ফিফা বিশ্বকাপ বিনামূল্যে দেখার খবর ফুটবলপ্রেমীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করেছে। আগামী ১১ জুন থেকে শুরু হতে যাওয়া বিশ্বকাপকে ঘিরে ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে উন্মাদনা ছড়িয়ে পড়েছে। এর মধ্যেই ফিফা বিশ্বকাপ বিনামূল্যে সম্প্রচারের খবর নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে এই সুযোগ বিশ্বের সব দর্শকের জন্য উন্মুক্ত থাকছে না। বিশেষ করে বাংলাদেশ ও ভারতের দর্শকদের জন্য থাকছে ভিন্ন বাস্তবতা। জানা গেছে, বিশ্বকাপের সব ম্যাচ একটি জনপ্রিয় ভিডিওভিত্তিক প্ল্যাটফর্মে বিনামূল্যে সম্প্রচারের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ম্যাচগুলো অত্যাধুনিক চিত্রমানের মাধ্যমে সরাসরি দেখানো হবে। ফলে দর্শকরা মাঠের খেলার অভিজ্ঞতার কাছাকাছি অনুভূতি পেতে পারবেন। তবে এই সম্প্রচার সুবিধা মূলত একটি নির্দিষ্ট দেশের দর্শকদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকবে। ফুটবলপ্রেমীদের অনেকেই ধারণা করেছিলেন, বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো অনলাইনে উন্মুক্ত হলে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে তা দেখা যাবে। কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি তেমন নয়। সম্প্রচার স্বত্বের কারণে বিভিন্ন অঞ্চলের জন্য আলাদা নীতিমালা অনুসরণ করা হচ্ছে। ফলে নির্দিষ্ট দেশের বাইরে থাকা দর্শকরা সরাসরি সম্প্রচার দেখতে পারবেন না।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানিয়েছে, ব্রাজিলের দর্শকদের জন্য বিশ্বকাপের ১০৪টি ম্যাচ বিনামূল্যে সম্প্রচার করা হবে। তবে ব্রাজিল ছাড়া অন্য দেশের দর্শকরা একই সুবিধা পাবেন না। প্রযুক্তিগতভাবে সম্প্রচার চ্যানেলগুলোকে এমনভাবে নিয়ন্ত্রণ করা হবে যাতে নির্ধারিত অঞ্চলের বাইরের ব্যবহারকারীরা সম্প্রচারে প্রবেশ করতে না পারেন। এর ফলে বাংলাদেশ ও ভারতের দর্শকদের মধ্যে কিছুটা হতাশা দেখা দিয়েছে। কারণ অনেকেই আশা করেছিলেন যে অনলাইনভিত্তিক এই উদ্যোগের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় ছাড়াই বিশ্বকাপ উপভোগ করা সম্ভব হবে। কিন্তু সম্প্রচার অধিকারসংক্রান্ত সীমাবদ্ধতার কারণে সেই সম্ভাবনা আপাতত বাস্তবায়িত হচ্ছে না।
বিশ্বকাপ সম্প্রচারের সঙ্গে যুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো ব্রাজিলভিত্তিক ক্রীড়া গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান লাইভমোড। প্রতিষ্ঠানটি নির্দিষ্ট অঞ্চলের জন্য ডিজিটাল সম্প্রচার স্বত্ব অর্জন করেছে। তাদের অংশীদার প্রতিষ্ঠান কেজটিভির মাধ্যমে বিশ্বকাপের ম্যাচগুলো সরাসরি সম্প্রচার করা হবে। তবে এই সম্প্রচার কার্যক্রম শুধুমাত্র ব্রাজিলের দর্শকদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। এদিকে ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের দৌড়ে একটি বড় সম্প্রচার প্রতিষ্ঠান এগিয়ে রয়েছে।
যদিও এখনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি, তবুও ধারণা করা হচ্ছে যে তাদের ক্রীড়া চ্যানেল এবং ডিজিটাল মাধ্যমের মাধ্যমে ম্যাচগুলো দেখানো হতে পারে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত ঘোষণা এলে ভারতীয় দর্শকদের জন্য বিশ্বকাপ দেখার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হবে। বাংলাদেশের ক্ষেত্রেও পরিস্থিতি অনেকটাই একই রকম। স্থানীয় সম্প্রচারকারী প্রতিষ্ঠান বা আন্তর্জাতিক সম্প্রচার স্বত্বধারীদের মাধ্যমে ম্যাচ দেখার ব্যবস্থা হতে পারে। তবে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সম্প্রচার সূচি ও মাধ্যম সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ফলে ফুটবলপ্রেমীরা সংশ্লিষ্ট ঘোষণার অপেক্ষায় রয়েছেন।
এই আলোচনার আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো পর্তুগিজ তারকা ফুটবলার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর সম্পৃক্ততা। সম্প্রতি তিনি ব্রাজিলের ক্রীড়া গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠান লাইভমোডে বিনিয়োগ করেছেন বলে জানা গেছে। এর পর থেকেই প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম আন্তর্জাতিকভাবে আরও বেশি আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে বিশ্বকাপ সম্প্রচারের সঙ্গে নাম জড়িয়ে যাওয়ায় বিষয়টি নতুন মাত্রা পেয়েছে। রোনালদোর বিনিয়োগের কারণে অনেকেই মনে করেছিলেন যে বিশ্বব্যাপী দর্শকদের জন্য হয়তো নতুন কোনো সম্প্রচার সুবিধা চালু হবে।
কিন্তু বাস্তবে সম্প্রচার অধিকার নির্ধারণ করে দেয় কোন অঞ্চলে কোন মাধ্যমের মাধ্যমে খেলা দেখানো যাবে। ফলে কোনো প্রতিষ্ঠানে তারকা ফুটবলারের বিনিয়োগ থাকলেও তা স্বয়ংক্রিয়ভাবে বৈশ্বিক সম্প্রচার সুবিধা নিশ্চিত করে না। বিশ্বকাপের মতো বড় ক্রীড়া আসরে সম্প্রচার স্বত্ব একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। বিভিন্ন দেশ ও অঞ্চলে আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠান বিপুল অর্থ ব্যয় করে এই স্বত্ব ক্রয় করে থাকে। ফলে নির্দিষ্ট এলাকার বাইরে সম্প্রচার উন্মুক্ত করা হলে সেই ব্যবসায়িক কাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ কারণেই আঞ্চলিক সীমাবদ্ধতা আরোপ করা হয়।
সবকিছু মিলিয়ে ফিফা বিশ্বকাপ বিনামূল্যে সম্প্রচারের খবর নিঃসন্দেহে আকর্ষণীয়। তবে এই সুবিধা কেবল ব্রাজিলের দর্শকদের জন্য সীমাবদ্ধ থাকায় বাংলাদেশ ও ভারতের ফুটবলপ্রেমীরা সরাসরি এর সুফল পাচ্ছেন না। তাই নিজ নিজ দেশের আনুষ্ঠানিক সম্প্রচার মাধ্যমের ঘোষণার দিকেই এখন তাকিয়ে আছেন কোটি কোটি ফুটবল সমর্থক। বিশ্বকাপের উত্তেজনা যতই বাড়ছে, ম্যাচ দেখার উপায় নিয়েও দর্শকদের আগ্রহ ততই বৃদ্ধি পাচ্ছে।

























