অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক বহাল রেখে ভারতের ডিরেক্টরেট জেনারেল অব ট্রেড রেমেডিজ (ডিজিটিআর) কর্তৃক নতুন করে ৯৮ পৃষ্ঠার এক চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর প্রতিবেশী দেশটিতে বাংলাদেশের সোনালী আঁশ তথা পাট ও পাটজাত পণ্যের বিলিয়ন ডলারের রপ্তানি বাজার আবারও এক দীর্ঘমেয়াদি ও চরম অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ভারতের বাণিজ্য ও শিল্প মন্ত্রণালয়ের অধীন এই সংস্থাটি নেপাল ও বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী পাট সুতা, হেসিয়ান কাপড় এবং পাটের বস্তার ওপর ২০১৭ সালে আরোপিত ট্যাক্সের মধ্যবর্তী পর্যালোচনা শেষে নতুন করে প্রতিষ্ঠানভেদে বৈষম্যমূলক কর কাঠামো নির্ধারণের সুপারিশ করায় ইতিমধ্যে তালিকায় থাকা ৫৫টি বড় প্রতিষ্ঠানের বাইরে থাকা অসংখ্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি দেশীয় রপ্তানিকারকদের ওপর অস্বাভাবিক আর্থিক চাপ তৈরি হতে যাচ্ছে।
নতুন এই নীতিমালায় জনতা জুট মিলস সহ মাত্র ৪টি বড় কারখানার ক্ষেত্রে করের হার সম্পূর্ণ শূন্য করার নজিরবিহীন সুপারিশ করা হলেও তালিকার বাইরে থাকা অন্য যেকোনো সাধারণ স্পিনিং মিলের জন্য প্রতি টনে সর্বোচ্চ ৪৪৫ মার্কিন ডলার পর্যন্ত অতিরিক্ত অ্যান্টিডাম্পিং শুল্ক ধার্য করার কথা বলা হয়েছে যা প্রকারান্তরে ছোট উদ্যোক্তাদের জন্য ভারতীয় বাজারে প্রতিযোগিতা করার সক্ষমতাকে একদম ধ্বংস করে দেবে।
বাংলাদেশের বর্তমান বিদ্যুৎ ও গ্যাসের তীব্র সংকটের বাস্তবতায় কোনো উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান উৎপাদন খরচের চেয়ে কম মূল্যে আন্তর্জাতিক বাজারে মালামাল ডাম্পিং বা বিক্রি করছে—এমন ভারতীয় দাবিকে সম্পূর্ণ অবাস্তব ও ভিত্তিহীন আখ্যা দিয়ে দেশের বাণিজ্য ও বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির জানিয়েছেন যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে এমন যেকোনো একতরফা আইনি পদক্ষেপ প্রত্যাহার করতে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকারের সাথে অতি দ্রুত কূটনৈতিক স্তরে জরুরি দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করবে বাংলাদেশ।
জুট স্পিনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ও দেশের শীর্ষ অর্থনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে ভারতের এই সুকৌশলী নীতি মূলত বাংলাদেশী পাট চাষী, কলকারখানার কর্মসংস্থান এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের ওপর বড় আঘাত, যা থেকে মুক্তি পেতে অতীতে রহিমআফরোজের ব্যাটারি খাতের মতো এবারও জরুরি ভিত্তিতে বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার (ডব্লিউটিও) আন্তর্জাতিক আইনি ট্রাইব্যুনাল বা প্যানেলের দ্বারস্থ হওয়া বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত কার্যকর বিকল্প কৌশল হতে পারে।





























