ঢাকা ১২:৫২ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০৫ জুলাই ২০২৬, ২০ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চীনের জুন: যখন দেশজুড়ে শুরু হয় গ্র্যাজুয়েশন উৎসব Logo বিচারকের দায়িত্বটা ততটা সহজ নয়: মোশাররফ করিম Logo ফোন নিরাপত্তা টিপস: কার্যকর উপায়ে হ্যাকারদের এড়িয়ে চলুন Logo জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে ডা. শফিকুর রহমানের বিশেষ কূটনৈতিক ঘোষণা Logo নেইমারের ফিটনেস আপডেট নিয়ে আনচেলত্তির অবিশ্বাস্য ও বিস্ফোরক ঘোষণা Logo ৫২ হাজার কোটি রুপির অত্যাধুনিক সমরাস্ত্র কিনছে ভারত Logo মমতার হুঙ্কার: আমাকে থামাতে হলে খুন করতে হবে, বিদ্রোহীদের কড়া বার্তা Logo জ্ঞানচর্চার নতুন প্ল্যাটফর্ম আল-উম্মাহ জার্নাল ও ওয়েবসাইট Logo ‘জন নায়াগন’ সেন্সর আপডেট: চাঞ্চল্যকর ভুয়া সার্টিফিকেটের সত্য জানুন Logo খেলাধুলা তরুণ-কিশোরদের মাদক থেকে দূরে রাখে : মীর হেলাল

কানাডার প্রতিশোধ নাকি মরক্কোর আধিপত্য? শেষ ষোলোতে লড়াই

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোতে মুখোমুখি মরক্কো ও কানাডা

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হচ্ছে মরক্কো ও কানাডা। বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ১১টায় হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই লড়াই। চার বছর আগের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে মাঠে নামবে কানাডা, আর মরক্কোর লক্ষ্য হবে নিজেদের দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা।

দুই দলই শেষ ৩২-এর ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে। কানাডা শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে নকআউট নিশ্চিত করে। অন্যদিকে মরক্কো আরও বড় চমক দেখিয়ে টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করে বিশ্বকাপে নিজেদের শক্ত অবস্থানের প্রমাণ দিয়েছে।

এই ম্যাচটি কানাডার জন্য শুধুই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়। এটি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মরক্কোর কাছে ২-১ গোলের হারের প্রতিশোধ নেওয়ারও সুযোগ। তবে অতীতের পরিসংখ্যান তাদের পক্ষে নয়, কারণ মরক্কোর বিপক্ষে আগের চার দেখার একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি উত্তর আমেরিকার দলটি।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কানাডার ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক ছিলেন মিডফিল্ডার স্টিফেন ইউস্তাকিও। লস অ্যাঞ্জেলেসে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তাঁর করা দুর্দান্ত গোলই কানাডাকে শেষ ষোলোতে তুলে আনে। পুরো ম্যাচজুড়েই তিনি ছিলেন দলের সবচেয়ে প্রভাবশালী খেলোয়াড় এবং কঠিন মুহূর্তে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে দলকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দেন।

অন্যদিকে মরক্কো আবারও প্রমাণ করেছে যে ২০২২ সালের সেমিফাইনাল অভিযান কোনো কাকতালীয় ঘটনা ছিল না। নতুন কোচ মোহামেদ ওয়াহবির অধীনে দলটি আরও পরিণত ফুটবল খেলছে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে টাইব্রেকারে স্নায়ুচাপ সামলে জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসের মাত্রাও বাড়িয়ে নিয়েছে অ্যাটলাস লায়নরা।

ওয়াহবির অধীনে মরক্কোর কৌশলেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ২০২২ সালের কাউন্টার অ্যাটাকনির্ভর ফুটবল থেকে সরে এসে এখন তারা বল দখলে রেখে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে খেলছে। এই পরিবর্তনের সুফলও মিলেছে দ্রুত। টানা নয় ম্যাচ অপরাজিত থাকা মরক্কো এখন নিজেদের অন্যতম সেরা ছন্দে রয়েছে।

এই ম্যাচের বিজয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে ফ্রান্স অথবা প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। সেই সম্ভাব্য লড়াইয়ের দিকেও নজর রয়েছে মরক্কোর। বিশেষ করে চার বছর আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে স্বপ্নভঙ্গের স্মৃতি এবার নতুন করে জেগে উঠেছে, যা দলটির জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে।

কানাডা শিবিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় আলফনসো ডেভিসের ফিটনেস। দীর্ঘ চোট কাটিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা। কোচ জেসি মার্শ তাঁকে শুরুর একাদশে রাখার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি, যদিও লেফট-ব্যাকে দারুণ খেলতে থাকা রিচি লারিয়ার জায়গা ধরে রাখার সম্ভাবনাই বেশি।

