ঢাকা ০১:১১ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬, ২ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo আর্জেন্টিনা নাকি আলজেরিয়া? ম্যাচের আগে ভবিষ্যৎবাণী সুপার কম্পিউটারের Logo ফ্যামিলি কার্ড কবে থেকে শুরু? জানালেন প্রধানমন্ত্রী Logo আফরোজা আব্বাস নতুন দায়িত্ব: জাতীয় মহিলা সংস্থার চেয়ারম্যান নিয়োগ Logo সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরীক্ষায় ফি নয়, আসছে নতুন সিদ্ধান্ত Logo তারেক রহমান বক্তব্য: প্রতিশোধ নয়, দেশের জন্য কাজ করার আহ্বান Logo হাজি দেশে ফিরেছেন: ৫৭ হাজারের বেশি, প্রকাশ নতুন তথ্য Logo পদ্মা রেলসেতু মাটি কাটা বিতর্ক: প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপে কাজ বন্ধ Logo প্রবাসীর আত্মহত্যা: স্ত্রীর দ্বিতীয় বিয়ের পর মর্মান্তিক পরিণতি Logo গণমাধ্যমের স্বাধীনতা: গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দিলেন প্রধানমন্ত্রী Logo আর্জেন্টিনার ২০০০ ফুট পতাকা: মুগ্ধতায় শোভাযাত্রায় হাজারো ভক্ত

ফ্যামিলি কার্ড কবে থেকে শুরু? জানালেন প্রধানমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, দেশেরপ্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের কথা চিন্তা করে ২০১১ সাল থেকে তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। পুরুষের চেয়ে নারীরা সংসারের খরচের ক্ষেত্রে অনেক বেশি হিসাবী ও কল্যাণমুখী হন—এমন গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতেই নারীদের হাতে সরাসরি ভাতা তুলে দেওয়ার জন্য এই কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি কবে থেকে শুরু হয়েছে এবং কেন এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে জানুন বিস্তারিত

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যখন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছিল এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছিল, তখন সরকার জনগণের স্বার্থে বিভিন্ন সহায়তামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে। এসব উদ্যোগের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তিনি জানান, দেশের বিপুল সংখ্যক নিম্নআয়ের মানুষ রয়েছে যারা প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সংগ্রহ করতে নানা ধরনের আর্থিক চাপে থাকেন। বাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেলে তাদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকার একটি কার্যকর ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।

সেই চিন্তা থেকেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সূচনা করা হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে তারা তুলনামূলক কম খরচে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন করা। শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণেও সরকার সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেরই একটি অংশ।

তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল যেন সমাজের সব শ্রেণির মানুষ পায়, সেজন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ফ্যামিলি কার্ডধারীরা নির্ধারিত সময় অন্তর বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কম মূল্যে সংগ্রহ করতে পারেন। এর মধ্যে চাল, ডাল, তেল, চিনি এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব পণ্য বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে সরবরাহ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে লাখ লাখ পরিবার সরাসরি উপকৃত হচ্ছে। অনেক পরিবার রয়েছে যারা সীমিত আয়ের কারণে মাসের শেষ দিকে আর্থিক সংকটে পড়ে। ফ্যামিলি কার্ড তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, শুধু খাদ্য সহায়তা নয়, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। কারণ একটি পরিবার যখন ন্যায্যমূল্যে খাদ্যপণ্য পায়, তখন তাদের অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করার সুযোগও বৃদ্ধি পায়।

সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে উপকারভোগীদের তালিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। যাতে প্রকৃত দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো এই সুবিধা পায় এবং কোনো অযোগ্য ব্যক্তি তালিকাভুক্ত হতে না পারে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করা হচ্ছে। ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার ব্যবহারের ফলে উপকারভোগীদের তথ্য সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ সহজ হয়েছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সবসময় জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সময়েও যেন সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত কষ্টের মধ্যে না পড়ে, সেজন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটের কারণে অনেক দেশেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বাংলাদেশও সেই প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। তবে সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি তারই একটি অংশ।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য ভর্তুকি ও বিশেষ সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

তার মতে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি শুধু বর্তমান প্রয়োজন মেটানোর জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার চায় দেশের প্রতিটি মানুষ সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করুক। কোনো পরিবার যেন খাদ্যের অভাবে কষ্ট না পায়, সেটি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে পণ্য বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা অব্যবস্থাপনা না ঘটে।

তিনি বলেন, জনগণের টাকায় পরিচালিত এই কর্মসূচির সুফল জনগণের কাছেই পৌঁছাতে হবে। এজন্য মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের ভাতা ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং অন্যান্য কর্মসূচির পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে যখন সাধারণ মানুষ তার সুফল ভোগ করতে পারবে। সেই লক্ষ্য অর্জনে সরকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমানভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি করা হতে পারে। নতুন উপকারভোগীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।

অর্থনীতিবিদ ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য একটি কার্যকর সহায়তা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির সময়ে এ ধরনের উদ্যোগ জনগণের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করে।

সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই কর্মসূচি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক সুবিধাভোগী জানিয়েছেন, সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্যপণ্য পাওয়ার কারণে তাদের পারিবারিক ব্যয় কিছুটা কমেছে এবং দৈনন্দিন জীবন পরিচালনা সহজ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং কোনো মানুষকে পিছিয়ে না রাখা। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ একে অপরের পরিপূরক। তাই উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ভবিষ্যতেও বিভিন্ন ধরনের সহায়তামূলক কর্মসূচি চালু রাখবে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেশের লাখো পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

আর্জেন্টিনা নাকি আলজেরিয়া? ম্যাচের আগে ভবিষ্যৎবাণী সুপার কম্পিউটারের

ফ্যামিলি কার্ড কবে থেকে শুরু? জানালেন প্রধানমন্ত্রী

Update Time : ১১:৪২:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জানিয়েছেন, দেশেরপ্রান্তিক জনগোষ্ঠীর উন্নয়নের কথা চিন্তা করে ২০১১ সাল থেকে তিনি ‘ফ্যামিলি কার্ড’ নিয়ে গবেষণা শুরু করেন। পুরুষের চেয়ে নারীরা সংসারের খরচের ক্ষেত্রে অনেক বেশি হিসাবী ও কল্যাণমুখী হন—এমন গবেষণার ফলাফলের ভিত্তিতেই নারীদের হাতে সরাসরি ভাতা তুলে দেওয়ার জন্য এই কার্যক্রম চালু করা হয়েছে।ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি কবে থেকে শুরু হয়েছে এবং কেন এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। নিম্নআয়ের মানুষের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের এই উদ্যোগ নিয়ে জানুন বিস্তারিত

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যখন ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছিল এবং আন্তর্জাতিক বাজারের প্রভাব দেশের অর্থনীতিতেও পড়তে শুরু করেছিল, তখন সরকার জনগণের স্বার্থে বিভিন্ন সহায়তামূলক উদ্যোগ গ্রহণ করে। এসব উদ্যোগের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি অন্যতম একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

তিনি জানান, দেশের বিপুল সংখ্যক নিম্নআয়ের মানুষ রয়েছে যারা প্রতিদিনের প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সংগ্রহ করতে নানা ধরনের আর্থিক চাপে থাকেন। বাজারে পণ্যের মূল্য বৃদ্ধি পেলে তাদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়। এমন পরিস্থিতিতে এসব মানুষের পাশে দাঁড়ানোর জন্য সরকার একটি কার্যকর ব্যবস্থা চালুর প্রয়োজনীয়তা অনুভব করে।

সেই চিন্তা থেকেই ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির সূচনা করা হয়। এই কর্মসূচির মাধ্যমে নির্বাচিত পরিবারগুলোকে সাশ্রয়ী মূল্যে প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য সরবরাহ করা হচ্ছে। ফলে তারা তুলনামূলক কম খরচে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য সংগ্রহের সুযোগ পাচ্ছেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের জীবনমান উন্নয়ন করা। শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণেও সরকার সমান গুরুত্ব দিয়ে কাজ করছে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নেরই একটি অংশ।

তিনি আরও বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতির সুফল যেন সমাজের সব শ্রেণির মানুষ পায়, সেজন্য বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। বিশেষ করে নিম্নআয়ের পরিবারগুলোকে সহায়তা করার ক্ষেত্রে সরকার ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে।

ফ্যামিলি কার্ডধারীরা নির্ধারিত সময় অন্তর বিভিন্ন প্রয়োজনীয় খাদ্যপণ্য কম মূল্যে সংগ্রহ করতে পারেন। এর মধ্যে চাল, ডাল, তেল, চিনি এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এসব পণ্য বাজারমূল্যের তুলনায় কম দামে সরবরাহ করা হয়।

প্রধানমন্ত্রী জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে লাখ লাখ পরিবার সরাসরি উপকৃত হচ্ছে। অনেক পরিবার রয়েছে যারা সীমিত আয়ের কারণে মাসের শেষ দিকে আর্থিক সংকটে পড়ে। ফ্যামিলি কার্ড তাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হিসেবে কাজ করছে।

তিনি বলেন, শুধু খাদ্য সহায়তা নয়, সামাজিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করাও এই কর্মসূচির অন্যতম লক্ষ্য। কারণ একটি পরিবার যখন ন্যায্যমূল্যে খাদ্যপণ্য পায়, তখন তাদের অন্যান্য প্রয়োজনীয় খাতে ব্যয় করার সুযোগও বৃদ্ধি পায়।

