হুথি হামলা নিয়ে আবারও উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে সৌদি আরব ও ইয়েমেনের পরিস্থিতি। শনিবার (৩ অক্টোবর) সৌদি রাজধানী রিয়াদের দক্ষিণে রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনায় হামলার দাবি করেছে ইয়েমেনের হুথি বিদ্রোহীরা। একই সময়ে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি হামলা চালানোর অভিযোগও করেছে তারা। রিয়াদের কাছে আরামকোর একটি স্থাপনা থেকে আগুন ও ধোঁয়া দেখা যাওয়ার কথা জানিয়েছেন এএফপির সাংবাদিক।
হুথিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে রিয়াদের একটি তেল স্থাপনায় হামলা চালানো হয়েছে। তাঁদের দাবি, সৌদি বাহিনীর ইয়েমেনে হামলার জবাব হিসেবেই এই অভিযান চালানো হয়। তবে হামলার বিষয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষ বা আরামকো তাৎক্ষণিক কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেয়নি। ফলে স্থাপনাটিতে আগুন লাগার কারণ ও হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা যায়নি।
ঘটনাস্থলের কাছাকাছি থাকা এএফপির সাংবাদিক স্থাপনাটির ওপর আগুন ও ধোঁয়া দেখতে পান। সেখানে অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করতে দেখা যায়। পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের গাড়িও অবস্থান করছিল। এদিকে আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রিয়াদের দক্ষিণে আরামকোর স্থাপনায় আগুনের দৃশ্য দেখা গেলেও এর কারণ সম্পর্কে সৌদি কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে হুথি হামলা ও পাল্টা হামলার ধারাবাহিকতায় সানায় সৌদি বিমান হামলার অভিযোগ করেছে হুথি-নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টেলিভিশন। তাদের দাবি, শনিবার সানায় ২৬টি হামলা চালানো হয়েছে। তবে এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু বা সম্ভাব্য হতাহতের বিষয়ে তারা বিস্তারিত তথ্য দেয়নি। একই সময়ে ইয়েমেনের অন্যান্য এলাকাতেও সৌদি ও মিত্রবাহিনীর হামলা হয়েছে বলে হুথিরা অভিযোগ করেছে। এসব দাবির সবগুলো স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।
হুথিদের অভিযোগ অনুযায়ী, ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সা’দা প্রদেশেও টেলিযোগাযোগ অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। অন্যদিকে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় হুথি অবস্থান লক্ষ্য করে হামলার খবর পাওয়া যাচ্ছে। সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনি বাহিনীও হুথিদের অবস্থানে বিমান হামলা চালানোর কথা জানিয়েছে। ফলে ২০২২ সালের জাতিসংঘ-সমর্থিত যুদ্ধবিরতির পর তুলনামূলক স্থবির থাকা সংঘাত আবারও তীব্র আকার নিচ্ছে।
রিয়াদের তেল স্থাপনায় হামলার দাবি এবং সানায় পাল্টা হামলার অভিযোগ মধ্যপ্রাচ্যের নতুন করে বাড়তে থাকা উত্তেজনাকে সামনে এনেছে। বিশেষ করে সৌদি আরবের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলার দাবি আন্তর্জাতিকভাবে উদ্বেগ তৈরি করছে। একই সঙ্গে ইয়েমেনের বিভিন্ন এলাকায় পাল্টা হামলা অব্যাহত থাকায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও লোহিত সাগর-বাব আল-মানদেব অঞ্চলের পরিস্থিতি নিয়েও নতুন করে প্রশ্ন উঠছে। তবে হামলার ক্ষয়ক্ষতি ও দায়ের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর বক্তব্যের বাইরে নিশ্চিত তথ্য পেতে আরও তদন্তের প্রয়োজন রয়েছে।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন