রাজশাহীতে হামের উপসর্গ নিয়ে অল্প সময়ের ব্যবধানে পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। শনিবার দুপুর থেকে রোববার সকাল পর্যন্ত মাত্র চার ঘণ্টার ব্যবধানে এই মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। এর মধ্যে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে একটি বেসরকারি হাসপাতালে এবং বাকি দুজনের মৃত্যু হয়েছে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। মৃত শিশুদের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ, কুষ্টিয়া ও নাটোর জেলায় বলে জানা গেছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বেসরকারি সিডিএম হাসপাতালে বর্তমানে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও কয়েকজন শিশু চিকিৎসাধীন রয়েছে। হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গুরুতর অসুস্থ কয়েকজন শিশুকে নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে রাখা হয়েছে। চিকিৎসকদের মতে, হামের সংক্রমণ দ্রুত ছড়িয়ে পড়ায় অনেক শিশুই জ্বর, ফুসকুড়ি ও শ্বাসকষ্টের মতো উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে আসছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত চিকিৎসক ডা. শঙ্কর কে বিশ্বাস বলেন, গত ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে নতুন করে বহু শিশু ভর্তি হয়েছে। একই সময়ে অনেক শিশু চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়িও ফিরেছে। তবে বর্তমানে হাসপাতালের বিভিন্ন ওয়ার্ডে সন্দেহভাজন হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেশ বেড়ে গেছে।
চিকিৎসকরা জানান, রোগীর চাপ বেড়ে যাওয়ায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ পরিস্থিতি সামাল দিতে অতিরিক্ত ব্যবস্থা নিচ্ছে। প্রয়োজনে একটি পুরো শিশু ওয়ার্ডকে হাম আইসোলেশন ইউনিট হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করা হয়েছে। একই সঙ্গে আইসিইউতে বেড সংখ্যা বাড়ানো হয়েছে, যাতে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের দ্রুত চিকিৎসা দেওয়া যায়।
স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা বলছেন, হামের সংক্রমণ ঠেকাতে শিশুদের টিকাদান, পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা এবং উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া জরুরি। বিশেষজ্ঞদের মতে, সময়মতো চিকিৎসা ও সচেতনতা বাড়াতে পারলে এই ভাইরাসজনিত রোগের ঝুঁকি অনেকটাই কমানো সম্ভব।




























