ভিনিসিয়ুস জুনিয়রের একটি ছবি ও ভিডিও সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক ভাইরাল হয়েছে। সেখানে দেখা যায়, বিশ্বকাপে হাইতির বিপক্ষে ম্যাচে মাঠে নামার আগে টানেল দিয়ে হাঁটার সময় আনারস খাচ্ছেন ব্রাজিলের এই তারকা ফরোয়ার্ড। শুধু ম্যাচ শুরুর আগে নয়, গা গরম করার সময় এবং প্রথমার্ধের বিরতির পর মাঠে ফেরার আগেও তাঁকে আনারস খেতে দেখা গেছে। এরপর থেকেই অনেকের প্রশ্ন, ভিনিসিয়ুসের দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের রহস্য কি তবে এই আনারস?
তবে এই দৃশ্য নতুন নয়। ক্লাব ফুটবলেও একাধিকবার ম্যাচের আগে ভিনিসিয়ুসকে ফল খেতে দেখা গেছে। সবচেয়ে আলোচিত ঘটনা ছিল ২০২৪ সালের স্প্যানিশ সুপার কাপের ফাইনালে বার্সেলোনার বিপক্ষে এল ক্লাসিকোর আগে। মাঠে নামার ঠিক আগে আনারস খাওয়ার সেই ছবি তখনও আলোচনায় আসে। পরে ওই ম্যাচে হ্যাটট্রিক করে দলকে শিরোপা জেতানোর পর বিষয়টি আরও বেশি নজর কাড়ে।
ব্রাজিল জাতীয় দলের পুষ্টিবিদ ও সাপোর্ট স্টাফরা খেলোয়াড়দের জন্য নিয়মিত বিভিন্ন ধরনের ফলের ব্যবস্থা রাখেন। কলা, কমলা, তরমুজের পাশাপাশি আনারসও থাকে সেই তালিকায়। ম্যাচের আগে কিংবা বিরতির সময় ফল খাওয়া পেশাদার ফুটবলারদের জন্য খুবই স্বাভাবিক একটি অভ্যাস। কারণ এসব ফল দ্রুত শক্তি জোগানোর পাশাপাশি শরীরকে সতেজ রাখতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, আনারসের প্রায় ৮৫ শতাংশই পানি, যা শরীরের হাইড্রেশন বজায় রাখতে সহায়তা করে। দীর্ঘ সময় দৌড়ঝাঁপের খেলায় শরীর থেকে প্রচুর পানি বের হয়ে যায়। এমন অবস্থায় জলীয় উপাদানসমৃদ্ধ ফল দ্রুত শরীরের ভারসাম্য ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। তাই অনেক অ্যাথলেট ম্যাচের আগে কিংবা বিরতির সময় আনারস খেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন।
আনারসে থাকা সহজপাচ্য কার্বোহাইড্রেটও ফুটবলারদের জন্য উপকারী। এটি দ্রুত হজম হয়ে শরীরে তাৎক্ষণিক শক্তি সরবরাহ করতে পারে, আবার ভারী খাবারের মতো অস্বস্তিও তৈরি করে না। ফলে ম্যাচ চলাকালীন খেলোয়াড়দের শক্তির ঘাটতি পূরণে এটি কার্যকর একটি প্রাকৃতিক খাবার হিসেবে বিবেচিত হয়।
এ ছাড়া আনারসে রয়েছে প্রচুর ভিটামিন সি, যা তীব্র শারীরিক পরিশ্রমের ফলে তৈরি হওয়া অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সাহায্য করে। একই সঙ্গে এতে থাকা ব্রোমেলিন নামের প্রাকৃতিক এনজাইম প্রোটিন হজমে সহায়ক ভূমিকা রাখে। যদিও এটি কোনো জাদুকরী খাবার নয়, তবুও পুষ্টিগুণের কারণে বিশ্বের অনেক ক্রীড়াবিদই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় আনারস রাখেন।
ভিনিসিয়ুসের ভাইরাল ছবি ও ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মজার মন্তব্যেরও কমতি নেই। কেউ কেউ রসিকতা করে বলছেন, তাঁর গোল করার রহস্য নাকি এই আনারসেই লুকিয়ে। বাস্তবে অবশ্য ভিনিসিয়ুসের সাফল্যের পেছনে রয়েছে কঠোর অনুশীলন, সঠিক পুষ্টি পরিকল্পনা এবং পেশাদার প্রস্তুতি। আনারস সেই পরিকল্পনার একটি ছোট অংশ মাত্র, তবে ভাইরাল ছবির কারণে সেটিই এখন ফুটবলপ্রেমীদের কৌতূহলের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে।

























