ঢাকা ১২:৪৩ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৩ মে ২০২৬, ১৯ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন অখণ্ড ভারতের নেতা: তারেক রহমান

  • Taslima Khanom
  • Update Time : ০৬:২৪:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬
  • ৫১১

চিত্রঃ শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের স্মরণে শ্রদ্ধা

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক শুধু বাংলার নেতা নন, তিনি ছিলেন অখণ্ড ভারতের অবিসংবাদিত নেতা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শেরে বাংলার ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক স্মারক বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি ফজলুল হকের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, মানবিকতা এবং আপসহীন নেতৃত্বের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তারেক রহমান বলেন, শেরে বাংলার জীবন ও কর্ম আজও নতুন প্রজন্মকে পথ দেখায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন এমন এক নেতা, যিনি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন তাঁর সততা ও সাহসিকতার মাধ্যমে। তিনি কখনও সাধারণ মানুষের দাবি থেকে দূরে সরে যাননি। কৃষক, শ্রমিক ও অবহেলিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি সারাজীবন কাজ করেছেন। এ কারণেই তিনি শুধু একজন রাজনীতিক নন, জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠেন। তারেক রহমান তাঁর বার্তায় বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতি, কৃষি ও অর্থনৈতিক চিন্তায় শেরে বাংলার অবদান গভীরভাবে স্মরণীয়। বিশেষ করে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় তাঁর যে ভূমিকা ছিল, তা ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, বাংলার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। তাই কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়।

তিনি আরও বলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলার কৃষকদের প্রকৃত প্রতিনিধি ছিলেন। কৃষকের দুঃখ, বঞ্চনা ও শোষণের বিষয় তিনি হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেছিলেন। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি রাজনীতিকে কেবল ক্ষমতার বিষয় হিসেবে দেখেননি। বরং মানুষের জীবনমান উন্নয়নকে রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শেরে বাংলা জনমুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ নেন। তিনি প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে কাজ করেন। কৃষক-শ্রমিকবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করে তিনি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁর শাসনামলে সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা রাষ্ট্রীয় নীতিতে প্রতিফলিত হতে শুরু করে।

শিক্ষা বিস্তারেও শেরে বাংলার অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, সমাজের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় আনতে শিক্ষার বিকল্প নেই—এই সত্য তিনি অনেক আগেই উপলব্ধি করেছিলেন। তাই শিক্ষাপ্রসারে তিনি নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তাঁর চিন্তাধারা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তারেক রহমান বলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় ঘটনা ছিল ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন। এই প্রস্তাব উপমহাদেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতার জন্ম দেয়। আজও ইতিহাসবিদদের আলোচনায় এ প্রস্তাব বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এটি তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের অন্যতম প্রমাণ।

তিনি বলেন, শেরে বাংলা ছিলেন এমন এক নেতা, যিনি সময়ের আগেই ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বাস্তবতা বুঝতে পারতেন। সমাজের পরিবর্তন, জনগণের চাহিদা এবং রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য সম্পর্কে তাঁর উপলব্ধি ছিল অসাধারণ। এজন্য তিনি সর্বভারতীয় রাজনীতিতেও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হন। তাঁর নাম আজও সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হয়। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শেরে বাংলার আদর্শ আজকের রাজনীতিতেও সমান প্রয়োজনীয়। জনগণের কল্যাণ, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ, কৃষকের অধিকার এবং শিক্ষা বিস্তারের যে দর্শন তিনি রেখে গেছেন, তা অনুসরণ করা জরুরি। বর্তমান সময়েও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির জন্য তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া সম্ভব।

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামের মিঞা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। সাধারণ পরিবারে জন্ম নিয়েও তিনি নিজের মেধা, পরিশ্রম ও নেতৃত্বগুণে ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। মানুষের কল্যাণই ছিল তাঁর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর এবং যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া কলকাতা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবেও তিনি ইতিহাস গড়েন। আইনসভার সদস্য হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

প্রতিটি দায়িত্বেই তিনি জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে স্মরণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে শেরে বাংলা কখনও আপস করেননি। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি সবসময় দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। এ কারণেই তিনি সময়কে অতিক্রম করে আজও প্রেরণার নাম হয়ে আছেন। তিনি ২১ দফারও প্রণেতা ছিলেন, যা পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় প্রভাব ফেলেছিল। জনগণের ন্যায্য দাবি রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর চিন্তা ছিল সুসংগঠিত ও বাস্তবমুখী। সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপ দিতে পারতেন। এটিই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক। তবে তাঁর মৃত্যু হলেও তাঁর আদর্শ, কর্ম ও নেতৃত্ব আজও বেঁচে আছে মানুষের মনে। মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে জাতির পক্ষ থেকেও এই মহান নেতার প্রতি জানানো হয় বিনম্র শ্রদ্ধা।

জনপ্রিয় সংবাদ

আকিজ গ্রুপে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি : হিসাবরক্ষক পদে চাকরির সুযোগ, সাথে আবাসন সুবিধা

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন অখণ্ড ভারতের নেতা: তারেক রহমান

Update Time : ০৬:২৪:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৬

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক শুধু বাংলার নেতা নন, তিনি ছিলেন অখণ্ড ভারতের অবিসংবাদিত নেতা বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শেরে বাংলার ৬৪তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে দেওয়া এক স্মারক বার্তায় তিনি এ কথা বলেন। একই সঙ্গে তিনি ফজলুল হকের রাজনৈতিক প্রজ্ঞা, মানবিকতা এবং আপসহীন নেতৃত্বের কথা গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন। তারেক রহমান বলেন, শেরে বাংলার জীবন ও কর্ম আজও নতুন প্রজন্মকে পথ দেখায়।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ছিলেন এমন এক নেতা, যিনি মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন তাঁর সততা ও সাহসিকতার মাধ্যমে। তিনি কখনও সাধারণ মানুষের দাবি থেকে দূরে সরে যাননি। কৃষক, শ্রমিক ও অবহেলিত মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি সারাজীবন কাজ করেছেন। এ কারণেই তিনি শুধু একজন রাজনীতিক নন, জনগণের আস্থার প্রতীক হয়ে ওঠেন। তারেক রহমান তাঁর বার্তায় বলেন, ভারতীয় উপমহাদেশের রাজনীতি, কৃষি ও অর্থনৈতিক চিন্তায় শেরে বাংলার অবদান গভীরভাবে স্মরণীয়। বিশেষ করে কৃষকদের স্বার্থ রক্ষায় তাঁর যে ভূমিকা ছিল, তা ইতিহাসে উজ্জ্বল হয়ে আছে। তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, বাংলার অর্থনীতি মূলত কৃষিনির্ভর। তাই কৃষকের উন্নয়ন ছাড়া দেশের অগ্রগতি সম্ভব নয়।

আরও পড়ুন  বিরোধী দলের সঙ্গে আলোচনায় রাজি বিএনপি: প্রধানমন্ত্রী

তিনি আরও বলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক বাংলার কৃষকদের প্রকৃত প্রতিনিধি ছিলেন। কৃষকের দুঃখ, বঞ্চনা ও শোষণের বিষয় তিনি হৃদয় দিয়ে উপলব্ধি করেছিলেন। সেই উপলব্ধি থেকেই তিনি রাজনীতিকে কেবল ক্ষমতার বিষয় হিসেবে দেখেননি। বরং মানুষের জীবনমান উন্নয়নকে রাজনীতির মূল উদ্দেশ্য হিসেবে গ্রহণ করেছিলেন। প্রধানমন্ত্রী স্মরণ করেন, ১৯৩৭ সালে অবিভক্ত বাংলার প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের পর শেরে বাংলা জনমুখী প্রশাসন গড়ে তুলতে নানা উদ্যোগ নেন। তিনি প্রশাসনকে সাধারণ মানুষের নাগালের মধ্যে আনতে কাজ করেন। কৃষক-শ্রমিকবান্ধব নীতিমালা প্রণয়ন করে তিনি নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপন করেন। তাঁর শাসনামলে সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষা রাষ্ট্রীয় নীতিতে প্রতিফলিত হতে শুরু করে।

শিক্ষা বিস্তারেও শেরে বাংলার অবদান ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে উল্লেখ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, সমাজের পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় আনতে শিক্ষার বিকল্প নেই—এই সত্য তিনি অনেক আগেই উপলব্ধি করেছিলেন। তাই শিক্ষাপ্রসারে তিনি নানা পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। তাঁর চিন্তাধারা আজও সমানভাবে প্রাসঙ্গিক। তারেক রহমান বলেন, শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হকের রাজনৈতিক জীবনের অন্যতম বড় ঘটনা ছিল ১৯৪০ সালের ঐতিহাসিক লাহোর প্রস্তাব উত্থাপন। এই প্রস্তাব উপমহাদেশের রাজনীতিতে নতুন বাস্তবতার জন্ম দেয়। আজও ইতিহাসবিদদের আলোচনায় এ প্রস্তাব বিশেষ গুরুত্ব বহন করে। এটি তাঁর দূরদর্শী নেতৃত্বের অন্যতম প্রমাণ।

