বিশ্বকাপ ২০২৬-এ দুর্দান্ত সূচনা করেছে সুইডেন। ৮ বছর পর বিশ্বকাপের মঞ্চে ফিরে তারা তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার জানান দিয়েছে। ইয়াসিন আয়ারির জোড়া গোলের সঙ্গে আলেক্সান্ডার ইসাক, ভিক্টর ইয়োকেরেশ ও মাতিয়াস সভেনবার্গ একটি করে গোল করে বড় জয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন।
দীর্ঘ বিরতির পর বিশ্বকাপে ফিরে সুইডেন যে আত্মবিশ্বাস নিয়ে খেলতে নেমেছিল, তার প্রতিফলন দেখা যায় ম্যাচের শুরু থেকেই। আক্রমণাত্মক ফুটবল, দ্রুত পাস আদান-প্রদান এবং প্রতিপক্ষের ওপর চাপ সৃষ্টি করে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিয়ে নেয় তারা।
ম্যাচের মাত্র সপ্তম মিনিটেই এগিয়ে যায় সুইডিশরা। একটি আক্রমণ ঠেকাতে তিউনিসিয়ার গোলরক্ষক বক্সের বাইরে এগিয়ে এলেও প্রথম শট প্রতিহত করার পর ফিরতি বলে ইয়াসিন আয়ারি আর কোনো ভুল করেননি। তার নেওয়া শট রক্ষণভাগকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়িয়ে যায়।
শুরুতেই গোল খেয়ে তিউনিসিয়া কিছুটা চাপে পড়ে গেলেও দ্রুত ম্যাচে ফেরার চেষ্টা করে। গোল হজম করার দুই মিনিট পরই সমতায় ফেরার সুযোগ তৈরি হয় তাদের সামনে। কিন্তু সুইডিশ গোলরক্ষক ক্রিস্টোফার নর্ডফেল্ড পরপর দুটি দুর্দান্ত সেভ করে দলকে বিপদমুক্ত করেন।
এই সেভগুলো সুইডেনের আত্মবিশ্বাস আরও বাড়িয়ে দেয়। ম্যাচের ২৯ মিনিটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন দলের অন্যতম তারকা আলেক্সান্ডার ইসাক। বাম প্রান্ত থেকে ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে নেওয়ার পর তার শক্তিশালী শট ডান পোস্ট ঘেঁষে জালে ঢুকে পড়ে।
২-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেলেও পুরোপুরি ভেঙে পড়েনি তিউনিসিয়া। তারা ধৈর্য ধরে সুযোগের অপেক্ষা করছিল। প্রথমার্ধের শেষদিকে সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচে ফেরার ইঙ্গিত দেয় আফ্রিকার প্রতিনিধিরা।
৪৩ মিনিটে ডান দিক থেকে ভেসে আসা একটি ক্রসে ওমার রেকিক দুর্দান্ত হেডে বল জালে পাঠান। এটি ছিল প্রথমার্ধে তিউনিসিয়ার লক্ষ্যে নেওয়া প্রথম শট। সেই এক শটই গোল হয়ে যাওয়ায় ২-১ ব্যবধানে বিরতিতে যায় দুই দল।
বিরতির পর ম্যাচে আরও উত্তেজনা দেখা যাবে বলে ধারণা করেছিলেন অনেকেই। কিন্তু দ্বিতীয়ার্ধে পুরোপুরি একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে সুইডেন। তিউনিসিয়ার রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাজে লাগিয়ে একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে ইউরোপের দলটি।
৬১ মিনিটে তিউনিসিয়ার ডিফেন্সের ভুল থেকে বল পেয়ে যান আলেক্সান্ডার ইসাক। তিনি দারুণভাবে বল বাড়িয়ে দেন ভিক্টর ইয়োকেরেশের কাছে। বক্সের ডান পাশ থেকে নেওয়া ইয়োকেরেশের নিখুঁত শট ঠেকাতে পারেননি গোলরক্ষক মুহিব শামাখ।
৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচ কার্যত নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেয় সুইডেন। তিউনিসিয়ার খেলোয়াড়দের মধ্যে তখন সমন্বয়ের অভাব স্পষ্ট হয়ে উঠতে থাকে। রক্ষণ ও মাঝমাঠের দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় বারবার সুযোগ তৈরি করতে থাকে সুইডিশরা।
এরপর বদলি হিসেবে মাঠে নামেন মাতিয়াস সভেনবার্গ এবং প্রথম স্পর্শেই গোল করে নিজের উপস্থিতি জানান দেন। ইয়াসিন আয়ারির পাস থেকে বল পেয়ে তিনি সহজেই জালে পাঠিয়ে দেন। যদিও প্রথমে অফসাইডের পতাকা ওঠে।
পরবর্তীতে ভিএআরের সাহায্যে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করা হয়। রিপ্লেতে দেখা যায়, বলটি সভেনবার্গের কাছে যাওয়ার আগে ইসাক স্পর্শ করেছিলেন এবং সংশ্লিষ্ট দুই খেলোয়াড়ই অনসাইডে ছিলেন। ফলে গোলটি বৈধ ঘোষণা করা হয় এবং ব্যবধান দাঁড়ায় ৪-১।
এরপরও থেমে থাকেনি সুইডেনের আক্রমণ। তারা আরও একটি গোলের সুযোগ তৈরি করেছিল, কিন্তু এবার দুর্দান্ত সেভ করে দলকে রক্ষা করেন তিউনিসিয়ার গোলরক্ষক মুহিব শামাখ। যদিও তার সেই প্রচেষ্টা শেষ পর্যন্ত বড় ব্যবধানের হার এড়াতে পারেনি।
ম্যাচের শেষ দিকে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করেন ইয়াসিন আয়ারি। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার দুর্দান্ত শট সরাসরি জালে গিয়ে জড়ায়। এই গোলের মাধ্যমে ব্যক্তিগতভাবে জোড়া গোল পূর্ণ করার পাশাপাশি দলের বড় জয়ও নিশ্চিত করেন তিনি।
এই জয় শুধু তিন পয়েন্ট এনে দেয়নি, বরং বিশ্বকাপের শুরুতেই সুইডেনকে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবেও প্রতিষ্ঠিত করেছে। দীর্ঘ আট বছরের অপেক্ষার পর ফিরে এমন পারফরম্যান্স নিঃসন্দেহে দলটির সমর্থকদের নতুন স্বপ্ন দেখাবে।
অন্যদিকে, তিউনিসিয়ার জন্য এটি ছিল হতাশাজনক এক শুরু। ২০২২ বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে হারিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করার স্মৃতি এবার কোনো কাজে আসেনি। সামনের ম্যাচগুলোতে টিকে থাকতে হলে তাদের রক্ষণভাগ ও সামগ্রিক পারফরম্যান্সে দ্রুত উন্নতি আনতেই হবে।























