ঢাকা ০১:২০ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ০১ অগাস্ট ২০২৬, ১৬ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo গাজী সালাউদ্দিন অব্যাহতি: চমকপ্রদ সিদ্ধান্তে আবারও কড়া পদক্ষেপ এনসিপির Logo গুরুত্বপূর্ণ বার্তা: জনগণের বিভাজন চক্রান্ত ঠেকাতে তথ্যমন্ত্রীর কঠোর অবস্থান Logo প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ঢাকা পরিদর্শন: নগর তদারকির ৭ গুরুত্বপূর্ণ দিক Logo গরম পানি কি সর্দি-কাশি সারায়? যা বলছেন বিশেষজ্ঞরা Logo শিক্ষিকার নামের বানান ভুল করায় শিক্ষার্থীকে ৩০০ বার লেখার শাস্তি Logo জুলাই শহীদ রিতার কবর জিয়ারত করলেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী Logo নিজে গাড়ি চালিয়ে ঢাকার নগর ব্যবস্থাপনা ঘুরে দেখলেন প্রধানমন্ত্রী Logo আর্জেন্টাইন গোলরক্ষককে দলে ভেড়াতে চাচ্ছে ম্যানসিটি Logo ভিন্নমতকে যখন হুমকি মনে করা হয় : পাকিস্তানের ইতিহাস দক্ষিণ এশিয়ার জন্য শিক্ষণীয় Logo নরসিংদীতে লটকনের বাম্পার ফলন, ১৪৬ কোটি টাকার বাণিজ্যের আশা

শিক্ষিকার নামের বানান ভুল করায় শিক্ষার্থীকে ৩০০ বার লেখার শাস্তি

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীকে ৩০০ বার নাম লেখার নির্দেশ

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্টে শিক্ষিকার নামের বানানে ভুল করায় তাকে ৩০০ বার নাম লিখে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম সাইদুল ইসলাম সাইদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের (দ্বিতীয় সেমিস্টার) শিক্ষার্থী। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মরিয়ম হাসনা অ্যাসাইনমেন্টে নিজের নামের বানানে ভুল হওয়ায় তাকে ৩০০ বার নাম লিখে জমা দিতে বলেন।

সাইদুল ইসলাম সাইদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি লেখেন,

“গত রাতটি আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন্যতম স্মরণীয় একটি অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। একটি শব্দের বানানে মাত্র একটি অতিরিক্ত অক্ষর—’Morioum’-এর পরিবর্তে ‘Morium’—লেখার কারণে আমাকে পুরো নাম ৩০০ বার সংশোধন করতে হয়েছে।”

পোস্টের সঙ্গে তিনি হাতে লেখা ৩০০ বার নাম লেখার খাতার ছবিও প্রকাশ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অনেক শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এমন শাস্তির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অনেকে এটিকে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুপযুক্ত ও মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী শাস্তি হিসেবে আখ্যা দেন।

বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রেদোয়ান সরকার ফেসবুকে লিখেছেন,

“কত কত অযাচিত অ্যাসাইনমেন্ট করেছি তার হিসাব নেই। ক্রিয়েটিভিটি বলতে দেখে দেখে অ্যাসাইনমেন্টের এই ধরনের র‍্যাগিংই হয় এখানে।”

তার এই মন্তব্যেও অনেকেই একমত পোষণ করেন এবং বিভাগের শিক্ষাদান পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

একাধিক বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাসাইনমেন্ট ও ক্লাস কার্যক্রমে অতিরিক্ত চাপ এবং কিছু ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক আচরণের অভিযোগ আগে থেকেও ছিল। তবে এবার ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মতে, বানান ভুল অবশ্যই সংশোধন করা উচিত, কিন্তু সেটির জন্য ৩০০ বার নাম লিখতে বাধ্য করা শিক্ষার্থীর আত্মসম্মান ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ঘটনাটি নিয়ে সহকারী অধ্যাপক মরিয়ম হাসনা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, তিনি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ও সতর্কতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন।

ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়ার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষার্থীর ভুল সংশোধনের জন্য গঠনমূলক প্রতিক্রিয়া (Constructive Feedback) সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। তারা বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শাস্তিমূলক পদ্ধতির পরিবর্তে ব্যাখ্যা, পরামর্শ এবং একাডেমিক নির্দেশনার মাধ্যমে ভুল সংশোধনের সংস্কৃতি গড়ে তোলা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বানান ভুলের জন্য শত শত বার লিখতে বাধ্য করা শিক্ষার চেয়ে ভীতি ও মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে, যা একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

