ঢাকা ১০:০৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo নিজে গাড়ি চালিয়ে ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী Logo আর্জেন্টাইন গোলরক্ষককে দলে ভেড়াতে চাচ্ছে ম্যানসিটি Logo ভিন্নমতকে যখন হুমকি মনে করা হয় : পাকিস্তানের ইতিহাস দক্ষিণ এশিয়ার জন্য শিক্ষণীয় Logo নরসিংদীতে লটকনের বাম্পার ফলন, ১৪৬ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা Logo বগালেকে ২ পর্যটকের মৃত্যু, গাইডের নিষেধ অমান্য করে মর্মান্তিক দুর্ঘটনা Logo নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত ৩ শতাধিক পরিবারের পাশে এবিজি ফাউন্ডেশন Logo জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ২য় বার্ষিকী উপলক্ষ্যে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী চন্দনাইশ উপজেলা শাখা উদ্যোগে গণমিছিল Logo পাকিস্তান কয়লাখনি বিস্ফোরণ: ভয়াবহ দুর্ঘটনায় নিহত ৩৪ Logo হেপাটাইটিস: নীরব ভয়াবহ সংকটে বাংলাদেশ Logo গর্বের সাফল্য: বাংলাদেশি গবেষক দলের কোডিং ফেস্ট ২০২৬ চ্যাম্পিয়ন অর্জন

খাগড়াছড়িতে মাদকবিরোধী মেন্টর তৈরিতে কর্মশালা

মাদকবিরোধী মেন্টর। ছবি: সংগৃহীত

খাগড়াছড়িতে মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে একটি বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য হলো সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের মাদকবিরোধী মেন্টর হিসেবে গড়ে তোলা, যাতে তারা নিজ নিজ এলাকায় সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারেন এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে মাদকাসক্তির হার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই বাস্তবতায় খাগড়াছড়িতে আয়োজিত কর্মশালাটি স্থানীয় পর্যায়ে মাদক প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, কর্মশালার প্রধান উদ্দেশ্য হলো এমন কিছু দক্ষ ও সচেতন ব্যক্তি তৈরি করা, যারা নিজেদের এলাকায় মাদকবিরোধী প্রচারণা চালাতে পারবেন। এসব মেন্টর স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সামাজিক সংগঠন এবং বিভিন্ন কমিউনিটিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

তারা মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব, আইনি ঝুঁকি এবং সামাজিক পরিণতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করবেন। পাশাপাশি মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন এবং পরিবারকে সচেতন করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবেন।

কর্মশালায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, যুব সংগঠনের প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক এবং সামাজিক কর্মীরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা মাদক প্রতিরোধে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে পারেন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন।

অনেকেই মনে করেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এজন্য সামাজিক আন্দোলন এবং জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। কর্মশালাটি সেই সচেতনতা তৈরির একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।

কর্মশালায় বক্তারা মাদকের ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ এবং দেশের উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে।

বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরেন, মাদকাসক্তি থেকে অপরাধ, সহিংসতা, পারিবারিক অশান্তি, শিক্ষাজীবনের ক্ষতি এবং অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে। তাই তরুণদের মাদকের হাত থেকে রক্ষা করা জাতীয় দায়িত্ব।

বক্তারা আরও বলেন, মাদকবিরোধী লড়াইয়ে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের নজরদারি এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক মাদক প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

কর্মশালায় তরুণদের বিশেষভাবে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বড় অংশই তরুণ প্রজন্ম। তাদের সচেতন এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে মাদকমুক্ত সমাজ গঠন অনেক সহজ হবে।

বক্তারা তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক সেবা এবং সৃজনশীল কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। এতে তারা মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে থাকতে পারবেন।

কর্মশালায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেন্টরদের মাধ্যমে গ্রাম, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তারা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় সভা, সেমিনার, র‌্যালি এবং প্রচারণামূলক কর্মসূচির আয়োজন করবেন।

এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত আলোচনা সভা আয়োজনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে মাদক বিস্তার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকবিরোধী সংগ্রামকে কেবল প্রশাসনিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। এজন্য সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং যুবসমাজ একসঙ্গে কাজ করলে মাদক প্রতিরোধ আরও কার্যকর হবে। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদেরও এই বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

