স্পেনের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচের আগে আর্জেন্টিনার কাতার বিশ্বকাপের সেই ঐতিহাসিক হারকে সামনে এনে সতর্কবার্তা দিয়েছেন সৌদি আরবের প্রধান কোচ গিওরগিওস দোনিস। তিনি বলেছেন, ফুটবলে কোনো দলই অপরাজেয় নয় এবং বড় দলগুলোকেও হারানো সম্ভব।
আজ রাত ১০টায় আটলান্টায় মুখোমুখি হবে সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন স্পেন ও সৌদি আরব। দুই দলই প্রথম ম্যাচে জয় পায়নি, তাই নকআউটের স্বপ্ন বাঁচিয়ে রাখতে এই ম্যাচের গুরুত্ব অনেক বেশি।
সংবাদ সম্মেলনে দোনিস মনে করিয়ে দেন, ২০২২ সালের ২২ নভেম্বর কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনাকে হারিয়ে বিশ্ব ফুটবলে বড় চমক সৃষ্টি করেছিল সৌদি আরব। সেই স্মৃতি এখনো দলকে অনুপ্রাণিত করে বলে জানিয়েছেন তিনি।
দোনিস বলেন, ফুটবলের সৌন্দর্যই হলো এখানে অলৌকিক ঘটনা ঘটতে পারে। বিশ্বকাপসহ বিভিন্ন টুর্নামেন্টে বহুবার দেখা গেছে, ফেবারিট দল আন্ডারডগদের কাছে হেরে গেছে।
তিনি আরও বলেন, আর্জেন্টিনার বিপক্ষে পাওয়া সেই জয় সৌদি আরবের জন্য বিশেষ এক স্মৃতি। বিশ্বের অন্যতম সেরা দলের বিপক্ষে খেলার সুযোগ উপভোগ করাও গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেন তিনি।
তবে প্রতিপক্ষকে অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়ার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন এই গ্রিক কোচ। তাঁর মতে, সম্মান অবশ্যই দেখাতে হবে, কিন্তু সেই সম্মান যেন ভয় বা মানসিক চাপে পরিণত না হয়।
চলতি বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে কেপ ভার্দের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে হতাশ করেছে স্পেন। বলের দখল ধরে রাখলেও আক্রমণে কার্যকর হতে পারেনি ইউরোপের দলটি।
অন্যদিকে উরুগুয়ের বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে আত্মবিশ্বাস নিয়েই মাঠ ছেড়েছে সৌদি আরব। শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে সংগঠিত ফুটবল খেলে প্রশংসাও কুড়িয়েছে দলটি।
রবার্তো মানচিনি ও হার্ভে রেনারের অধ্যায় শেষ হওয়ার পর গত এপ্রিলে সৌদি আরবের দায়িত্ব নেন দোনিস। ২০৩৪ বিশ্বকাপের আয়োজক দেশ হিসেবে নিজেদের আরও প্রতিযোগিতামূলক করে তোলার লক্ষ্য নিয়েই তাঁর পথচলা শুরু হয়েছে।
যদিও আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ঐতিহাসিক জয়টি এসেছিল হার্ভে রেনারের সময়ে, তবুও সেই সাফল্যের মানসিক শক্তিকে কাজে লাগাতে চাইছেন বর্তমান কোচ। তাঁর বিশ্বাস, অতীতের অর্জন নতুন লড়াইয়ের সাহস যোগায়।
স্পেনের জন্য বড় স্বস্তির খবর হতে পারে লামিনে ইয়ামালের প্রত্যাবর্তন। হ্যামস্ট্রিংয়ের চোট কাটিয়ে তিনি ধীরে ধীরে পূর্ণ ফিটনেস ফিরে পাচ্ছেন।
প্রথম ম্যাচে তিনি শুধু দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে খেলেছিলেন। তবে আজকের ম্যাচে শুরুর একাদশে জায়গা পাওয়ার সম্ভাবনা বেশ জোরালো।
তবে পুরো নব্বই মিনিট মাঠে থাকার মতো অবস্থায় এখনো পৌঁছাননি ১৮ বছর বয়সী এই তারকা। তাই তাঁকে নিয়ে সতর্ক পরিকল্পনা করতে পারে স্পেনের কোচিং স্টাফ।
কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচে স্পষ্ট হয়েছে, ইয়ামালকে ছাড়া স্পেনের আক্রমণভাগ অনেকটাই নিষ্প্রভ হয়ে পড়ে। সৃজনশীলতা ও গতি—দুই ক্ষেত্রেই ঘাটতি দেখা যায়।
এ বিষয়টিকেই গুরুত্ব দিয়ে মন্তব্য করেছেন দোনিস। তাঁর মতে, ইয়ামাল বর্তমানে বিশ্বের সবচেয়ে বড় ফুটবল প্রতিভাদের একজন।
তিনি বলেন, ইয়ামাল বেঞ্চে থাকলে স্পেন আগের মতো থাকে না। এত কম বয়সে এত পরিণত ফুটবল খুব কম খেলোয়াড়কেই খেলতে দেখা যায়।
বার্সেলোনায় তিনি ধীরে ধীরে বড় দায়িত্ব কাঁধে তুলে নিচ্ছেন বলেও মন্তব্য করেন দোনিস। এমনকি মেসির রেখে যাওয়া জায়গা পূরণের পথে ইয়ামাল এগিয়ে যাচ্ছে বলেও তাঁর মূল্যায়ন।
এখন সবার নজর থাকবে মাঠের লড়াইয়ে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে তৈরি করা রূপকথার পুনরাবৃত্তি ঘটিয়ে সৌদি আরব আরেকটি ইতিহাস গড়তে পারে কি না, সেটিই দেখার অপেক্ষা।



























