শর্করা কমে গেলে ডায়াবেটিস রোগীর শরীরে হঠাৎ নানা ধরনের পরিবর্তন দেখা দিতে পারে। রক্তে গ্লুকোজ সাধারণত ৭০ mg/dL-এর নিচে নেমে গেলে তাকে হাইপোগ্লাইসেমিয়া বলা হয়। এই অবস্থায় দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ, কারণ মাত্রা আরও কমে গেলে বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা অচেতন হওয়ার মতো গুরুতর সমস্যা দেখা দিতে পারে।

হাইপোগ্লাইসেমিয়ার লক্ষণ অনেক সময় দ্রুত শুরু হয়। হাত-পা কাঁপা, ঠান্ডা ঘাম, অতিরিক্ত ক্ষুধা, মাথা ঘোরা, দুর্বল লাগা, মাথাব্যথা, অস্থিরতা বা হৃদস্পন্দন বেড়ে যাওয়ার মতো লক্ষণ দেখা দিতে পারে। শর্করা আরও কমে গেলে কথা বলা বা দেখায় সমস্যা, বিভ্রান্তি, খিঁচুনি কিংবা অচেতন হওয়ার ঝুঁকি তৈরি হয়।

ডায়াবেটিসের ওষুধ বা ইনসুলিনের সঙ্গে খাবারের ভারসাম্য ঠিক না থাকলে এমন পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। খাবার বাদ দেওয়া বা দেরিতে খাওয়া, স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি ব্যায়াম, পর্যাপ্ত খাবার ছাড়া অ্যালকোহল গ্রহণ এবং অসুস্থতার সময় কম খাওয়াও শর্করা কমার কারণ হতে পারে। তাই খাবার, ওষুধ ও শারীরিক পরিশ্রমের সময়সূচির মধ্যে ভারসাম্য রাখা জরুরি।

রক্তে শর্করা কমে গেলে এবং রোগী সচেতন থাকলে ও নিরাপদে গিলতে পারলে ১৫-১৫ নিয়ম অনুসরণ করা যায়। প্রথমে প্রায় ১৫ গ্রাম দ্রুত কাজ করে এমন কার্বোহাইড্রেট নিতে হয়। ১৫ মিনিট পর আবার রক্তে গ্লুকোজ পরীক্ষা করতে হবে। মাত্রা ৭০ mg/dL-এর নিচে থাকলে একই প্রক্রিয়া আবার করা যায়। গ্লুকোজ ট্যাবলেট, অল্প ফলের জুস বা সাধারণ কোমল পানীয়ের নির্দিষ্ট পরিমাণ এ ক্ষেত্রে ব্যবহার করা যায়।

তবে রোগী অচেতন হলে, খিঁচুনি হলে বা নিরাপদে গিলতে না পারলে মুখে খাবার বা পানীয় দেওয়া উচিত নয়। গুরুতর হাইপোগ্লাইসেমিয়ায় গ্লুকাগন প্রয়োজন হতে পারে এবং এ অবস্থায় দ্রুত জরুরি চিকিৎসা সহায়তা নেওয়া জরুরি। পরিবারের সদস্যদেরও আগে থেকে জেনে রাখা ভালো—রোগীর এমন পরিস্থিতি হলে কীভাবে সহায়তা করতে হবে।

বারবার শর্করা কমে গেলে বিষয়টি অবহেলা করা উচিত নয়। খাবারের সময়সূচি, শারীরিক পরিশ্রম, ওষুধ বা ইনসুলিনের ধরন ও মাত্রার সঙ্গে এর সম্পর্ক আছে কি না, তা চিকিৎসকের সঙ্গে আলোচনা করা প্রয়োজন। নিজের ইচ্ছায় ওষুধের মাত্রা পরিবর্তন না করে নিয়মিত গ্লুকোজ পর্যবেক্ষণ এবং চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ডায়াবেটিস ব্যবস্থাপনা করাই নিরাপদ।