সরকারের পক্ষ থেকে নিয়মিতভাবে উপকারভোগীদের তালিকা পর্যালোচনা করা হচ্ছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। যাতে প্রকৃত দরিদ্র ও নিম্নআয়ের পরিবারগুলো এই সুবিধা পায় এবং কোনো অযোগ্য ব্যক্তি তালিকাভুক্ত হতে না পারে, সে বিষয়ে বিশেষ নজর দেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে উপকারভোগীদের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। পরে যাচাই-বাছাই শেষে প্রকৃত সুবিধাভোগীদের ফ্যামিলি কার্ড প্রদান করা হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এই কার্যক্রমকে আরও স্বচ্ছ এবং জবাবদিহিমূলক করা হচ্ছে। ডিজিটাল তথ্যভাণ্ডার ব্যবহারের ফলে উপকারভোগীদের তথ্য সংরক্ষণ ও পর্যবেক্ষণ সহজ হয়েছে।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী বলেন, সরকার সবসময় জনগণের কল্যাণে কাজ করে যাচ্ছে। অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের সময়েও যেন সাধারণ মানুষ অতিরিক্ত কষ্টের মধ্যে না পড়ে, সেজন্য বিভিন্ন ধরনের সহায়তা কার্যক্রম চালু রাখা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, বৈশ্বিক বিভিন্ন সংকটের কারণে অনেক দেশেই মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। বাংলাদেশও সেই প্রভাব থেকে পুরোপুরি মুক্ত নয়। তবে সরকার পরিস্থিতি মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে এবং ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি তারই একটি অংশ।

প্রধানমন্ত্রী জানান, দেশের খাদ্য সরবরাহ ব্যবস্থা স্থিতিশীল রাখতে সরকার নিরলসভাবে কাজ করছে। একই সঙ্গে নিম্নআয়ের জনগোষ্ঠীর জন্য ভর্তুকি ও বিশেষ সহায়তা অব্যাহত রাখা হয়েছে।

তার মতে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি শুধু বর্তমান প্রয়োজন মেটানোর জন্য নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদে সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী করার একটি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

তিনি বলেন, সরকার চায় দেশের প্রতিটি মানুষ সম্মানের সঙ্গে জীবনযাপন করুক। কোনো পরিবার যেন খাদ্যের অভাবে কষ্ট না পায়, সেটি নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও জানান, ফ্যামিলি কার্ড কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যাতে পণ্য বিতরণে কোনো ধরনের অনিয়ম, দুর্নীতি বা অব্যবস্থাপনা না ঘটে।

তিনি বলেন, জনগণের টাকায় পরিচালিত এই কর্মসূচির সুফল জনগণের কাছেই পৌঁছাতে হবে। এজন্য মাঠপর্যায়ে নিয়মিত তদারকি কার্যক্রমও পরিচালনা করা হচ্ছে।

সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন ধরনের ভাতা ও সহায়তা কার্যক্রম পরিচালনা করছে। বয়স্ক ভাতা, বিধবা ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং অন্যান্য কর্মসূচির পাশাপাশি ফ্যামিলি কার্ডও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়ন তখনই অর্থবহ হবে যখন সাধারণ মানুষ তার সুফল ভোগ করতে পারবে। সেই লক্ষ্য অর্জনে সরকার উন্নয়ন ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম সমানভাবে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচির আওতা বৃদ্ধি করা হতে পারে। নতুন উপকারভোগীদের অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও সরকার ইতিবাচকভাবে বিবেচনা করছে।

অর্থনীতিবিদ ও সামাজিক বিশ্লেষকদের মতে, ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি নিম্নআয়ের মানুষের জন্য একটি কার্যকর সহায়তা ব্যবস্থা হিসেবে কাজ করছে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির সময়ে এ ধরনের উদ্যোগ জনগণের ওপর চাপ কমাতে সহায়তা করে।

সাধারণ মানুষের মধ্যেও এই কর্মসূচি নিয়ে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক সুবিধাভোগী জানিয়েছেন, সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্যপণ্য পাওয়ার কারণে তাদের পারিবারিক ব্যয় কিছুটা কমেছে এবং দৈনন্দিন জীবন পরিচালনা সহজ হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, সরকারের মূল লক্ষ্য হচ্ছে জনগণের কল্যাণ নিশ্চিত করা এবং কোনো মানুষকে পিছিয়ে না রাখা। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচি সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম হিসেবে কাজ করছে।

সবশেষে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের উন্নয়ন ও জনগণের কল্যাণ একে অপরের পরিপূরক। তাই উন্নয়নের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে সরকার ভবিষ্যতেও বিভিন্ন ধরনের সহায়তামূলক কর্মসূচি চালু রাখবে। ফ্যামিলি কার্ড কর্মসূচিও সেই ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে দেশের লাখো পরিবারের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা প্রদান করে যাচ্ছে।