ঢাকা ০৬:১৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

গ্যাসের সংকটে রান্নাঘরে করছেন না তো এই ৭টি মারাত্মক ভুল?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৫:০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫১০

গ্যাসের সংকটে রান্নার সময় নিরাপদ থাকতে জেনে নিন ৭টি সাধারণ ভুল, দুর্ঘটনা এড়ানোর উপায় ও কার্যকর পরামর্শ।

গ্যাসের সংকটে রান্নাবান্না এখন অনেক পরিবারের জন্য প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তবে এ সময় তাড়াহুড়ো বা অসাবধানতার কারণে রান্নাঘরে এমন কিছু ভুল হয়, যা শুধু সময় ও গ্যাসের অপচয়ই নয়, বড় ধরনের দুর্ঘটনারও কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চললে নিরাপদে রান্না করা সম্ভব এবং জ্বালানির অপচয়ও কমানো যায়।

গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্টারপ্রেনিউরশিপ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা শরীফ জানিয়েছেন, গ্যাসের সংকটের সময় আতঙ্কিত না হয়ে পরিকল্পিতভাবে রান্না করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে এমন কিছু ভুল করেন, যা অজান্তেই ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো চুলা না জ্বললেও গ্যাসের নব অন অবস্থায় রেখে দেওয়া। অনেক সময় মনে হয় লাইনে গ্যাস নেই, কিন্তু অল্প পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ চলতেই পারে। তখন চুলা না জ্বললেও রান্নাঘরে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

একইভাবে বারবার চুলার নব অন-অফ করাও নিরাপদ নয়। এতে গ্যাস বের হয়ে রান্নাঘরের বাতাসে জমা হতে পারে। তাই গ্যাস না থাকলে বারবার চুলা জ্বালানোর চেষ্টা না করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করাই নিরাপদ।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিখার রং। গ্যাসের চাপ কম থাকলে অনেক সময় শিখা নীলের পরিবর্তে হলুদ বা কমলা দেখা যায়। এমন অবস্থায় রান্না চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়। কারণ এটি অসম্পূর্ণ দহনের লক্ষণ হতে পারে এবং এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়।

বিশেষজ্ঞরা জানান, হলুদ বা কমলা শিখার কারণ হতে পারে অপর্যাপ্ত গ্যাস, বাতাস ও গ্যাসের অনুপাতের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া কিংবা বার্নারে ময়লা জমে থাকা। তাই শিখার রং স্বাভাবিক না হলে আগে বার্নার পরীক্ষা ও পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

গ্যাস এলেই সময় বাঁচানোর জন্য একসঙ্গে সব চুলা জ্বালিয়ে রান্না শুরু করাও অনেকের অভ্যাস। কিন্তু গ্যাসের চাপ কম থাকলে এতে কোনো লাভ হয় না। বরং একটি চুলায় পর্যায়ক্রমে রান্না করলে গ্যাস কম খরচ হয় এবং রান্নাও দ্রুত শেষ করা সম্ভব।

রান্নাঘরের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। চুলা জ্বালানোর আগে দরজা-জানালা খুলে দিন এবং সম্ভব হলে এক্সহস্ট ফ্যান চালু রাখুন। এতে গ্যাস জমে থাকার আশঙ্কা কমে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস পায়।

গ্যাস লিকেজের সন্দেহ হলে কোনো বৈদ্যুতিক সুইচ অন বা অফ করবেন না এবং আগুন জ্বালিয়ে কখনো লিকেজ পরীক্ষা করবেন না। এছাড়া এলপিজি সিলিন্ডার বহনের সময় তা গড়িয়ে বা কাত করে নেওয়া উচিত নয়। সব সময় সিলিন্ডার সোজা অবস্থায় রাখতে হবে।

গ্যাস সাশ্রয়ের জন্য চুলা ও বার্নার পরিষ্কার রাখা, খাবার ছোট টুকরো করে কাটা, ঢেকে রান্না করা এবং প্রয়োজন হলে প্রেশার কুকার বা স্টিম কুকারের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করলে সেটির নিরাপদ ব্যবহারবিধি জেনে নেওয়াও জরুরি।

জনপ্রিয় সংবাদ

গ্যাসের সংকটে রান্নাঘরে করছেন না তো এই ৭টি মারাত্মক ভুল?

