ঢাকা ১২:২৮ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২২ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বজ্রপাতে তিন জেলায় শিক্ষার্থী, কৃষক ও শ্রমিকসহ ৮ জনের মৃত্যু

বজ্রপাত।ছবি: সংগৃহীত

বজ্রপাতে ৮ জনের মৃত্যু এর মতো একটি অত্যন্ত লোমহর্ষক, হৃদয়বিদারক এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটেছে দেশের পৃথক তিনটি জেলায়, যেখানে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে তিন মাদ্রাসা ছাত্র, ঢাকার সাভারে ৩ জন এবং মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে ২ জন খেটে খাওয়া কৃষক আকস্মিক এই বজ্রপাতের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রথম মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার চরপাড়া গ্রামে, যেখানে মাগরিবের নামাজের জন্য বৃষ্টির মধ্যে অজু করতে গিয়ে বজ্রপাতের কবলে পড়ে তিন মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থী জহিরুল হক, আবু রায়হান ও আবু জাফর গুরুতর আহত হয় এবং পরে পার্শ্ববর্তী শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার সাভার উপজেলার কোন্ডা এলাকার একটি ফসলি জমিতে, যেখানে বিকেলে কৃষিকাজ করার সময় হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান দুলাল ও হক আলী প্রামাণিক নামের দুই শ্রমিক এবং গুরুতর আহত জমির মালিক দ্বীন ইসলামকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই তাঁর মৃত্যু ঘটে বলে সাভার মডেল থানা-পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

তৃতীয় ঘটনাটি ঘটেছে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের কাঞ্চননগর গ্রামে, যেখানে রোববার বিকেলে বাড়ির পাশের খোলা মাঠে কবির হোসেন ও শহিদুল ইসলাম নামের দুই তরুণ কৃষক চাষাবাদ করার সময় হঠাৎ আকস্মিক বজ্রপাতে গুরুতর পুড়ে যান এবং পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের সাভারের হেমায়েতপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

সারাদেশে ঘটে যাওয়া এই ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর সাভার মডেল থানার ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক মো. ইমরান হোসেন এবং সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় খোলা মাঠে কাজ করার সময় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

প্রকৃতির এমন তাণ্ডবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের সাধারণ মানুষদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রদত্ত বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনাবলী মেনে চলার পাশাপাশি এই তীব্র ঝড়-বৃষ্টি ও মেঘের গর্জনের সময় খোলা মাঠ কিংবা গাছের নিচে অবস্থান না করে দ্রুত নিরাপদ পাকা ভবনের আশ্রয় নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বজ্রপাতে তিন জেলায় শিক্ষার্থী, কৃষক ও শ্রমিকসহ ৮ জনের মৃত্যু

Update Time : ১১:৪৪:৪৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

বজ্রপাতে ৮ জনের মৃত্যু এর মতো একটি অত্যন্ত লোমহর্ষক, হৃদয়বিদারক এবং বড় ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগের ঘটনা ঘটেছে দেশের পৃথক তিনটি জেলায়, যেখানে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে তিন মাদ্রাসা ছাত্র, ঢাকার সাভারে ৩ জন এবং মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইরে ২ জন খেটে খাওয়া কৃষক আকস্মিক এই বজ্রপাতের শিকার হয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।

প্রথম মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে কিশোরগঞ্জের হোসেনপুর উপজেলার চরপাড়া গ্রামে, যেখানে মাগরিবের নামাজের জন্য বৃষ্টির মধ্যে অজু করতে গিয়ে বজ্রপাতের কবলে পড়ে তিন মাদ্রাসা ও এতিমখানার শিক্ষার্থী জহিরুল হক, আবু রায়হান ও আবু জাফর গুরুতর আহত হয় এবং পরে পার্শ্ববর্তী শিবপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যাওয়া হলে জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন  সব দল বলতে কি আওয়ামী লীগকেও বোঝানো হয়েছে? প্রশ্ন সারজিসের

দ্বিতীয় ঘটনাটি ঘটেছে ঢাকার সাভার উপজেলার কোন্ডা এলাকার একটি ফসলি জমিতে, যেখানে বিকেলে কৃষিকাজ করার সময় হঠাৎ প্রচণ্ড শব্দে বজ্রপাতে ঘটনাস্থলেই মারা যান দুলাল ও হক আলী প্রামাণিক নামের দুই শ্রমিক এবং গুরুতর আহত জমির মালিক দ্বীন ইসলামকে স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়ার চেষ্টা করলেও পথেই তাঁর মৃত্যু ঘটে বলে সাভার মডেল থানা-পুলিশ নিশ্চিত করেছে।

তৃতীয় ঘটনাটি ঘটেছে মানিকগঞ্জের সিঙ্গাইর উপজেলার জামির্ত্তা ইউনিয়নের কাঞ্চননগর গ্রামে, যেখানে রোববার বিকেলে বাড়ির পাশের খোলা মাঠে কবির হোসেন ও শহিদুল ইসলাম নামের দুই তরুণ কৃষক চাষাবাদ করার সময় হঠাৎ আকস্মিক বজ্রপাতে গুরুতর পুড়ে যান এবং পরবর্তীতে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁদের সাভারের হেমায়েতপুরের একটি বেসরকারি ক্লিনিকে নেওয়া হলে ডাক্তার মৃত ঘোষণা করেন।

আরও পড়ুন  গ্রীষ্মে ফল খাওয়ার ক্ষেত্রে প্রয়োজন সচেতনতা, কোন শারীরিক সমস্যায় কোন ফল এড়িয়ে চলবেন

সারাদেশে ঘটে যাওয়া এই ভয়ঙ্কর প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের পর সাভার মডেল থানার ভবানীপুর পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ উপপরিদর্শক মো. ইমরান হোসেন এবং সিঙ্গাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাজহারুল ইসলাম সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন যে, নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে আইনি প্রক্রিয়া শেষে পরিবারের নিকট হস্তান্তর করা হবে এবং দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ায় খোলা মাঠে কাজ করার সময় সবাইকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকতে হবে।

আরও পড়ুন  ১.৫ টন এসি বিদ্যুৎ বিল কত আসে: মাসিক খরচ বিশ্লেষণ ও গাইড

প্রকৃতির এমন তাণ্ডবে দেশের বিভিন্ন এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে এবং আবহাওয়া অধিদপ্তর দেশের সাধারণ মানুষদের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় প্রদত্ত বিশেষ নিরাপত্তা নির্দেশনাবলী মেনে চলার পাশাপাশি এই তীব্র ঝড়-বৃষ্টি ও মেঘের গর্জনের সময় খোলা মাঠ কিংবা গাছের নিচে অবস্থান না করে দ্রুত নিরাপদ পাকা ভবনের আশ্রয় নেওয়ার জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ জানিয়েছে।