ঢাকা ০১:১২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬, ৯ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিজিএমইএ-ইন্টারটেক বৈঠক: টেকসই উন্নয়নে ৫ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার

পোশাক শিল্পের উন্নয়ন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ছবি: সংগৃহীত

বিজিএমইএ-ইন্টারটেক বৈঠক বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে টেকসই উন্নয়ন ও মানোন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। বুধবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা শিল্প খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে সাপ্লাই চেইনকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান এবং ইন্টারটেক বাংলাদেশের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক অজয় কাপুর নেতৃত্ব দেন। এছাড়া বিজিএমইএ’র পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা, জোয়ারদার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম এবং রেসপনসিবল বিজনেস হাবের কো-অর্ডিনেটর শেখ সুচিতা জাহান স্নেহাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইন্টারটেকের পক্ষ থেকে আশীষ গুপ্ত, নেয়ামুল হাসান ও আলিজা সুলতানাও আলোচনায় অংশ নেন।

বৈঠকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে ইন্টারটেকের অ্যাসিউরেন্স, টেস্টিং, ইন্সপেকশন ও সার্টিফিকেশন (এটিআইসি) সেবার মাধ্যমে কীভাবে সাপ্লাই চেইনের প্রতিটি স্তরে মান নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

ইনামুল হক খান বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে আরও টেকসই ও আধুনিক করতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। তিনি বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের পাশাপাশি শ্রমিক ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন। এ ক্ষেত্রে ইন্টারটেকের কারিগরি সহায়তা শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে সামাজিক ও পরিবেশগত মানদণ্ড বাস্তবায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বিজিএমইএ পোশাক শিল্পে একটি সমন্বিত ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা, শ্রমিক কল্যাণ এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক চর্চা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষ জ্ঞান বিনিময় ও যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করে।

অজয় কাপুর বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বিশ্ববাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে এবং এই খাতের উন্নয়নে ইন্টারটেক দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বিজিএমইএ’র সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বৈঠকের শেষে উভয় সংস্থা ভবিষ্যতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র অনুসন্ধান, সাপ্লাই চেইনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিজিএমইএ-ইন্টারটেক বৈঠক: টেকসই উন্নয়নে ৫ গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গীকার

Update Time : ১১:১৩:২৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৩ জুন ২০২৬

বিজিএমইএ-ইন্টারটেক বৈঠক বাংলাদেশের পোশাক শিল্পে টেকসই উন্নয়ন ও মানোন্নয়নের নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে। বুধবার রাজধানীর উত্তরায় বিজিএমইএ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ কর্মকর্তারা শিল্প খাতের বর্তমান চ্যালেঞ্জ, আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে সাপ্লাই চেইনকে আরও কার্যকর, স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন করার বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।

বৈঠকে বিজিএমইএ’র সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান এবং ইন্টারটেক বাংলাদেশের দক্ষিণ এশিয়ার আঞ্চলিক ব্যবস্থাপনা পরিচালক অজয় কাপুর নেতৃত্ব দেন। এছাড়া বিজিএমইএ’র পরিচালক নাফিস-উদ-দৌলা, জোয়ারদার মোহাম্মদ হোসনে কমার আলম এবং রেসপনসিবল বিজনেস হাবের কো-অর্ডিনেটর শেখ সুচিতা জাহান স্নেহাসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ইন্টারটেকের পক্ষ থেকে আশীষ গুপ্ত, নেয়ামুল হাসান ও আলিজা সুলতানাও আলোচনায় অংশ নেন।

আরও পড়ুন  সড়ক প্রকল্পের টাকায় বিলাসী ভবন নির্মাণ

বৈঠকে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক শিল্পের বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে ইন্টারটেকের অ্যাসিউরেন্স, টেস্টিং, ইন্সপেকশন ও সার্টিফিকেশন (এটিআইসি) সেবার মাধ্যমে কীভাবে সাপ্লাই চেইনের প্রতিটি স্তরে মান নিশ্চিত করা যায়, তা নিয়ে মতবিনিময় করা হয়। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি এবং রপ্তানি বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান শক্তিশালী করার বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন  আরও ১ লাখ টন ডিজেল আমদানি করছে সরকার

ইনামুল হক খান বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্পকে আরও টেকসই ও আধুনিক করতে প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগ বাড়ানোর বিকল্প নেই। তিনি বিশেষ করে ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধির জন্য ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের পাশাপাশি শ্রমিক ও ব্যবস্থাপনা পর্যায়ের কর্মীদের নিয়মিত প্রশিক্ষণের ওপর জোর দেন। এ ক্ষেত্রে ইন্টারটেকের কারিগরি সহায়তা শিল্পের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

বৈঠকে সামাজিক ও পরিবেশগত মানদণ্ড বাস্তবায়নের বিষয়টিও গুরুত্ব পায়। বিজিএমইএ পোশাক শিল্পে একটি সমন্বিত ও আন্তর্জাতিকভাবে গ্রহণযোগ্য মানদণ্ড প্রতিষ্ঠার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে। একই সঙ্গে পরিবেশবান্ধব উৎপাদন ব্যবস্থা, শ্রমিক কল্যাণ এবং দায়িত্বশীল ব্যবসায়িক চর্চা নিশ্চিত করতে উভয় পক্ষ জ্ঞান বিনিময় ও যৌথ উদ্যোগ গ্রহণে আগ্রহ প্রকাশ করে।

আরও পড়ুন  দেশে জ্বালানি তেলের পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে: সংসদে জ্বালানি মন্ত্রী

অজয় কাপুর বলেন, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প বিশ্ববাজারে গুরুত্বপূর্ণ অবস্থান তৈরি করেছে এবং এই খাতের উন্নয়নে ইন্টারটেক দীর্ঘদিন ধরে কাজ করে যাচ্ছে। তিনি বিজিএমইএ’র সঙ্গে অংশীদারিত্ব আরও জোরদার করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন। বৈঠকের শেষে উভয় সংস্থা ভবিষ্যতে নতুন সহযোগিতার ক্ষেত্র অনুসন্ধান, সাপ্লাই চেইনের স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং আন্তর্জাতিক মান বজায় রাখতে একসঙ্গে কাজ করার বিষয়ে সম্মত হয়।