ইসমাইল কোনে ছাড়া কানাডার বাকি সব ফুটবলার ম্যাচের জন্য প্রস্তুত। তবে প্রথম একাদশ নির্বাচন নিয়ে মধুর সমস্যায় পড়েছেন কোচ মার্শ। বাঁ প্রান্তে জ্যাকব শ্যাফেলবার্গ ও লিয়াম মিলারের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়ার পাশাপাশি আক্রমণভাগে জোনাথন ডেভিডের সঙ্গী হিসেবে কাইল লারিন, তানি ওলুয়াসেয়ি কিংবা প্রমিজ ডেভিডের মধ্য থেকে একজনকে নির্বাচন করতে হবে তাঁকে।

মরক্কো শিবিরে অবশ্য স্বস্তির খবর বেশি। চোট কাটিয়ে আবার অনুশীলনে ফিরেছেন সেন্টার-ব্যাক শাদি রিয়াদ। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে আহত হয়ে মাঠ ছাড়লেও আজ শুরু থেকেই তাঁর খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি পুরোপুরি ফিট না থাকলে বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত থাকবেন রেদুয়ান হালহাল ও মারওয়ান সাদানি।

আক্রমণভাগে মরক্কোর বড় ভরসা ইসমায়েল সাইবারি। শেষ ৩২-এর ম্যাচের পরপরই বায়ার্ন মিউনিখে তাঁর যোগ দেওয়ার খবর নিশ্চিত হয়েছে। দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামতে যাওয়া এই আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডারের লক্ষ্য থাকবে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ানো এবং দলকে শেষ আটে পৌঁছে দেওয়া।

ম্যাচের আগে মরক্কো কোচ মোহামেদ ওয়াহবি নকআউট পর্বের গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে সামান্য ভুলও বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, সর্বোচ্চ মনোযোগ ও সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার বিকল্প নেই। সবকিছু বিবেচনায় শেষ ষোলোর উদ্বোধনী ম্যাচটি হতে যাচ্ছে দুই দলের জন্যই মর্যাদা, প্রতিশোধ এবং স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার এক মহারণ।

জনপ্রিয় সংবাদ

চীনের জুন: যখন দেশজুড়ে শুরু হয় গ্র্যাজুয়েশন উৎসব

কানাডার প্রতিশোধ নাকি মরক্কোর আধিপত্য? শেষ ষোলোতে লড়াই

Update Time : ০৯:৪৯:৫১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৪ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হচ্ছে মরক্কো ও কানাডা। বাংলাদেশ সময় শনিবার রাত ১১টায় হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত এই লড়াই। চার বছর আগের পরাজয়ের প্রতিশোধ নিতে মাঠে নামবে কানাডা, আর মরক্কোর লক্ষ্য হবে নিজেদের দুর্দান্ত ধারাবাহিকতা ধরে রেখে কোয়ার্টার ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করা।

দুই দলই শেষ ৩২-এর ম্যাচে অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়ে শেষ ষোলোতে জায়গা করে নিয়েছে। কানাডা শক্তিশালী দক্ষিণ আফ্রিকাকে ১-০ গোলে হারিয়ে ইতিহাস গড়ে নকআউট নিশ্চিত করে। অন্যদিকে মরক্কো আরও বড় চমক দেখিয়ে টাইব্রেকারে নেদারল্যান্ডসকে বিদায় করে বিশ্বকাপে নিজেদের শক্ত অবস্থানের প্রমাণ দিয়েছে।

এই ম্যাচটি কানাডার জন্য শুধুই কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার লড়াই নয়। এটি ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে মরক্কোর কাছে ২-১ গোলের হারের প্রতিশোধ নেওয়ারও সুযোগ। তবে অতীতের পরিসংখ্যান তাদের পক্ষে নয়, কারণ মরক্কোর বিপক্ষে আগের চার দেখার একটিতেও জয়ের মুখ দেখেনি উত্তর আমেরিকার দলটি।

দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে কানাডার ঐতিহাসিক জয়ের নায়ক ছিলেন মিডফিল্ডার স্টিফেন ইউস্তাকিও। লস অ্যাঞ্জেলেসে ম্যাচের শেষ মুহূর্তে তাঁর করা দুর্দান্ত গোলই কানাডাকে শেষ ষোলোতে তুলে আনে। পুরো ম্যাচজুড়েই তিনি ছিলেন দলের সবচেয়ে প্রভাবশালী খেলোয়াড় এবং কঠিন মুহূর্তে দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিয়ে দলকে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য এনে দেন।

আরও পড়ুন  ৩৯ হাজার কিমি পাড়ি, ২২ টি ম্যাচ মাঠে দেখলেন ফিফা সভাপতি

অন্যদিকে মরক্কো আবারও প্রমাণ করেছে যে ২০২২ সালের সেমিফাইনাল অভিযান কোনো কাকতালীয় ঘটনা ছিল না। নতুন কোচ মোহামেদ ওয়াহবির অধীনে দলটি আরও পরিণত ফুটবল খেলছে। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ১২০ মিনিটের লড়াই শেষে টাইব্রেকারে স্নায়ুচাপ সামলে জয় তুলে নিয়ে আত্মবিশ্বাসের মাত্রাও বাড়িয়ে নিয়েছে অ্যাটলাস লায়নরা।

