২০২৭ ওয়ানডে বিশ্বকাপে বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা ও শ্রীলঙ্কা। গ্রুপ বি-তে থাকা বাংলাদেশ প্রথম ম্যাচেই মুখোমুখি হবে ইংল্যান্ডের। দক্ষিণ আফ্রিকা, নামিবিয়া ও জিম্বাবুয়েতে হতে যাওয়া এবারের বিশ্বকাপের সূচি প্রকাশের পরই বাংলাদেশের ম্যাচগুলোর প্রতিপক্ষ ও সময়সূচি স্পষ্ট হয়েছে।
বাংলাদেশের বিশ্বকাপ অভিযান শুরু হবে ৮ অক্টোবর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। এরপর ১২ অক্টোবর নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ১৬ অক্টোবর শ্রীলঙ্কার মুখোমুখি হবে দলটি। গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের চতুর্থ ম্যাচ ১৯ অক্টোবর, প্রতিপক্ষ স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকা। শেষ ম্যাচে ২৩ অক্টোবর বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা একটি দলের বিপক্ষে খেলবে বাংলাদেশ।
এবারের বিশ্বকাপে মোট ১৪টি দল অংশ নেবে। আয়োজক দক্ষিণ আফ্রিকা ও জিম্বাবুয়ে সরাসরি চূড়ান্ত পর্বে জায়গা পেয়েছে। এ ছাড়া ২০২৬ সালের ৩০ সেপ্টেম্বরের র্যাংকিংয়ের ভিত্তিতে আরও আটটি দল সরাসরি বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বে জায়গা নিশ্চিত করেছে। বাকি চারটি দল নির্ধারিত হবে বাছাইপর্বের মাধ্যমে।
গ্রুপ এ-তে রয়েছে ভারত, পাকিস্তান, অস্ট্রেলিয়া, আফগানিস্তান, জিম্বাবুয়ে এবং বাছাইপর্ব থেকে আসা একটি দল। অন্যদিকে গ্রুপ বি-তে বাংলাদেশের সঙ্গে রয়েছে ইংল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, শ্রীলঙ্কা এবং বাছাইপর্ব পেরিয়ে আসা আরেকটি দল।
বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্ব শুরু হবে ৭ অক্টোবর কেপটাউনে ভারত ও অস্ট্রেলিয়ার ম্যাচ দিয়ে। গত বিশ্বকাপের ফাইনালে মুখোমুখি হওয়া এই দুই দল দিয়েই শুরু হবে এবারের গ্রুপ পর্ব। এর আগে ২ অক্টোবর থেকে শুরু হবে সুপার সিরিজ। বাছাইপর্ব থেকে আসা দলগুলোর চূড়ান্ত অবস্থান নির্ধারণে এই পর্ব গুরুত্বপূর্ণ হবে।
গ্রুপ পর্ব শেষে দুই গ্রুপের পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ তিন দল সরাসরি সুপার সেভেন পর্বে জায়গা পাবে। এর সঙ্গে চতুর্থ স্থানে থাকা দুই দলের মধ্যে বেশি পয়েন্ট পাওয়া দলও পরের পর্বে উঠবে। ফলে মোট সাতটি দল নিয়ে হবে সুপার সেভেন পর্ব।
সুপার সেভেন পর্বে গ্রুপ পর্বের কোনো পয়েন্ট বহন করা হবে না। ২৫ অক্টোবর থেকে ১৪ নভেম্বর পর্যন্ত প্রতিটি দল ছয়টি করে ম্যাচ খেলবে। এই পর্বের কিছু অবস্থান আগেই নির্ধারণ করে রাখা হয়েছে, যাতে দলগুলোর সম্ভাব্য ম্যাচ ও ভেন্যু সম্পর্কে সমর্থকেরা আগেই ধারণা পান।
আগে থেকে নির্ধারিত অবস্থানগুলোর মধ্যে ভারতকে এ১, অস্ট্রেলিয়াকে এ২, পাকিস্তানকে এ৩ এবং ইংল্যান্ডকে এবি৪ অবস্থানে রাখা হয়েছে। অন্যদিকে নিউজিল্যান্ড বি১, দক্ষিণ আফ্রিকা বি২ এবং শ্রীলঙ্কা বি৩ অবস্থানে থাকবে।
এই ব্যবস্থায় কোনো নতুন দল সুপার সেভেনে উঠে এলে এবং আগে থেকে নির্ধারিত কোনো দল বাদ পড়লে, নতুন দলটি বাদ পড়া দলের জন্য নির্ধারিত অবস্থান পাবে। যেমন, বাংলাদেশ যদি সুপার সেভেনে জায়গা করে নেয় এবং শ্রীলঙ্কা পরের পর্বে উঠতে না পারে, তাহলে বাংলাদেশ বি৩ অবস্থান পাবে। সে ক্ষেত্রে ২৫ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে বাংলাদেশের ম্যাচ হওয়ার পথ তৈরি হবে।
সুপার সেভেন পর্ব শেষে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ চার দল সেমিফাইনালে উঠবে। প্রথম সেমিফাইনালে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষ দল মুখোমুখি হবে চতুর্থ স্থানে থাকা দলের। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থানে থাকা দল খেলবে অন্য সেমিফাইনালে।
প্রথম সেমিফাইনাল ১৭ নভেম্বর কেপটাউনে এবং দ্বিতীয় সেমিফাইনাল ১৮ নভেম্বর তশোয়ানেতে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। দুই সেমিফাইনালের জন্যই রিজার্ভ ডে রাখা হয়েছে।
বিশ্বকাপের ফাইনাল হবে ২১ নভেম্বর জোহানেসবার্গে। ফাইনালের জন্যও একটি রিজার্ভ ডে থাকবে। এবারের পুরো টুর্নামেন্টে মোট ১২টি ভেন্যু ব্যবহার করা হবে। নামিবিয়া ক্রিকেট গ্রাউন্ডে সুপার সিরিজের তিনটি এবং গ্রুপ পর্বের তিনটি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। জিম্বাবুয়ের তিনটি এবং দক্ষিণ আফ্রিকার আটটি ভেন্যুতে হবে বাকি ম্যাচগুলো।
বাংলাদেশের জন্য তাই বিশ্বকাপের শুরুতেই কঠিন প্রতিপক্ষ ইংল্যান্ড। এরপর নিউজিল্যান্ড, শ্রীলঙ্কা ও স্বাগতিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টানা গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ খেলতে হবে। গ্রুপ পর্বের প্রতিটি ম্যাচই পরের ধাপে ওঠার দৌড়ে বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন