ঢাকা ০২:১৮ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬, ১৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo রংপুর শিশু হাসপাতাল চালু: ১০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীর সুখবর Logo গ্যাসের দাম বাড়বে না: সুখবর জানাল পেট্রোবাংলা | Logo মাদ্রাসা শিক্ষাব্যবস্থা: ১২ দফা সংস্কার পরিকল্পনায় ইতিবাচক বার্তা Logo সঞ্জয় দেবের সংগ্রাম: অবিশ্বাস্য পথচলায় লস অ্যাঞ্জেলেসের কঠিন দিন Logo জুলাই অভ্যুত্থান: শক্তিশালী সংস্কার ও বিচার নিয়ে নতুন বার্তা Logo জিমি বাংলাদেশের মেসি: চমকপ্রদ মন্তব্য করলেন গেরহার্ড Logo বান্দরবান বন্যা ত্রাণে গো আপ ফাউন্ডেশনের মানবিক উদ্যোগে ৭৫৬ পরিবার পেল সহায়তা Logo ফুটবলে আগ্রহ কমছে: ৩৬% ব্রাজিলিয়ান ফুটবলের খবরই রাখেন না | জরিপে চমক Logo কক্সবাজার রেলস্টেশন নিয়ে বড় সুখবর, আসছে নতুন ব্যবস্থাপনা Logo দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্যাটিং ধস, বড় হারে শুরু বাংলাদেশের

বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত: প্রধান রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালাবে সরকার

বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর সিদ্ধান্তের আওতায় দেশের প্রধান রুটগুলোতে ইলেকট্রিক ট্রেন চালুর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। । ছবি: সংগৃহীত

বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, নিরাপদ, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশের প্রধান প্রধান রেলপথে পর্যায়ক্রমে ইলেকট্রিক ট্রেন বা বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালু করা হবে। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে মহাসড়কে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড এবং মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে স্মার্ট মনিটরিং ও এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও চালু করা হবে।

তিনি আরও জানান, রাজধানী ঢাকার যানজট কমাতে রিং রোড ও রেডিয়াল রোড নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগস্থলগুলোতে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের মাধ্যমে যান চলাচল আরও সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এলাকায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-আশুলিয়া ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ প্রকল্প, পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত দোতলা সড়ক, বরিশাল-ভোলা সড়কে নতুন সেতু এবং মেঘনা নদীর ওপর একাধিক সেতু নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে।

রেলখাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত দেশের রেল ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাংলাদেশ রেলওয়েকে জাতীয় পরিবহন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে ২০৪৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় তিন ধাপে মোট ২৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি জানান, দেশের সম্পূর্ণ রেল নেটওয়ার্ককে ধাপে ধাপে ডুয়েলগেজ ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংযোগও শক্তিশালী হবে।

রেলসেবার সক্ষমতা বাড়াতে আগামী বছরগুলোতে আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে। স্বল্পমেয়াদে ৩টি আন্তঃনগর ও ১০টি কমিউটার ট্রেন, মধ্যমেয়াদে ১৫টি আন্তঃনগর ও ১৬টি কমিউটার ট্রেন এবং দীর্ঘমেয়াদে ১০৩টি আন্তঃনগর ও ৮৫টি কমিউটার ট্রেন যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ হবে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত জ্বালানি সাশ্রয়, দূষণ কমানো এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জনপ্রিয় সংবাদ

রংপুর শিশু হাসপাতাল চালু: ১০০ শয্যার আধুনিক হাসপাতাল উদ্বোধনে প্রধানমন্ত্রীর সুখবর

বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত: প্রধান রুটে ইলেকট্রিক ট্রেন চালাবে সরকার

Update Time : ০৭:২৭:২০ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি জানিয়েছেন, নিরাপদ, আধুনিক ও পরিবেশবান্ধব যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে দেশের প্রধান প্রধান রেলপথে পর্যায়ক্রমে ইলেকট্রিক ট্রেন বা বৈদ্যুতিক ট্র্যাকশন চালু করা হবে। বুধবার (১৭ জুন) জাতীয় সংসদের বাজেট অধিবেশনের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি এ তথ্য জানান।

কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়ার প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সড়ক ও রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে সরকার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছে। এর অংশ হিসেবে মহাসড়কে এক্সপ্রেসওয়ে গ্রিড এবং মাল্টিমোডাল পরিবহন ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ওভারলোড নিয়ন্ত্রণে স্মার্ট মনিটরিং ও এক্সেল লোড নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থাও চালু করা হবে।

আরও পড়ুন  নারায়ণগঞ্জে ট্রেন চালকের সতকর্তায় রক্ষা পেল ট্রাক

তিনি আরও জানান, রাজধানী ঢাকার যানজট কমাতে রিং রোড ও রেডিয়াল রোড নেটওয়ার্ক নির্মাণের কাজ এগিয়ে চলছে। এছাড়া গুরুত্বপূর্ণ সড়ক সংযোগস্থলগুলোতে ওভারপাস ও আন্ডারপাস নির্মাণের মাধ্যমে যান চলাচল আরও সহজ করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব উদ্যোগ দেশের সামগ্রিক যোগাযোগ ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক ও কার্যকর করে তুলবে বলে আশা করা হচ্ছে।

সংসদে দেওয়া বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী বেশ কয়েকটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পের অগ্রগতির কথাও তুলে ধরেন। তিনি জানান, যমুনা নদীর ওপর দ্বিতীয় যমুনা সেতু এবং পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া এলাকায় দ্বিতীয় পদ্মা সেতু নির্মাণের পরিকল্পনা বর্তমানে প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। পাশাপাশি ঢাকা-আশুলিয়া ও ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের সংযোগ প্রকল্প, পঞ্চবটি থেকে মুক্তারপুর সেতু পর্যন্ত দোতলা সড়ক, বরিশাল-ভোলা সড়কে নতুন সেতু এবং মেঘনা নদীর ওপর একাধিক সেতু নির্মাণের কাজও এগিয়ে চলছে।

আরও পড়ুন  স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি: রেকর্ড ছাড়িয়ে বাজারে নতুন অস্থিরতা ও ক্রেতাদের মাথায় হাত

রেলখাতের উন্নয়ন প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত দেশের রেল ব্যবস্থাকে আধুনিকায়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। বাংলাদেশ রেলওয়েকে জাতীয় পরিবহন ব্যবস্থার মূল ভিত্তি হিসেবে গড়ে তুলতে ২০৪৫ সাল পর্যন্ত দীর্ঘমেয়াদি মহাপরিকল্পনা গ্রহণ করা হয়েছে। এই পরিকল্পনার আওতায় তিন ধাপে মোট ২৪টি প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হবে।

তিনি জানান, দেশের সম্পূর্ণ রেল নেটওয়ার্ককে ধাপে ধাপে ডুয়েলগেজ ব্যবস্থায় রূপান্তর করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্তে যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল আরও সহজ, দ্রুত ও কার্যকর হবে। একই সঙ্গে আঞ্চলিক সংযোগও শক্তিশালী হবে।

আরও পড়ুন  চা শিল্প উন্নয়ন: বড় সহায়তার আশ্বাস দিলেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রেলসেবার সক্ষমতা বাড়াতে আগামী বছরগুলোতে আন্তঃনগর ও কমিউটার ট্রেনের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ানো হবে। স্বল্পমেয়াদে ৩টি আন্তঃনগর ও ১০টি কমিউটার ট্রেন, মধ্যমেয়াদে ১৫টি আন্তঃনগর ও ১৬টি কমিউটার ট্রেন এবং দীর্ঘমেয়াদে ১০৩টি আন্তঃনগর ও ৮৫টি কমিউটার ট্রেন যুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সরকারের এই উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে দেশের যোগাযোগ ব্যবস্থা আরও আধুনিক, পরিবেশবান্ধব ও নিরাপদ হবে। বিশেষ করে বৈদ্যুতিক ট্রেন চালুর সিদ্ধান্ত জ্বালানি সাশ্রয়, দূষণ কমানো এবং যাত্রীসেবার মান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।