Update Time : ০৫:০৬:০৫ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

গ্যাসের সংকটে রান্নাবান্না এখন অনেক পরিবারের জন্য প্রতিদিনের চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। তবে এ সময় তাড়াহুড়ো বা অসাবধানতার কারণে রান্নাঘরে এমন কিছু ভুল হয়, যা শুধু সময় ও গ্যাসের অপচয়ই নয়, বড় ধরনের দুর্ঘটনারও কারণ হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, কিছু সাধারণ সতর্কতা মেনে চললে নিরাপদে রান্না করা সম্ভব এবং জ্বালানির অপচয়ও কমানো যায়।

গভর্নমেন্ট কলেজ অব অ্যাপ্লাইড হিউম্যান সায়েন্সের সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও এন্টারপ্রেনিউরশিপ বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. ফারহানা শরীফ জানিয়েছেন, গ্যাসের সংকটের সময় আতঙ্কিত না হয়ে পরিকল্পিতভাবে রান্না করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। অনেকেই পরিস্থিতি সামাল দিতে গিয়ে এমন কিছু ভুল করেন, যা অজান্তেই ঝুঁকি বাড়িয়ে দেয়।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি হলো চুলা না জ্বললেও গ্যাসের নব অন অবস্থায় রেখে দেওয়া। অনেক সময় মনে হয় লাইনে গ্যাস নেই, কিন্তু অল্প পরিমাণ গ্যাস সরবরাহ চলতেই পারে। তখন চুলা না জ্বললেও রান্নাঘরে গ্যাস জমে বিস্ফোরণ বা অগ্নিকাণ্ডের ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

আরও পড়ুন  রামিসা হত্যা মামলা: আদালতে সোহেলের ‘ডলার’ দাবি ঘিরে নতুন নাটক

একইভাবে বারবার চুলার নব অন-অফ করাও নিরাপদ নয়। এতে গ্যাস বের হয়ে রান্নাঘরের বাতাসে জমা হতে পারে। তাই গ্যাস না থাকলে বারবার চুলা জ্বালানোর চেষ্টা না করে কিছুক্ষণ অপেক্ষা করাই নিরাপদ।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শিখার রং। গ্যাসের চাপ কম থাকলে অনেক সময় শিখা নীলের পরিবর্তে হলুদ বা কমলা দেখা যায়। এমন অবস্থায় রান্না চালিয়ে যাওয়া উচিত নয়। কারণ এটি অসম্পূর্ণ দহনের লক্ষণ হতে পারে এবং এতে নিরাপত্তা ঝুঁকি তৈরি হয়।

আরও পড়ুন  তুরাগে বস্তিতে আগুন, নিয়ন্ত্রণে ফায়ার সার্ভিসের ৫ ইউনিট

বিশেষজ্ঞরা জানান, হলুদ বা কমলা শিখার কারণ হতে পারে অপর্যাপ্ত গ্যাস, বাতাস ও গ্যাসের অনুপাতের ভারসাম্য নষ্ট হওয়া কিংবা বার্নারে ময়লা জমে থাকা। তাই শিখার রং স্বাভাবিক না হলে আগে বার্নার পরীক্ষা ও পরিষ্কার করা প্রয়োজন।

গ্যাস এলেই সময় বাঁচানোর জন্য একসঙ্গে সব চুলা জ্বালিয়ে রান্না শুরু করাও অনেকের অভ্যাস। কিন্তু গ্যাসের চাপ কম থাকলে এতে কোনো লাভ হয় না। বরং একটি চুলায় পর্যায়ক্রমে রান্না করলে গ্যাস কম খরচ হয় এবং রান্নাও দ্রুত শেষ করা সম্ভব।

রান্নাঘরের নিরাপত্তার ক্ষেত্রে বায়ু চলাচল নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। চুলা জ্বালানোর আগে দরজা-জানালা খুলে দিন এবং সম্ভব হলে এক্সহস্ট ফ্যান চালু রাখুন। এতে গ্যাস জমে থাকার আশঙ্কা কমে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি হ্রাস পায়।

আরও পড়ুন  যাত্রী সংকটে ঢাকা রুটসহ ফ্লাইট স্থগিত করল এয়ার ইন্ডিয়া

গ্যাস লিকেজের সন্দেহ হলে কোনো বৈদ্যুতিক সুইচ অন বা অফ করবেন না এবং আগুন জ্বালিয়ে কখনো লিকেজ পরীক্ষা করবেন না। এছাড়া এলপিজি সিলিন্ডার বহনের সময় তা গড়িয়ে বা কাত করে নেওয়া উচিত নয়। সব সময় সিলিন্ডার সোজা অবস্থায় রাখতে হবে।

গ্যাস সাশ্রয়ের জন্য চুলা ও বার্নার পরিষ্কার রাখা, খাবার ছোট টুকরো করে কাটা, ঢেকে রান্না করা এবং প্রয়োজন হলে প্রেশার কুকার বা স্টিম কুকারের মতো প্রযুক্তি ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা। পাশাপাশি বিকল্প জ্বালানি ব্যবহার করলে সেটির নিরাপদ ব্যবহারবিধি জেনে নেওয়াও জরুরি।