ঢাকা ০২:৩৪ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬, ৭ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চন্দনাইশে বন্যাদুর্গত রংমিস্ত্রিদের পাশে বাংলাদেশ রংমিস্ত্রি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ Logo জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য ফাঁস: প্রতারণার নতুন কৌশল সামনে Logo এস আলম গ্রুপ অর্থ পাচার, বিএফআইইউ প্রতিবেদনে চাঞ্চল্যকর তথ্য Logo টিস্যু কালচার চারা, দুর্দান্ত প্রযুক্তিতে বদলাচ্ছে বাণিজ্যিক কৃষি Logo রুনা লায়লার কনসার্ট এবার শুধু সংগীতের আসর নয়,একটি মানবিক উদ্যোগ। Logo ইরান যুদ্ধের খরচে চাপে পেন্টাগন, ৩ হাজার ৭৫০ কোটি ডলার ব্যয়ের দাবি Logo স্বর্ণের দাম বৃদ্ধি, আজ থেকে কার্যকর নতুন দর Logo ডলার রেট আজ: কত টাকায় মিলছে ডলার-ইউরো-রুপি? Logo ১৪ বছরের অভিনয় জীবনের সেরা স্বীকৃতি পেলেন ইয়ামি গৌতম Logo বিকালে বাবার দাফন শেষে রাতে ডিউটি, সকালে এইচএসসি পরীক্ষার হলে শিক্ষার্থী

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য ফাঁস: প্রতারণার নতুন কৌশল সামনে

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০১:৩৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬
  • ৫০৮

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের তথ্য ব্যবহার করে প্রতারণার অভিযোগ। ছবি: সংগৃহীত

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য ফাঁস নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে একটি প্রতারক চক্র অভিভাবকদের ফোন করছে। কখনো নিজেদের ডিবি পুলিশ, আবার কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তারা ভয় দেখিয়ে কিংবা মিথ্যা তথ্য দিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে।সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক শিক্ষার্থীর পরিবার একই ধরনের ফোন পেয়েছে। প্রতারকেরা শিক্ষার্থীর নাম, বিভাগ, ব্যাচ, এমনকি পারিবারিক তথ্যও সঠিকভাবে বলায় অনেক অভিভাবক প্রথমে বিষয়টি সত্য বলে বিশ্বাস করেন। এরপর বিকাশে টাকা পাঠাতে অথবা ব্যাংক হিসাব ও ওটিপি দিতে চাপ দেওয়া হয়। সচেতনতার কারণে অনেকেই শেষ মুহূর্তে প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পেলেও কয়েকটি পরিবার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

শুধু ভয় দেখানো নয়, উপবৃত্তি বা মেধাবৃত্তির টাকা দেওয়ার কথা বলে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, প্রতারকেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় জমা দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিল থাকা ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করেছে। ফলে তথ্য ফাঁসের উৎস নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রতারণায় ব্যবহৃত ফোন নম্বর সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় চক্রটিকে শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতিও চলছে। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলো তাদের পক্ষ থেকে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এলে কোনো অবস্থাতেই ওটিপি, ব্যাংক তথ্য, এটিএম কার্ডের ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা উচিত নয়। সন্দেহজনক কোনো কল পেলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। এতে প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।ঘটনাটি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, বরং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের সতর্কবার্তা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য ফাঁস নিয়ে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের শনাক্ত করা যেমন জরুরি, তেমনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন থাকাও এখন সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ। তথ্য সুরক্ষায় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগই এমন প্রতারণা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চন্দনাইশে বন্যাদুর্গত রংমিস্ত্রিদের পাশে বাংলাদেশ রংমিস্ত্রি শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন, চাল ও নগদ অর্থ বিতরণ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য ফাঁস: প্রতারণার নতুন কৌশল সামনে

Update Time : ০১:৩৩:০৮ অপরাহ্ন, বুধবার, ২২ জুলাই ২০২৬

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য ফাঁস নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করে একটি প্রতারক চক্র অভিভাবকদের ফোন করছে। কখনো নিজেদের ডিবি পুলিশ, আবার কখনো বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে তারা ভয় দেখিয়ে কিংবা মিথ্যা তথ্য দিয়ে টাকা আদায়ের চেষ্টা করছে।সাম্প্রতিক সময়ে একাধিক শিক্ষার্থীর পরিবার একই ধরনের ফোন পেয়েছে। প্রতারকেরা শিক্ষার্থীর নাম, বিভাগ, ব্যাচ, এমনকি পারিবারিক তথ্যও সঠিকভাবে বলায় অনেক অভিভাবক প্রথমে বিষয়টি সত্য বলে বিশ্বাস করেন। এরপর বিকাশে টাকা পাঠাতে অথবা ব্যাংক হিসাব ও ওটিপি দিতে চাপ দেওয়া হয়। সচেতনতার কারণে অনেকেই শেষ মুহূর্তে প্রতারণার শিকার হওয়া থেকে রক্ষা পেলেও কয়েকটি পরিবার আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েছে।

শুধু ভয় দেখানো নয়, উপবৃত্তি বা মেধাবৃত্তির টাকা দেওয়ার কথা বলে ব্যাংক অ্যাকাউন্টের তথ্য সংগ্রহ করেও অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। ভুক্তভোগীরা জানিয়েছেন, প্রতারকেরা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হওয়ার সময় জমা দেওয়া তথ্যের সঙ্গে মিল থাকা ব্যক্তিগত তথ্য ব্যবহার করেছে। ফলে তথ্য ফাঁসের উৎস নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন জানিয়েছে, বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রতারণায় ব্যবহৃত ফোন নম্বর সংগ্রহ করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সহযোগিতায় চক্রটিকে শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের সচেতন করতে সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের প্রস্তুতিও চলছে। যদিও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক দপ্তরগুলো তাদের পক্ষ থেকে তথ্য ফাঁসের অভিযোগ অস্বীকার করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অপরিচিত নম্বর থেকে ফোন এলে কোনো অবস্থাতেই ওটিপি, ব্যাংক তথ্য, এটিএম কার্ডের ছবি বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা উচিত নয়। সন্দেহজনক কোনো কল পেলে প্রথমে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন। এতে প্রতারণার ঝুঁকি অনেকটাই কমে আসে।ঘটনাটি শুধু একটি বিশ্ববিদ্যালয়ের নয়, বরং ব্যক্তিগত তথ্যের নিরাপত্তা নিয়ে বড় ধরনের সতর্কবার্তা। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় তথ্য ফাঁস নিয়ে ওঠা অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত এবং দোষীদের শনাক্ত করা যেমন জরুরি, তেমনি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সচেতন থাকাও এখন সবচেয়ে কার্যকর প্রতিরোধ। তথ্য সুরক্ষায় প্রশাসন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও সাধারণ মানুষের সমন্বিত উদ্যোগই এমন প্রতারণা রোধে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।