কর্মশালায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, মাদক নির্মূলে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে শুধু অভিযান নয়, সচেতনতা এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যেই মাদকবিরোধী মেন্টর তৈরির এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

খাগড়াছড়ির স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজভিত্তিক প্রচারণা চালানো গেলে মাদক বিস্তার রোধে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

অনেকে আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেন্টররা শুধু সচেতনতা নয়, বরং মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন ও সামাজিকভাবে পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই কর্মশালার মাধ্যমে তৈরি হওয়া মেন্টরদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও তদারকির আওতায় রাখা হবে। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এছাড়া জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

খাগড়াছড়িতে মাদকবিরোধী মেন্টর তৈরিতে আয়োজিত কর্মশালা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেন্টরদের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে।

জনপ্রিয় সংবাদ

নিজে গাড়ি চালিয়ে ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী

খাগড়াছড়িতে মাদকবিরোধী মেন্টর তৈরিতে কর্মশালা

Update Time : ০৬:৪৩:৪৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৬ জুন ২০২৬

খাগড়াছড়িতে মাদকবিরোধী কার্যক্রমকে আরও শক্তিশালী করতে এবং তরুণ সমাজকে মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে সচেতন করতে একটি বিশেষ কর্মশালার আয়োজন করা হয়েছে। এই কর্মশালার মূল লক্ষ্য হলো সমাজের বিভিন্ন স্তরের প্রতিনিধিদের মাদকবিরোধী মেন্টর হিসেবে গড়ে তোলা, যাতে তারা নিজ নিজ এলাকায় সচেতনতা ছড়িয়ে দিতে পারেন এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারেন।

সাম্প্রতিক সময়ে দেশে মাদকাসক্তির হার নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। বিশেষ করে তরুণদের মধ্যে মাদকের বিস্তার সামাজিক ও পারিবারিক জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। এই বাস্তবতায় খাগড়াছড়িতে আয়োজিত কর্মশালাটি স্থানীয় পর্যায়ে মাদক প্রতিরোধে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, কর্মশালার প্রধান উদ্দেশ্য হলো এমন কিছু দক্ষ ও সচেতন ব্যক্তি তৈরি করা, যারা নিজেদের এলাকায় মাদকবিরোধী প্রচারণা চালাতে পারবেন। এসব মেন্টর স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, সামাজিক সংগঠন এবং বিভিন্ন কমিউনিটিতে সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করবেন।

তারা মাদকের ক্ষতিকর প্রভাব, আইনি ঝুঁকি এবং সামাজিক পরিণতি সম্পর্কে সাধারণ মানুষকে অবহিত করবেন। পাশাপাশি মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন এবং পরিবারকে সচেতন করার ক্ষেত্রেও ভূমিকা রাখবেন।

কর্মশালায় বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, যুব সংগঠনের প্রতিনিধি, স্বেচ্ছাসেবক এবং সামাজিক কর্মীরা অংশ নেন। অংশগ্রহণকারীরা মাদক প্রতিরোধে নিজেদের দায়িত্ব সম্পর্কে জানতে পারেন এবং বাস্তব অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা গ্রহণ করেন।

আরও পড়ুন  ২৮ বিচারককে শোকজ, ব্যাখ্যা দিতে ৭ দিনের নির্দেশ

অনেকেই মনে করেন, শুধু আইন প্রয়োগ করে মাদক নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। এজন্য সামাজিক আন্দোলন এবং জনসচেতনতা অত্যন্ত জরুরি। কর্মশালাটি সেই সচেতনতা তৈরির একটি কার্যকর মাধ্যম হিসেবে কাজ করবে।

কর্মশালায় বক্তারা মাদকের ভয়াবহ প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন। তারা বলেন, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে ধ্বংস করে না, বরং একটি পরিবার, সমাজ এবং দেশের উন্নয়নকেও বাধাগ্রস্ত করে।

বিশেষজ্ঞরা তুলে ধরেন, মাদকাসক্তি থেকে অপরাধ, সহিংসতা, পারিবারিক অশান্তি, শিক্ষাজীবনের ক্ষতি এবং অর্থনৈতিক সংকট সৃষ্টি হতে পারে। তাই তরুণদের মাদকের হাত থেকে রক্ষা করা জাতীয় দায়িত্ব।

বক্তারা আরও বলেন, মাদকবিরোধী লড়াইয়ে পরিবারের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। সন্তানদের প্রতি অভিভাবকদের নজরদারি এবং বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক মাদক প্রতিরোধে কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

কর্মশালায় তরুণদের বিশেষভাবে সম্পৃক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ দেশের ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের বড় অংশই তরুণ প্রজন্ম। তাদের সচেতন এবং দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে পারলে মাদকমুক্ত সমাজ গঠন অনেক সহজ হবে।

আরও পড়ুন  চাঞ্চল্যকর কিশোরগঞ্জ বিএনপি নেতা হত্যা: পদ স্থগিত সভাপতিকে কুপিয়ে হত্যা

বক্তারা তরুণদের খেলাধুলা, সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড, সামাজিক সেবা এবং সৃজনশীল কাজে অংশ নেওয়ার আহ্বান জানান। এতে তারা মাদকসহ বিভিন্ন সামাজিক অপরাধ থেকে দূরে থাকতে পারবেন।

কর্মশালায় প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেন্টরদের মাধ্যমে গ্রাম, ইউনিয়ন ও ওয়ার্ড পর্যায়ে সচেতনতা কার্যক্রম পরিচালনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তারা স্থানীয় জনগণের সঙ্গে মতবিনিময় সভা, সেমিনার, র‌্যালি এবং প্রচারণামূলক কর্মসূচির আয়োজন করবেন।

এছাড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়মিত আলোচনা সভা আয়োজনের বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। কারণ শিক্ষার্থীদের মধ্যে সচেতনতা সৃষ্টি করতে পারলে মাদক বিস্তার অনেকাংশে কমিয়ে আনা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, মাদকবিরোধী সংগ্রামকে কেবল প্রশাসনিক কার্যক্রমের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখলে কাঙ্ক্ষিত ফল পাওয়া কঠিন। এজন্য সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে হবে।

ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি, সাংবাদিক, সাংস্কৃতিক কর্মী এবং যুবসমাজ একসঙ্গে কাজ করলে মাদক প্রতিরোধ আরও কার্যকর হবে। কর্মশালায় অংশগ্রহণকারীদেরও এই বিষয়ে উদ্বুদ্ধ করা হয়।

কর্মশালায় উপস্থিত কর্মকর্তারা জানান, মাদক নির্মূলে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করছে এবং মাদক কারবারিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তবে শুধু অভিযান নয়, সচেতনতা এবং সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তোলাও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সেই লক্ষ্যেই মাদকবিরোধী মেন্টর তৈরির এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

আরও পড়ুন  হালুয়াঘাটে ইয়াবা বিক্রি করতে এসে জনতার হাতে আটক স্বামী-স্ত্রী

খাগড়াছড়ির স্থানীয় বাসিন্দারা এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তাদের মতে, তরুণদের মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সমাজভিত্তিক প্রচারণা চালানো গেলে মাদক বিস্তার রোধে ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।

অনেকে আশা প্রকাশ করেছেন, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেন্টররা শুধু সচেতনতা নয়, বরং মাদকাসক্তদের পুনর্বাসন ও সামাজিকভাবে পুনর্গঠনের ক্ষেত্রেও সহায়ক ভূমিকা পালন করবেন।

আয়োজকরা জানিয়েছেন, এই কর্মশালার মাধ্যমে তৈরি হওয়া মেন্টরদের নিয়মিত প্রশিক্ষণ ও তদারকির আওতায় রাখা হবে। ভবিষ্যতে আরও বৃহৎ পরিসরে এ ধরনের কর্মসূচি আয়োজনের পরিকল্পনাও রয়েছে।

এছাড়া জেলার বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সামাজিক সংগঠনের সঙ্গে সমন্বয় করে দীর্ঘমেয়াদি সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে।

খাগড়াছড়িতে মাদকবিরোধী মেন্টর তৈরিতে আয়োজিত কর্মশালা সমাজে ইতিবাচক পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করা এবং তরুণদের সঠিক পথে পরিচালিত করতে এ ধরনের কার্যক্রম গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে। সংশ্লিষ্টদের আশা, প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত মেন্টরদের মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং মাদকমুক্ত সমাজ গঠনের আন্দোলন আরও শক্তিশালী হবে।