বাংলাদেশে অ্যাকাডেমিক সহযোগিতা আরও জোরদার করতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে পাকিস্তান। এ লক্ষ্যে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) এবং পাকিস্তানের বিভিন্ন উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে শিক্ষা, গবেষণা ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। মঙ্গলবার (২১ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলামের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের হাই কমিশনার ইমরান হায়দারের সৌজন্য সাক্ষাতে এসব বিষয় উঠে আসে।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে উভয় পক্ষ শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, যৌথ গবেষণা, সেমিস্টার এক্সচেঞ্জ, যৌথ ডিগ্রি কর্মসূচি এবং বিভিন্ন একাডেমিক কার্যক্রম সম্প্রসারণের বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন। দুই দেশের উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধির মাধ্যমে জ্ঞানচর্চা ও গবেষণার নতুন সুযোগ তৈরি হবে বলে তারা আশা প্রকাশ করেন।
সাক্ষাৎকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কলা অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. মো. আবুল কালাম সরকার, উর্দু বিভাগের চেয়ারম্যান সহযোগী অধ্যাপক মো. গোলাম মাওলা, অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ গোলাম রব্বানী এবং পাকিস্তান হাই কমিশনের ডেপুটি হাই কমিশনার মোহাম্মদ ওয়াসিফ উপস্থিত ছিলেন।
সাক্ষাৎ শেষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ও পাকিস্তানের হাই কমিশনার বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগ পরিদর্শন করেন। এ সময় পাকিস্তান হাইকমিশনের সহযোগিতায় প্রতিষ্ঠিত কম্পিউটার ল্যাব ও সংস্কার করা শ্রেণিকক্ষ উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে ঢাবি উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ বি এম ওবায়দুল ইসলাম বলেন, ১৯২১ সালে প্রতিষ্ঠিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উর্দু বিভাগ একটি প্রাচীন ও ঐতিহ্যবাহী বিভাগ। দীর্ঘদিন ধরে বিভাগটি ভাষা, সাহিত্য ও সংস্কৃতি চর্চায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে। বর্তমানে এখানে স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ের শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।
উপাচার্য উর্দু বিভাগের উন্নয়নে সহযোগিতার জন্য পাকিস্তান হাইকমিশনকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের মধ্যে ঐতিহাসিক, সাংস্কৃতিক ও শিক্ষাগত সম্পর্ক আরও শক্তিশালী করতে পারস্পরিক সহযোগিতা এবং একাডেমিক বিনিময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
পাকিস্তানের হাই কমিশনার ইমরান হায়দার বলেন, উর্দু বিভাগের কম্পিউটার ল্যাব ও সংস্কারকৃত শ্রেণিকক্ষ উদ্বোধন শুধু অবকাঠামোগত উন্নয়ন নয়, বরং শিক্ষা, সংস্কৃতি ও তরুণ প্রজন্মের উন্নয়নে দুই দেশের যৌথ প্রচেষ্টার প্রতিফলন।
তিনি আরও বলেন, শিক্ষা পারস্পরিক বোঝাপড়া ও সম্পর্ক উন্নয়নের অন্যতম কার্যকর মাধ্যম। এ লক্ষ্যেই পাকিস্তান হাইকমিশন বিভিন্ন শিক্ষা ও একাডেমিক সহযোগিতা কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছে।
হাই কমিশনার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের জন্য পাকিস্তানের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথ গবেষণা, শিক্ষক-শিক্ষার্থী বিনিময়, সেমিস্টার এক্সচেঞ্জ, যৌথ ডিগ্রি এবং স্বল্পমেয়াদি প্রশিক্ষণ কর্মসূচির সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব উদ্যোগ দুই দেশের শিক্ষাক্ষেত্রে নতুন সুযোগ তৈরি করবে।



