ওয়াহবির অধীনে মরক্কোর কৌশলেও এসেছে বড় পরিবর্তন। ২০২২ সালের কাউন্টার অ্যাটাকনির্ভর ফুটবল থেকে সরে এসে এখন তারা বল দখলে রেখে ৪-২-৩-১ ফরমেশনে খেলছে। এই পরিবর্তনের সুফলও মিলেছে দ্রুত। টানা নয় ম্যাচ অপরাজিত থাকা মরক্কো এখন নিজেদের অন্যতম সেরা ছন্দে রয়েছে।

এই ম্যাচের বিজয়ী দল কোয়ার্টার ফাইনালে খেলবে ফ্রান্স অথবা প্যারাগুয়ের বিপক্ষে। সেই সম্ভাব্য লড়াইয়ের দিকেও নজর রয়েছে মরক্কোর। বিশেষ করে চার বছর আগে সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে স্বপ্নভঙ্গের স্মৃতি এবার নতুন করে জেগে উঠেছে, যা দলটির জন্য বাড়তি অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করতে পারে।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপে শেষ ৩২ নিশ্চিত ১৯ দল, বিদায় ৮ দেশের

কানাডা শিবিরে সবচেয়ে বড় আলোচনার বিষয় আলফনসো ডেভিসের ফিটনেস। দীর্ঘ চোট কাটিয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে বদলি হিসেবে মাঠে নেমেছিলেন বায়ার্ন মিউনিখের এই তারকা। কোচ জেসি মার্শ তাঁকে শুরুর একাদশে রাখার সম্ভাবনা পুরোপুরি উড়িয়ে দেননি, যদিও লেফট-ব্যাকে দারুণ খেলতে থাকা রিচি লারিয়ার জায়গা ধরে রাখার সম্ভাবনাই বেশি।

ইসমাইল কোনে ছাড়া কানাডার বাকি সব ফুটবলার ম্যাচের জন্য প্রস্তুত। তবে প্রথম একাদশ নির্বাচন নিয়ে মধুর সমস্যায় পড়েছেন কোচ মার্শ। বাঁ প্রান্তে জ্যাকব শ্যাফেলবার্গ ও লিয়াম মিলারের মধ্যে একজনকে বেছে নেওয়ার পাশাপাশি আক্রমণভাগে জোনাথন ডেভিডের সঙ্গী হিসেবে কাইল লারিন, তানি ওলুয়াসেয়ি কিংবা প্রমিজ ডেভিডের মধ্য থেকে একজনকে নির্বাচন করতে হবে তাঁকে।

মরক্কো শিবিরে অবশ্য স্বস্তির খবর বেশি। চোট কাটিয়ে আবার অনুশীলনে ফিরেছেন সেন্টার-ব্যাক শাদি রিয়াদ। নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে ম্যাচে আহত হয়ে মাঠ ছাড়লেও আজ শুরু থেকেই তাঁর খেলার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি পুরোপুরি ফিট না থাকলে বিকল্প হিসেবে প্রস্তুত থাকবেন রেদুয়ান হালহাল ও মারওয়ান সাদানি।

আরও পড়ুন  বিশ্বকাপের নকআউটে উঠেছে যে ২৮ টি দল

আক্রমণভাগে মরক্কোর বড় ভরসা ইসমায়েল সাইবারি। শেষ ৩২-এর ম্যাচের পরপরই বায়ার্ন মিউনিখে তাঁর যোগ দেওয়ার খবর নিশ্চিত হয়েছে। দারুণ আত্মবিশ্বাস নিয়ে মাঠে নামতে যাওয়া এই আক্রমণাত্মক মিডফিল্ডারের লক্ষ্য থাকবে বিশ্বকাপে নিজের গোলসংখ্যা আরও বাড়ানো এবং দলকে শেষ আটে পৌঁছে দেওয়া।

ম্যাচের আগে মরক্কো কোচ মোহামেদ ওয়াহবি নকআউট পর্বের গুরুত্বের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন। তাঁর ভাষায়, বিশ্বকাপের এই পর্যায়ে সামান্য ভুলও বিদায়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। তাই প্রতিপক্ষ যেই হোক না কেন, সর্বোচ্চ মনোযোগ ও সেরাটা উজাড় করে দেওয়ার বিকল্প নেই। সবকিছু বিবেচনায় শেষ ষোলোর উদ্বোধনী ম্যাচটি হতে যাচ্ছে দুই দলের জন্যই মর্যাদা, প্রতিশোধ এবং স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখার এক মহারণ।