নিরাপত্তাজনিত উদ্বেগের কারণে বাংলাদেশ দলের টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ না করার সিদ্ধান্ত নিয়ে এখনও ক্রীড়াঙ্গনে আলোচনা চলছে। সে সময় বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) সভাপতি ছিলেন সাবেক জাতীয় দলের অধিনায়ক আমিনুল ইসলাম। তবে এই সিদ্ধান্তের সম্পূর্ণ দায় নিজের ওপর নিতে নারাজ তিনি।
এক সাক্ষাৎকারে আমিনুল ইসলাম জানান, বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে তিনি সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিলেন। তাঁর ভাষায়, বিষয়টি ছিল সরকারের সিদ্ধান্ত, যা নেওয়া হয়েছিল নিরাপত্তা পরিস্থিতি বিবেচনায়। তিনি বলেন, খেলোয়াড়, সমর্থক ও সাংবাদিকদের সুরক্ষা নিশ্চিত করাই ছিল প্রধান অগ্রাধিকার।
বাংলাদেশের হয়ে দীর্ঘদিন খেলা এই সাবেক অধিনায়ক মনে করেন, বিশ্বকাপে অংশ নিতে না পারা তাঁর জন্য ব্যক্তিগতভাবেও বেদনাদায়ক ছিল। তিনি দাবি করেন, কেবল আলোচনা নয়, বরং নানা পর্যায়ে জোরালো প্রচেষ্টা চালানো হয়েছিল। নিরাপত্তা নিশ্চিত না হওয়ায় শেষ পর্যন্ত দলকে সরিয়ে রাখার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
আমিনুল আরও জানান, সংশ্লিষ্ট মহলের সঙ্গে বৈঠকে বিসিবির পরিচালকদের একটি বড় অংশ নিরাপত্তা উদ্বেগের বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন। বিশেষ করে খেলোয়াড়দের অংশগ্রহণ, সমর্থকদের চলাচল এবং আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টে নিরাপত্তা ব্যবস্থার বিষয়গুলো আলোচনায় গুরুত্ব পায়। তিনি বলেন, এসব বিষয়ে আশ্বস্ত করা না গেলে ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব ছিল না।

তিনি উল্লেখ করেন, বিকল্প ভেন্যু হিসেবে শ্রীলঙ্কায় ম্যাচ আয়োজনের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। এই লক্ষ্যে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) কাছে আনুষ্ঠানিক আবেদনও করা হয়। এমনকি গ্রুপ বিন্যাসে পরিবর্তনের প্রস্তাবও উত্থাপন করা হয়েছিল, যাতে বাংলাদেশের ম্যাচগুলো নিরাপদ স্থানে আয়োজন করা সম্ভব হয়।
আমিনুলের দাবি, প্রস্তাবটি ইতিবাচক সাড়া পেয়েছিল এবং সংশ্লিষ্ট একটি বোর্ডও এতে সমর্থন জানিয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন সম্ভব হয়নি। তাঁর মতে, পরিস্থিতি অনুকূলে না থাকায় দলকে বিশ্বকাপ থেকে বিরত রাখা ছাড়া আর কোনো পথ খোলা ছিল না।
এদিকে কিছু ক্রিকেটারের অভিযোগ ছিল যে পুরো প্রক্রিয়া সম্পর্কে তাঁদের যথাযথভাবে অবহিত করা হয়নি। এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আমিনুল বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্টদের জানানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, সংশ্লিষ্ট বিভাগের মাধ্যমে খেলোয়াড়দের অবহিত করা হয় এবং আলোচনায় কেউ অংশগ্রহণের বিষয়ে জোরালো দাবি তোলেননি।
তিনি আরও বলেন, বোর্ড সবসময় স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়ার চেষ্টা করেছে এবং ক্রিকেট অপারেশনস বিভাগ খেলোয়াড়দের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রেখেছে। নিরাপত্তা ও সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া সিদ্ধান্তটি ছিল দেশের স্বার্থে এবং তা কোনোভাবেই ক্রিকেটবিরোধী ছিল না।
সবশেষে আমিনুল ইসলাম জানান, বিসিবি কখনো বিশ্বকাপে অংশ নিতে অস্বীকৃতি জানায়নি। বরং তারা নিরাপদ পরিবেশে ম্যাচ আয়োজনের পক্ষে ছিল। তাঁর মতে, ক্রিকেটার, সমর্থক ও সংশ্লিষ্ট সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই ছিল সেই সময়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।




