গাজী সালাউদ্দিন অব্যাহতি: চমকপ্রদ সিদ্ধান্তে আবারও কড়া পদক্ষেপ এনসিপির

শিক্ষিকার নামের বানান ভুল করায় শিক্ষার্থীকে ৩০০ বার লেখার শাস্তি

Update Time : ১১:১৪:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের এক শিক্ষার্থী অ্যাসাইনমেন্টে শিক্ষিকার নামের বানানে ভুল করায় তাকে ৩০০ বার নাম লিখে জমা দেওয়ার নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর বিশ্ববিদ্যালয়জুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর নাম সাইদুল ইসলাম সাইদ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স অ্যান্ড ব্যাংকিং বিভাগের তৃতীয় বর্ষের (দ্বিতীয় সেমিস্টার) শিক্ষার্থী। অভিযোগ অনুযায়ী, বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মরিয়ম হাসনা অ্যাসাইনমেন্টে নিজের নামের বানানে ভুল হওয়ায় তাকে ৩০০ বার নাম লিখে জমা দিতে বলেন।

সাইদুল ইসলাম সাইদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি পোস্টে পুরো ঘটনার বর্ণনা দেন। তিনি লেখেন,

“গত রাতটি আমার বিশ্ববিদ্যালয় জীবনের অন্যতম স্মরণীয় একটি অভিজ্ঞতা হয়ে থাকবে। একটি শব্দের বানানে মাত্র একটি অতিরিক্ত অক্ষর—’Morioum’-এর পরিবর্তে ‘Morium’—লেখার কারণে আমাকে পুরো নাম ৩০০ বার সংশোধন করতে হয়েছে।”

পোস্টের সঙ্গে তিনি হাতে লেখা ৩০০ বার নাম লেখার খাতার ছবিও প্রকাশ করেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ছবিটি সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে যায়।

আরও পড়ুন  চন্দনাইশে আসহাব সিরাজ পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে কারিগরি ও প্রযুক্তিগত শিক্ষার গুরুত্ব ও প্রয়োজনীয়তা শীর্ষক আলোচনা সভা

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর অনেক শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ এমন শাস্তির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। অনেকে এটিকে উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে অনুপযুক্ত ও মানসিক চাপ সৃষ্টিকারী শাস্তি হিসেবে আখ্যা দেন।

বিভাগের সাবেক শিক্ষার্থী রেদোয়ান সরকার ফেসবুকে লিখেছেন,

“কত কত অযাচিত অ্যাসাইনমেন্ট করেছি তার হিসাব নেই। ক্রিয়েটিভিটি বলতে দেখে দেখে অ্যাসাইনমেন্টের এই ধরনের র‍্যাগিংই হয় এখানে।”

তার এই মন্তব্যেও অনেকেই একমত পোষণ করেন এবং বিভাগের শিক্ষাদান পদ্ধতি নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।

একাধিক বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী দাবি করেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে অ্যাসাইনমেন্ট ও ক্লাস কার্যক্রমে অতিরিক্ত চাপ এবং কিছু ক্ষেত্রে অপ্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক আচরণের অভিযোগ আগে থেকেও ছিল। তবে এবার ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ পাওয়ায় বিষয়টি নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।

আরও পড়ুন  চট্টগ্রাম বোর্ড এইচএসসি পরীক্ষা শুরু

শিক্ষার্থীদের একটি অংশের মতে, বানান ভুল অবশ্যই সংশোধন করা উচিত, কিন্তু সেটির জন্য ৩০০ বার নাম লিখতে বাধ্য করা শিক্ষার্থীর আত্মসম্মান ও মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

ঘটনাটি নিয়ে সহকারী অধ্যাপক মরিয়ম হাসনা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত বক্তব্য দেননি। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের একটি সূত্র জানায়, তিনি শিক্ষার্থীদের শৃঙ্খলা ও সতর্কতা বৃদ্ধির উদ্দেশ্যেই এমন নির্দেশ দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন।

ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেওয়ার পর বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বিষয়টি সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করা হচ্ছে।

আরও পড়ুন  নতুন শিক্ষার কারিকুলাম বাস্তবায়ন নিয়ে যা বললেন ববি হাজ্জাজ

প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, লিখিত অভিযোগ পেলে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রচলিত বিধি অনুযায়ী তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। একই সঙ্গে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর মধ্যে পারস্পরিক সম্মান ও পেশাদার আচরণ বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, শিক্ষার্থীর ভুল সংশোধনের জন্য গঠনমূলক প্রতিক্রিয়া (Constructive Feedback) সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতি। তারা বলেন, উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে শাস্তিমূলক পদ্ধতির পরিবর্তে ব্যাখ্যা, পরামর্শ এবং একাডেমিক নির্দেশনার মাধ্যমে ভুল সংশোধনের সংস্কৃতি গড়ে তোলা উচিত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি বানান ভুলের জন্য শত শত বার লিখতে বাধ্য করা শিক্ষার চেয়ে ভীতি ও মানসিক চাপ তৈরি করতে পারে, যা একটি আধুনিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাব্যবস্থার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।