নেত্রকোনার কেন্দুয়ায় চাঁদাবাজ ও মাদকের বিরুদ্ধে এমপির হুঁশিয়ারি উচ্চারিত হয়েছে শ্রমিক দিবসের এক সমাবেশে। শুক্রবার দুপুরে বর্ণাঢ্য র্যালি শেষে আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন সাংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম হিলালী। তিনি শ্রমিকদের অধিকার রক্ষার পাশাপাশি অপরাধ দমনে কঠোর অবস্থানের কথা জানান। সমাবেশে তিনি বলেন, দেশের অর্থনীতিতে শ্রমিকদের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাদের কঠোর পরিশ্রমের মাধ্যমে উৎপাদন ও উন্নয়ন সম্ভব হচ্ছে। তাই শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও সমাজের দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, শ্রমিকদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত করে এমন যেকোনো কর্মকাণ্ড বরদাশত করা হবে না। বিশেষ করে চাঁদাবাজি ও মাদকাসক্তি সমাজের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। এসব অপরাধ দমনে সবাইকে একযোগে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি। রফিকুল ইসলাম হিলালী উল্লেখ করেন, শ্রমিক সংগঠনগুলোকেও নিজেদের ভেতর থেকে শুদ্ধি অভিযান চালাতে হবে। সংগঠনের নাম ব্যবহার করে কেউ যেন চাঁদাবাজি বা মাদক ব্যবসার সঙ্গে জড়িত হতে না পারে, সে বিষয়ে কঠোর নজরদারি প্রয়োজন। সমাবেশে বক্তারা বলেন, শ্রমিকদের কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা জরুরি। দুর্ঘটনা প্রতিরোধ, স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং উপযুক্ত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত না হলে শ্রমিকদের জীবনমান উন্নত করা সম্ভব নয়।
শ্রমিক নেতারা জানান, অনেক ক্ষেত্রে শ্রমিকরা এখনও নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে কাজ করেন। এসব সমস্যা সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানান তারা। অনুষ্ঠানে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ ও বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। তারা শ্রমিকদের অধিকার রক্ষা এবং অপরাধমুক্ত সমাজ গঠনে সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। উপস্থিত নেতারা বলেন, মাদক ও চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। শুধু প্রশাসনের ওপর নির্ভর না করে সাধারণ মানুষকেও সচেতন হতে হবে। এ সময় শ্রমিকদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধির প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরা হয়। তাদের অধিকার সম্পর্কে জানানো এবং আইনি সহায়তা পাওয়ার সুযোগ বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়।
সমাবেশে অংশ নেওয়া শ্রমিকরা জানান, তারা নিরাপদ কর্মপরিবেশ এবং ন্যায্য মজুরি চান। একই সঙ্গে চাঁদাবাজি ও মাদকমুক্ত একটি সমাজে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তারা। কেন্দুয়ায় চাঁদাবাজ ও মাদকের বিরুদ্ধে এমপির হুঁশিয়ারি স্থানীয়দের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে। অনেকেই মনে করছেন, এ ধরনের বক্তব্য অপরাধ দমনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এতে করে এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
সামগ্রিকভাবে বলা যায়, শ্রমিক দিবসের এই সমাবেশ শুধু আনুষ্ঠানিকতায় সীমাবদ্ধ ছিল না। বরং এটি শ্রমিকদের অধিকার, নিরাপত্তা এবং সমাজে বিদ্যমান সমস্যাগুলো তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ হয়ে উঠেছে। কেন্দুয়ায় চাঁদাবাজ ও মাদকের বিরুদ্ধে এমপির হুঁশিয়ারি ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ দমনে কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



























