মেক্সিকোতে ৬ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ হওয়ায় ঘটনাটি আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও বাড়তি গুরুত্ব পেয়েছে। এখন পর্যন্ত বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের কোনো খবর পাওয়া না গেলেও স্থানীয় প্রশাসন সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল এল প্রোগ্রেসো এলাকা থেকে প্রায় ৭৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে। কম্পনটির উৎপত্তি হয়েছে ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে। অগভীর গভীরতায় ভূমিকম্প হওয়ায় আশপাশের এলাকায় কম্পন বেশি অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের পর উপকূলীয় পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। অনেক বাসিন্দা নিরাপদ স্থানে চলে যান এবং জরুরি সেবার সদস্যরা সম্ভাব্য ক্ষয়ক্ষতির তথ্য সংগ্রহ শুরু করেন। তবে প্রাথমিক মূল্যায়নে বড় ধরনের অবকাঠামোগত ক্ষতি বা প্রাণহানির কোনো তথ্য নিশ্চিত হয়নি।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে কাজ করছে এবং যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোকে সতর্ক রাখা হয়েছে। ভূমিকম্প-পরবর্তী সম্ভাব্য আফটারশকের বিষয়েও নজর রাখা হচ্ছে।
বিশ্বকাপের প্রস্তুতির দিক থেকেও ঘটনাটি গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। মেক্সিকো আগামী বিশ্বকাপের অন্যতম আয়োজক দেশ হওয়ায় দেশটির অবকাঠামো, নিরাপত্তা এবং দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলের নজর রয়েছে। যদিও এই ভূমিকম্পের সঙ্গে বিশ্বকাপ আয়োজনের প্রস্তুতির কোনো সরাসরি প্রভাবের তথ্য এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।
সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভূমিকম্পের ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে সম্প্রতি ভেনেজুয়েলায় মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। ভূমিকম্পবিজ্ঞানে একই ধরনের কাছাকাছি সময়ে সংঘটিত এ ধরনের দুটি কম্পনকে ‘ডাবলেট’ বলা হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ডাবলেট ভূমিকম্প সাধারণ একক ভূমিকম্পের তুলনায় বেশি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। কারণ প্রথম কম্পনের পর দুর্বল হয়ে পড়া স্থাপনা দ্বিতীয় কম্পনে আরও বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত উদ্ধার কার্যক্রম ও সতর্কতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৯ থেকে ২৬ জুনের মধ্যে বিশ্বজুড়ে ৪ দশমিক ৫ বা তার বেশি মাত্রার মোট ৯৩টি ভূমিকম্প রেকর্ড করা হয়েছে। এই পরিসংখ্যানকে বৈশ্বিক ভূকম্পন তৎপরতা বৃদ্ধির একটি ইঙ্গিত হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তবে তারা একই সঙ্গে মনে করিয়ে দিয়েছেন, ভূমিকম্পের সময়, স্থান কিংবা মাত্রা নির্ভুলভাবে আগে থেকে পূর্বাভাস দেওয়ার মতো প্রযুক্তি এখনো বিশ্বের কোনো দেশের কাছেই নেই।



















