ঝড়-বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। বঙ্গোপসাগরে বিরাজমান লঘুচাপের বর্ধিতাংশ পশ্চিমবঙ্গ থেকে উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। এর ফলে উত্তর বঙ্গোপসাগর ও তৎসংলগ্ন এলাকায় বায়ুচাপের তারতম্য তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতির কারণে দেশের উপকূলীয় এলাকায় আবহাওয়ার পরিবর্তন লক্ষ্য করা যাচ্ছে এবং বিভিন্ন স্থানে ঝড়ো হাওয়া ও বৃষ্টির সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি অবস্থান করে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঢাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা ও ঝড়ো হাওয়া হতে পারে। এর সঙ্গে বিদ্যুৎ চমকানোসহ হালকা থেকে মাঝারি ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী ঢাকা, ময়মনসিংহ, বরিশাল, চট্টগ্রাম ও সিলেট বিভাগের কোথাও কোথাও মাঝারি থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এই পরিস্থিতিতে নিচু এলাকা ও নদী তীরবর্তী অঞ্চলে সাময়িক জলাবদ্ধতা তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। ঢাকায় পশ্চিম ও উত্তরপশ্চিম দিক থেকে ঘণ্টায় ৮ থেকে ১২ কিলোমিটার বেগে বাতাস প্রবাহিত হতে পারে। তবে অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়ার গতি ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।
আগামী ২৪ ঘণ্টায় রংপুর, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, ঢাকা ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। এ ছাড়া খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের কিছু কিছু জায়গায় দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সারাদেশে দিন ও রাতের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে বলে পূর্বাভাসে উল্লেখ করা হয়েছে। তবে বৃষ্টির কারণে কোথাও কোথাও তাপমাত্রা সামান্য কমে স্বস্তি ফিরতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে, সমুদ্রবন্দরের পাশাপাশি উপকূলীয় এলাকার বাসিন্দাদেরও সতর্ক থাকতে হবে। বিশেষ করে মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে নিরাপদে অবস্থান করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

