আরও পড়ুন  নিজ জেলাতে রাশেদ প্রধানকে অবাঞ্ছিত ঘোষণা, দলীয় কার্যালয় ভাংচুর

তিনি বলেন, শেরে বাংলা ছিলেন এমন এক নেতা, যিনি সময়ের আগেই ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক বাস্তবতা বুঝতে পারতেন। সমাজের পরিবর্তন, জনগণের চাহিদা এবং রাজনৈতিক শক্তির ভারসাম্য সম্পর্কে তাঁর উপলব্ধি ছিল অসাধারণ। এজন্য তিনি সর্বভারতীয় রাজনীতিতেও মর্যাদার আসনে অধিষ্ঠিত হন। তাঁর নাম আজও সম্মানের সঙ্গে উচ্চারিত হয়। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, শেরে বাংলার আদর্শ আজকের রাজনীতিতেও সমান প্রয়োজনীয়। জনগণের কল্যাণ, ন্যায়ভিত্তিক সমাজ, কৃষকের অধিকার এবং শিক্ষা বিস্তারের যে দর্শন তিনি রেখে গেছেন, তা অনুসরণ করা জরুরি। বর্তমান সময়েও জনকল্যাণমূলক রাজনীতির জন্য তাঁর জীবন থেকে শিক্ষা নেওয়া সম্ভব।

শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক ১৮৭৩ সালের ২৬ অক্টোবর ঝালকাঠি জেলার রাজাপুরের সাতুরিয়া গ্রামের মিঞা বাড়িতে জন্মগ্রহণ করেন। সাধারণ পরিবারে জন্ম নিয়েও তিনি নিজের মেধা, পরিশ্রম ও নেতৃত্বগুণে ইতিহাসের পাতায় অমর হয়ে আছেন। দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে তিনি বহু গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেন। মানুষের কল্যাণই ছিল তাঁর রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু। তিনি অবিভক্ত বাংলার মুখ্যমন্ত্রী, পাকিস্তান কেন্দ্রীয় সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, পূর্ব পাকিস্তানের গভর্নর এবং যুক্তফ্রন্ট সরকারের মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। এছাড়া কলকাতা সিটি কর্পোরেশনের প্রথম মুসলিম মেয়র হিসেবেও তিনি ইতিহাস গড়েন। আইনসভার সদস্য হিসেবেও তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।

আরও পড়ুন  কাস্টমস কর্মকর্তা হত্যা মামলায় কী বলল আসামিরা

প্রতিটি দায়িত্বেই তিনি জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়েছেন। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনেও তাঁর সক্রিয় ভূমিকা ছিল বলে স্মরণ করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীনতা ও ন্যায়বিচারের প্রশ্নে শেরে বাংলা কখনও আপস করেননি। জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি সবসময় দৃঢ় অবস্থান নিয়েছিলেন। এ কারণেই তিনি সময়কে অতিক্রম করে আজও প্রেরণার নাম হয়ে আছেন। তিনি ২১ দফারও প্রণেতা ছিলেন, যা পরবর্তী রাজনৈতিক ইতিহাসে বড় প্রভাব ফেলেছিল। জনগণের ন্যায্য দাবি রাষ্ট্রীয় কাঠামোয় তুলে ধরার ক্ষেত্রে তাঁর চিন্তা ছিল সুসংগঠিত ও বাস্তবমুখী। সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষাকে তিনি রাজনৈতিক কর্মসূচিতে রূপ দিতে পারতেন। এটিই তাঁকে অন্যদের থেকে আলাদা করেছে।

১৯৬২ সালের ২৭ এপ্রিল ঢাকায় মৃত্যুবরণ করেন শেরে বাংলা এ কে ফজলুল হক। তবে তাঁর মৃত্যু হলেও তাঁর আদর্শ, কর্ম ও নেতৃত্ব আজও বেঁচে আছে মানুষের মনে। মৃত্যুবার্ষিকীতে তাঁকে গভীর শ্রদ্ধায় স্মরণ করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে জাতির পক্ষ থেকেও এই মহান নেতার প্রতি জানানো হয় বিনম্র শ্রদ্ধা।