ঢাকা ০৫:০৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ জুলাই ২০২৬, ৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo সুদানের আকাশ থেকে নেমে আসে মৃত্যু Logo নাগরিক সেবা মিলবে এক প্লাটফর্মে, যাত্রা শুরু করলো ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ Logo রাঙ্গুনিয়ায় বন্যাদুর্গত মানুষের পাশে পার্কভিউ হাসপাতাল Logo এপিক হেলথ কেয়ারের উদ্যোগে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পরিচ্ছন্নতা রক্ষায় ডাস্টবিন বিতরণ Logo জাবেদের গুলশানের ফ্ল্যাট খুলতেই রোলেক্সের বক্স, বিএমডব্লিউর ৫ চাবি, ৫৩২ টাই, ৩০০ কোট Logo কুয়াকাটা সৈকতে ভেসে এলো বিরল ইউনিকর্ন লেদারজ্যাকেট মাছ Logo কর্মক্ষেত্রে নারীদের পরিপাটি ও স্বচ্ছন্দ লুকের সহজ উপায় Logo ব্যাচেলরদের বাসা খোঁজার ঝামেলা কমানোর কার্যকর উপায় Logo বিশ্বকাপ জিতলে বিয়ে, হারতেই কী বললেন পরীমনি? Logo ৯৬ বছরে বিশ্ব রেকর্ড! ইন্টারনেটে ঝড় তুললেন এই দাদি

জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১০:৩৪:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫২৬

শেষ ম্যাচে রোমাঞ্চকর জয়, ২-১ ব্যবধানে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল টাইগাররা! সংগৃহীত

জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে হতাশার পর অবশেষে টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারের পর টানা দুই ম্যাচ জিতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে টাইগাররা। রোববার (১৯ জুলাই) হারারে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ৪ উইকেটের দারুণ জয় তুলে নেয়। তানজিদ হাসানের অপরাজিত ৬৬ রানের ইনিংস এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে আসে এই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ জয়।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৩ রান করেন ডিওন মায়ার্স। মাত্র ৫৩ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসটি জিম্বাবুয়ের সংগ্রহকে লড়াই করার মতো অবস্থানে নিয়ে যায়। এছাড়া ব্রায়ান বেনেট ৩৮ বলে ৪৭ রান করলেও অন্য ব্যাটাররা বড় কোনো অবদান রাখতে পারেননি।

বাংলাদেশের বোলাররা শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। মাহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন এবং আবদুল গাফফার সাকলাইন একটি করে উইকেট শিকার করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের ফিল্ডারদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ রানআউট জিম্বাবুয়ের ইনিংসকে বড় সংগ্রহ গড়তে বাধা দেয়।

১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ওপেনার সাইফ হাসান দ্রুত বিদায় নিলেও দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন ৫৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলের চাপ কমিয়ে দেন। ইমন ২২ বলে ২৪ রান করে আউট হলেও তানজিদ এক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ দায়িত্বশীল ব্যাটিং চালিয়ে যান।

অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ও দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি ১৯ বলে ২৪ রান করে মিডল অর্ডারে ইনিংসকে এগিয়ে নেন। ইয়াসির আলী ৯ বলে ১০ রান যোগ করলেও শেষদিকে দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে তানজিদ হাসান অসাধারণ ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন এবং দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যান।

৫৮ বলে অপরাজিত ৬৬ রানের ইনিংসে তানজিদ হাসান ১টি চার ও ৪টি ছক্কা হাঁকান। ম্যাচ যখন শেষ ওভারে গড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখন ১৯.৪ ওভারে মাহেদী হাসানের বাউন্ডারিতে নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের জয়। হাতে ছিল আরও দুই বল। এই জয়ের মাধ্যমে সিরিজও নিজেদের করে নেয় সফরকারীরা।

জিম্বাবুয়ের হয়ে রিচার্ড এনগারাভা ও ব্র্যাড ইভান্স দুটি করে উইকেট নেন। অধিনায়ক সিকান্দার রাজাও দুটি উইকেট শিকার করলেও বাংলাদেশের জয় আটকাতে পারেননি। পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলের মধ্যে লড়াই হলেও শেষ হাসি হেসেছে বাংলাদেশই।

টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে ব্যর্থতার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় বাংলাদেশের জন্য আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার বড় উপলক্ষ হয়ে এসেছে। বিশেষ করে তরুণ ব্যাটার তানজিদ হাসানের ম্যাচজয়ী ইনিংস এবং দলের সম্মিলিত পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের সিরিজগুলোর জন্য ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। এই জয় শুধু একটি সিরিজ জয় নয়, বরং কঠিন সফরে ঘুরে দাঁড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেও বিবেচিত হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

সুদানের আকাশ থেকে নেমে আসে মৃত্যু

জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজ জিতল বাংলাদেশ

Update Time : ১০:৩৪:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ জুলাই ২০২৬

জিম্বাবুয়ে সফরে টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে হতাশার পর অবশেষে টি-টোয়েন্টিতে ঘুরে দাঁড়াল বাংলাদেশ। তিন ম্যাচের সিরিজের প্রথম ম্যাচে হারের পর টানা দুই ম্যাচ জিতে ২-১ ব্যবধানে সিরিজ নিজেদের করে নিয়েছে টাইগাররা। রোববার (১৯ জুলাই) হারারে অনুষ্ঠিত তৃতীয় ও শেষ টি-টোয়েন্টিতে বাংলাদেশ ৪ উইকেটের দারুণ জয় তুলে নেয়। তানজিদ হাসানের অপরাজিত ৬৬ রানের ইনিংস এবং বোলারদের নিয়ন্ত্রিত পারফরম্যান্সে আসে এই গুরুত্বপূর্ণ সিরিজ জয়।

টস জিতে প্রথমে ব্যাট করতে নেমে জিম্বাবুয়ে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৭ উইকেট হারিয়ে ১৪৩ রান সংগ্রহ করে। দলের হয়ে সর্বোচ্চ ৭৩ রান করেন ডিওন মায়ার্স। মাত্র ৫৩ বলে ৭টি চার ও ২টি ছক্কায় সাজানো তার ইনিংসটি জিম্বাবুয়ের সংগ্রহকে লড়াই করার মতো অবস্থানে নিয়ে যায়। এছাড়া ব্রায়ান বেনেট ৩৮ বলে ৪৭ রান করলেও অন্য ব্যাটাররা বড় কোনো অবদান রাখতে পারেননি।

বাংলাদেশের বোলাররা শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রিত বোলিং করেন। অভিজ্ঞ পেসার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন ৪ ওভারে ৩৫ রান দিয়ে ২টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। মাহেদী হাসান, রিশাদ হোসেন এবং আবদুল গাফফার সাকলাইন একটি করে উইকেট শিকার করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের ফিল্ডারদের দুটি গুরুত্বপূর্ণ রানআউট জিম্বাবুয়ের ইনিংসকে বড় সংগ্রহ গড়তে বাধা দেয়।

১৪৪ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুতেই ধাক্কা খায় বাংলাদেশ। ওপেনার সাইফ হাসান দ্রুত বিদায় নিলেও দ্বিতীয় উইকেটে তানজিদ হাসান ও পারভেজ হোসেন ইমন ৫৫ রানের গুরুত্বপূর্ণ জুটি গড়ে দলের চাপ কমিয়ে দেন। ইমন ২২ বলে ২৪ রান করে আউট হলেও তানজিদ এক প্রান্ত আগলে রেখে দারুণ দায়িত্বশীল ব্যাটিং চালিয়ে যান।

অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ও দলের জয়ে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। তিনি ১৯ বলে ২৪ রান করে মিডল অর্ডারে ইনিংসকে এগিয়ে নেন। ইয়াসির আলী ৯ বলে ১০ রান যোগ করলেও শেষদিকে দ্রুত দুই উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে বাংলাদেশ। তবে তানজিদ হাসান অসাধারণ ধৈর্যের পরিচয় দিয়ে শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন এবং দলকে জয়ের পথে এগিয়ে নিয়ে যান।

৫৮ বলে অপরাজিত ৬৬ রানের ইনিংসে তানজিদ হাসান ১টি চার ও ৪টি ছক্কা হাঁকান। ম্যাচ যখন শেষ ওভারে গড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হয়, তখন ১৯.৪ ওভারে মাহেদী হাসানের বাউন্ডারিতে নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের জয়। হাতে ছিল আরও দুই বল। এই জয়ের মাধ্যমে সিরিজও নিজেদের করে নেয় সফরকারীরা।

জিম্বাবুয়ের হয়ে রিচার্ড এনগারাভা ও ব্র্যাড ইভান্স দুটি করে উইকেট নেন। অধিনায়ক সিকান্দার রাজাও দুটি উইকেট শিকার করলেও বাংলাদেশের জয় আটকাতে পারেননি। পুরো ম্যাচজুড়ে দুই দলের মধ্যে লড়াই হলেও শেষ হাসি হেসেছে বাংলাদেশই।

টেস্ট ও ওয়ানডে সিরিজে ব্যর্থতার পর টি-টোয়েন্টি সিরিজ জয় বাংলাদেশের জন্য আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনার বড় উপলক্ষ হয়ে এসেছে। বিশেষ করে তরুণ ব্যাটার তানজিদ হাসানের ম্যাচজয়ী ইনিংস এবং দলের সম্মিলিত পারফরম্যান্স ভবিষ্যতের সিরিজগুলোর জন্য ইতিবাচক বার্তা দিয়েছে। এই জয় শুধু একটি সিরিজ জয় নয়, বরং কঠিন সফরে ঘুরে দাঁড়ানোর একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবেও বিবেচিত হবে।