ওসমান হাদি হত্যা মামলায় অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন আদালত। বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও সিআইডি প্রতিবেদন দিতে পারেনি। পরে আদালত নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এদিন ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলামের আদালতে মামলাটির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ছিল। তবে তদন্ত সংস্থা পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) প্রতিবেদন জমা না দেওয়ায় আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের জন্য নতুন দিন ধার্য করা হয়।
ঘটনার সূত্রপাত গত বছরের ১২ ডিসেম্বর। জুমার নামাজ শেষে ফেরার পথে দুপুর আনুমানিক ২টা ২০ মিনিটে রাজধানীর পল্টন থানার বক্স কালভার্ট রোডে শরিফ ওসমান হাদিকে গুলি করে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে চিকিৎসার জন্য নেওয়া হয়। পরে সিঙ্গাপুরের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১৮ ডিসেম্বর তিনি মারা যান।
এ ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর ইনকিলাব মঞ্চের সদস্য সচিব আব্দুল্লাহ আল জাবের বাদী হয়ে পল্টন থানায় মামলা করেন। ওসমান হাদির মৃত্যুর পর মামলায় হত্যার ধারা যুক্ত করার আবেদন করা হয়। পরে তদন্তকারী কর্মকর্তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট সিদ্দিক আজাদ মামলায় দণ্ডবিধির ৩০২ ধারা সংযোজনের আদেশ দেন।
এরপর গত ৬ জানুয়ারি মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ডিবির পরিদর্শক ফয়সাল আহমেদ ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১৭ জনকে অভিযুক্ত করে চার্জশিট দাখিল করেন। তবে ডিবির দেওয়া ওই চার্জশিটে সন্তুষ্ট হতে পারেননি মামলার বাদী।
চার্জশিটের বিরুদ্ধে গত ১৫ জানুয়ারি আদালতে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী। আদালত সেই আবেদন গ্রহণ করে মামলাটি অধিকতর তদন্তের জন্য সিআইডিকে দায়িত্ব দেন। এরপর থেকে ওসমান হাদি হত্যা মামলাটির বিভিন্ন দিক খতিয়ে দেখছে সিআইডি।
ডিবির চার্জশিটে মোট ১৭ জনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল। তাদের মধ্যে ১১ জন কারাগারে রয়েছেন। বাকি ছয়জনকে পলাতক দেখানো হয়েছে। অধিকতর তদন্তে সিআইডি মামলার আগের তদন্তের তথ্যসহ নতুন কোনো তথ্য পাওয়া যায় কি না, সেটিও খতিয়ে দেখছে।
মামলার পলাতক আসামিদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত শুটার ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদ, তার সহযোগী আলমগীর হোসেন, মিরপুরের সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর ও ঢাকা মহানগর উত্তর যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, ফিলিপ স্মাল পিলিপস, মুক্তি আক্তার এবং ফয়সালের বোন জেসমিন আক্তার।
কারাগারে থাকা আসামিদের মধ্যে রয়েছেন প্রধান অভিযুক্ত ফয়সাল করিম মাসুদের বাবা মো. হুমায়ুন কবির, মা মোসা. হাসি বেগম, স্ত্রী সাহেদা পারভীন সামিয়া, বান্ধবী মারিয়া আক্তার লিমা ও শ্যালক ওয়াহিদ আহমেদ সিপু।
এখন সবার নজর সিআইডির অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদনের দিকে। আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর আদালতে প্রতিবেদন দাখিল হলে মামলার তদন্তে নতুন কোনো তথ্য বা পরিবর্তন এসেছে কি না, তা স্পষ্ট হতে পারে। এরপর আদালত পরবর্তী আইনি কার্যক্রমের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবেন।


মন্তব্য
এখনও কোনো মন্তব্য নেই। প্রথম মন্তব্যটি আপনিই করুন।
একটি মন্তব্য লিখুন