চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন ২০২৬-এর বহুল প্রতীক্ষিত ফলাফল অবশেষে প্রকাশিত হয়েছে। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র অঙ্গনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নির্বাচনে সভাপতি পদে বিজয়ী হয়েছেন অভিনেতা শিবা শানু এবং সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন অভিনেতা জয় চৌধুরী। ফল ঘোষণার পর চলচ্চিত্রাঙ্গনে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে শুরু হয়েছে ব্যাপক আলোচনা।
শুক্রবার বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশন (বিএফডিসি) প্রাঙ্গণে সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, মোট ৫৭৩ জন ভোটারের মধ্যে ৪৮০ জন তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করেন। ভোটগ্রহণ শেষে ব্যালট বাক্স সিলগালা করে গণনা শুরু হয় এবং শনিবার ভোরে আনুষ্ঠানিক ফলাফল প্রকাশ করা হয়।
ঘোষিত ফলাফলে সভাপতি পদে শিবা শানু ২৪৩ ভোট পেয়ে জয় লাভ করেন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী অভিনেতা ও ফাইট ডিরেক্টর আরমান পান ১৭৩ ভোট। অন্যদিকে সাধারণ সম্পাদক পদে জয় চৌধুরী ২৩৭ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী রুমানা ইসলাম মুক্তি পান ১৭৯ ভোট।
নির্বাচনে ভোট গণনার সময় ১৭টি ব্যালট বাতিল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, পুরো নির্বাচন প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশে সম্পন্ন হয়েছে। শিল্পীদের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে এবারের নির্বাচন আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
ফলাফল ঘোষণার পর নবনির্বাচিত সভাপতি শিবা শানু এবং সাধারণ সম্পাদক জয় চৌধুরী চলচ্চিত্র শিল্পীদের কল্যাণে কাজ করার প্রতিশ্রুতি দেন। তাঁরা বলেন, শিল্পীদের অধিকার রক্ষা, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়নে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে কাজ করবেন। নতুন কমিটির কাছে শিল্পীদের প্রত্যাশাও অনেক বেশি।
চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির নির্বাচন ২০২৬ শুধু নতুন নেতৃত্বই উপহার দেয়নি, বরং চলচ্চিত্র পরিবারের ঐক্য ও গণতান্ত্রিক চর্চারও একটি ইতিবাচক উদাহরণ হয়ে উঠেছে। আগামী দুই বছরে নতুন কমিটির কার্যক্রম চলচ্চিত্র অঙ্গনে কতটা ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে, এখন সেদিকেই নজর থাকবে সংশ্লিষ্টদের। শিল্পী ও দর্শক—উভয়েই আশা করছেন, নতুন নেতৃত্ব চলচ্চিত্র শিল্পের উন্নয়ন, শিল্পীদের কল্যাণ এবং সংগঠনের কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করে তুলবে।



























