুনের শেষ দিকের এই চরম তাপপ্রবাহের সৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম ছিল। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে তাপপ্রবাহ এখন আগের তুলনায় আরও ঘন ঘন, দীর্ঘস্থায়ী এবং তীব্র হয়ে উঠছে। তাই ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্বাস্থ্যসুরক্ষা, পর্যাপ্ত পানি পান, রোদ এড়িয়ে চলা এবং ঝুঁকিপূর্ণ ব্যক্তিদের বিশেষ যত্ন নেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন গবেষকেরা।

আরও পড়ুন  নিউইয়র্কে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত স্কুলে এআই ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা