মহাশ্মশান যাত্রা শিরোনামে দেশের বিভিন্ন শহরে বড় পরিসরের কনসার্ট সিরিজ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে জনপ্রিয় ব্যান্ড সোনার বাংলা সার্কাস। আগস্ট মাস থেকে শুরু হওয়া এই আয়োজনের মাধ্যমে ব্যান্ডটি আটটি বিভাগীয় শহরের পাশাপাশি কক্সবাজারেও পারফর্ম করবে। নতুন কনসেপচুয়াল অ্যালবাম ‘মহাশ্মশান’-কে ঘিরেই এই বিশেষ কনসার্ট সিরিজের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
ব্যান্ডের ভোকালিস্ট ও গীতিকার প্রবর রিপনের ভাষ্য অনুযায়ী, কনসার্ট সিরিজের প্রথম আয়োজন হবে ঢাকায়। এরপর ধাপে ধাপে দেশের অন্যান্য বিভাগীয় শহরে দর্শকদের সামনে পরিবেশনা করবে দলটি। বিভাগীয় শহরের বাইরেও কক্সবাজারকে এই সফরের অংশ করা হয়েছে, যাতে দেশের আরও বেশি শ্রোতা সরাসরি ব্যান্ডটির পরিবেশনা উপভোগ করতে পারেন।
চলতি বছরের ৮ জানুয়ারি প্রকাশিত হয় সোনার বাংলা সার্কাসের কনসেপচুয়াল অ্যালবাম ‘মহাশ্মশান’। অ্যালবামটিতে মোট ১৭টি গান রয়েছে। এর মধ্যে ‘ব্যর্থ মানুষ’, ‘আগুনের পঙ্খিরাজ’, ‘ডুবুরি’, ‘নরকে বৃষ্টি’ এবং ‘মহাশ্মশান’ ইতোমধ্যেই শ্রোতাদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। অ্যালবামের নাম অনুসারেই কনসার্ট সিরিজের নাম রাখা হয়েছে ‘মহাশ্মশান যাত্রা’, যা ব্যান্ডটির সৃজনশীল ভাবনারই একটি সম্প্রসারণ।
অ্যালবামের শিরোনাম গান ‘মহাশ্মশান’ ইউটিউবে প্রকাশের পর থেকে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। গানটি ইতোমধ্যে প্রায় আড়াই লাখবার দেখা ও শোনা হয়েছে। ভিডিওটির নিচে জমা পড়েছে ১ হাজার ২০০-এর বেশি মন্তব্য। অনেক শ্রোতা গানটির আবেগঘন কথায় নিজের মায়ের স্মৃতি খুঁজে পেয়েছেন। একজন মন্তব্য করেছেন, গানটির প্রতিটি লাইন হৃদয় ছুঁয়ে যায় এবং এটি দীর্ঘদিন মানুষের মনে বেঁচে থাকবে। আরেকজনের মতে, মা নিয়ে শোনা সেরা গানগুলোর একটি এটি।
এর আগে ‘হায়েনা এক্সপ্রেস এক্সপেরিয়েন্স’ শিরোনামে দীর্ঘমেয়াদি একক কনসার্ট সফর সফলভাবে সম্পন্ন করেছিল সোনার বাংলা সার্কাস। ২০২১ সালের ২৫ নভেম্বর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসি থেকে সেই সফর শুরু হয়। কয়েক বছর ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে পরিবেশনার পর ২০২৫ সালের ১৭ অক্টোবর ঢাকার রাশিয়ান হাউসে শেষ হয় সেই কনসার্ট সিরিজ। সেই অভিজ্ঞতার ধারাবাহিকতায় এবার আরও বড় পরিকল্পনা নিয়ে ফিরছে ব্যান্ডটি।
বর্তমানে সোনার বাংলা সার্কাসের সদস্য হিসেবে রয়েছেন প্রবর রিপন, শ্বেত পাণ্ডুরাঙ্গা ব্লুমবার্গ, শাকিল হক, সাদ চৌধুরী এবং সামিউল মমিত। নতুন অ্যালবাম ও ‘মহাশ্মশান যাত্রা’ কনসার্ট সিরিজ ঘিরে ব্যান্ডটির ভক্তদের মধ্যে ইতোমধ্যেই ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। আয়োজকদের আশা, দেশের বিভিন্ন শহরে এই সফর বাংলা ব্যান্ড সংগীতপ্রেমীদের জন্য স্মরণীয় অভিজ্ঞতা হয়ে উঠবে।


























