ঢাকা ০৭:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬, ৭ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo পেলে-মেসি সহ বিশ্বকাপের সেরা ১০ কিংবদন্তি র‍্যাঙ্কিং Logo শিশুর জ্বর: প্যারাসিটামল কখন ও কীভাবে দেবেন? Logo ডেঙ্গুতে আরও দুজনের মৃত্যু, হাসপাতালে নতুন ভর্তি ২২০ জন Logo ঢাকায় আবার বৃষ্টির সম্ভাবনা, গরম থেকে মিলবে স্বস্তি? Logo সিলেটের ডিসি সারওয়ার আলমকে হঠাৎ প্রত্যাহার Logo তারেক রহমানের মালয়েশিয়া সফর: প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম রাষ্ট্রীয় সফরে কুয়ালালামপুর যাত্রা Logo ছাদবাগানে সবজি চাষ: কোন মাসে কী লাগাবেন? Logo মামুনুল হককে নিয়ে মন্তব্য এক্সপাঞ্জ: সংসদে স্পিকারের অভাবনীয় সিদ্ধান্ত Logo কাতারে সড়ক দুর্ঘটনায় ৫ বাংলাদেশির মৃত্যু: কানাইঘাটে শোকের ছায়া Logo সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢল, বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ; বাড়ছে বন্যার শঙ্কা

সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢল, বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ; বাড়ছে বন্যার শঙ্কা

সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের প্লাবিত অংশ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে পাহাড়ি ঢলের পানি, ব্যাহত হয়েছে যান চলাচল। ছবি: সংগৃহীত

উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মৌসিনরামে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢল নেমেছে। ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জ সদর ও তাহিরপুর উপজেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রোববার সকালে সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান পানিতে তলিয়ে যায়। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দুর্গাপুর, শক্তিয়ারখলা এবং তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে ঢলের পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, সুনামগঞ্জ ও উজান—দুই এলাকাতেই ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে জেলার প্রধান নদী সুরমাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ৩২০ মিলিমিটার এবং মৌসিনরামে ৫২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উজানের এসব এলাকায় অতিবৃষ্টি হলেই সাধারণত সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢল নেমে আসে।

রোববার সকাল ৯টায় শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ছিল ৭ দশমিক ২০ মিটার। বিকেল ৩টায় তা বেড়ে ৭ দশমিক ৪০ মিটারে পৌঁছায়। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৭ দশমিক ৮০ মিটার হওয়ায় পানি আরও বাড়লে তা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতভর বৃষ্টির কারণে ঢলের পানির চাপ বেড়েছে। শক্তিয়ারখলা, দুর্গাপুর ও আনোয়ারপুর এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। নদী ও খাল উপচে আশপাশের নিম্নাঞ্চলেও পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

সুরমা নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা বলছেন, মাত্র এক রাতের ব্যবধানে নদীর পানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এভাবে বৃষ্টি ও ঢল অব্যাহত থাকলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে আরও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এ অবস্থায় জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে পাউবো। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

পেলে-মেসি সহ বিশ্বকাপের সেরা ১০ কিংবদন্তি র‍্যাঙ্কিং

সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢল, বিচ্ছিন্ন সড়ক যোগাযোগ; বাড়ছে বন্যার শঙ্কা

Update Time : ০৫:৫৮:৪৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

উজানে ভারতের চেরাপুঞ্জি ও মৌসিনরামে টানা ভারী বৃষ্টির কারণে সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢল নেমেছে। ঢলের পানিতে সুনামগঞ্জ সদর ও তাহিরপুর উপজেলার মধ্যে সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে জেলার নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে থাকায় বন্যার শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

রোববার সকালে সুনামগঞ্জ-তাহিরপুর সড়কের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান পানিতে তলিয়ে যায়। বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার দুর্গাপুর, শক্তিয়ারখলা এবং তাহিরপুর উপজেলার আনোয়ারপুর এলাকায় সড়কের ওপর দিয়ে ঢলের পানি প্রবাহিত হওয়ায় যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ফলে সাধারণ মানুষকে চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

আরও পড়ুন  তৃতীয় টার্মিনাল চালুতে ধাপে ধাপে এগোচ্ছে পরিকল্পনা, জানাল বেবিচক

সুনামগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) জানিয়েছে, সুনামগঞ্জ ও উজান—দুই এলাকাতেই ভারী বৃষ্টিপাত হচ্ছে। এতে জেলার প্রধান নদী সুরমাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি ক্রমাগত বৃদ্ধি পাচ্ছে। কর্মকর্তাদের আশঙ্কা, আগামী কয়েক দিনে পরিস্থিতির আরও অবনতি হতে পারে।

পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে ২০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। একই সময়ে ভারতের চেরাপুঞ্জিতে ৩২০ মিলিমিটার এবং মৌসিনরামে ৫২৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উজানের এসব এলাকায় অতিবৃষ্টি হলেই সাধারণত সুনামগঞ্জে পাহাড়ি ঢল নেমে আসে।

আরও পড়ুন  মার্কিন প্রস্তাবে না তেহরানের, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা তুঙ্গে

রোববার সকাল ৯টায় শহরের ষোলঘর পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ছিল ৭ দশমিক ২০ মিটার। বিকেল ৩টায় তা বেড়ে ৭ দশমিক ৪০ মিটারে পৌঁছায়। এ পয়েন্টে বিপৎসীমা ৭ দশমিক ৮০ মিটার হওয়ায় পানি আরও বাড়লে তা অতিক্রম করার আশঙ্কা রয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা জানিয়েছেন, রাতভর বৃষ্টির কারণে ঢলের পানির চাপ বেড়েছে। শক্তিয়ারখলা, দুর্গাপুর ও আনোয়ারপুর এলাকায় সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। নদী ও খাল উপচে আশপাশের নিম্নাঞ্চলেও পানি প্রবেশ করতে শুরু করেছে।

আরও পড়ুন  তৃণমূলের খেলোয়াড়দের বিশ্বমঞ্চে তুলতে নতুন পরিকল্পনায় সরকার

সুরমা নদীর তীরবর্তী বাসিন্দারা বলছেন, মাত্র এক রাতের ব্যবধানে নদীর পানি উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। এভাবে বৃষ্টি ও ঢল অব্যাহত থাকলে জেলার বিভিন্ন এলাকায় বন্যা পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে বলে তারা আশঙ্কা করছেন।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ৪৮ ঘণ্টায় সুনামগঞ্জে আরও ভারী বৃষ্টি হতে পারে। এ অবস্থায় জেলার নদ-নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করার সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানিয়েছে পাউবো। পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।