মরক্কোর বিপক্ষে বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে প্রত্যাশিত জয় না পেলেও হতাশ নন ব্রাজিল কোচ কার্লো আনচেলত্তি। নিউ জার্সিতে অনুষ্ঠিত গ্রুপ ‘সি’-এর ম্যাচে ১-১ গোলে ড্র করার পর তিনি স্পষ্ট করে জানিয়েছেন, প্রথম ম্যাচের ফলাফল দিয়েই কোনো দলের বিশ্বকাপ ভাগ্য নির্ধারণ হয় না।
বিশ্বকাপে নিজেদের হেক্সা মিশন শুরু করতে নেমেছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। তবে আফ্রিকার অন্যতম শক্তিশালী দল মরক্কোর বিপক্ষে শুরু থেকেই ছন্দ খুঁজে পেতে সংগ্রাম করতে হয়েছে সেলেসাওদের। ম্যাচের বিভিন্ন সময় মরক্কোর সংগঠিত রক্ষণ ও দ্রুতগতির আক্রমণের সামনে চাপে ছিল ব্রাজিল।
ম্যাচের শুরু থেকেই ব্রাজিলের খেলায় কিছুটা অস্থিরতা লক্ষ্য করা যায়। বলের দখল ধরে রাখতে ব্যর্থ হওয়ার পাশাপাশি ব্যক্তিগত দ্বৈরথেও পিছিয়ে ছিল দলটি। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ম্যাচের শুরুতেই এগিয়ে যায় মরক্কো।
প্রথমার্ধে দারুণ এক আক্রমণ থেকে গোল করে দলকে লিড এনে দেন মরক্কোর তারকা সাইবিরি। গোল হজমের পর ব্রাজিলের ওপর চাপ আরও বেড়ে যায় এবং কয়েকটি মুহূর্তে তাদের রক্ষণভাগও বেশ নড়বড়ে দেখায়। মরক্কো ধারাবাহিকভাবে কাউন্টার অ্যাটাক থেকে বিপদ তৈরি করতে থাকে।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে আনচেলত্তি স্বীকার করেন, তার দল ভালোভাবে ম্যাচ শুরু করতে পারেনি। তিনি বলেন, খেলোয়াড়দের মধ্যে কিছুটা স্নায়ুচাপ কাজ করছিল এবং সে কারণেই তারা অস্বাভাবিকভাবে অনেক বল হারিয়েছে। বিশেষ করে প্রথমার্ধে দলের পারফরম্যান্সে তিনি সন্তুষ্ট ছিলেন না।
ব্রাজিল কোচের মতে, মরক্কো তাদের প্রেসিং ভেঙে বেশ কয়েকবার বিপজ্জনক আক্রমণ পরিচালনা করেছে। তিনি মনে করেন, বলের ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলে পরিস্থিতি ভিন্ন হতে পারত। তবে দ্বিতীয়ার্ধে দলের পারফরম্যান্সে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
কঠিন মুহূর্তে ব্রাজিলকে ম্যাচে ফেরান ভিনিসিয়ুস জুনিয়র। প্রথমার্ধেই ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে দুর্দান্ত এক গোল করে সমতা ফেরান রিয়াল মাদ্রিদের এই ফরোয়ার্ড। তার গোলেই নতুন করে ম্যাচে ফেরার সাহস পায় ব্রাজিল।
ভিনিসিয়ুসের প্রশংসা করতে গিয়ে আনচেলত্তি বলেন, প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগের জন্য তিনি সবসময়ই বড় হুমকি। তার ওপর পূর্ণ আস্থা রয়েছে বলে জানান অভিজ্ঞ এই কোচ। একই সঙ্গে তিনি বিশ্বাস করেন, টুর্নামেন্ট যত এগোবে ভিনিসিয়ুস ততই নিজের সেরাটা তুলে ধরবেন।
দ্বিতীয়ার্ধে ব্রাজিল তুলনামূলকভাবে বেশি সংগঠিত ফুটবল খেলেছে। মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে এবং আক্রমণেও বেশ কয়েকটি সুযোগ তৈরি করেছে। কিন্তু মরক্কোর দৃঢ় রক্ষণ ভাঙতে ব্যর্থ হওয়ায় শেষ পর্যন্ত জয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারেনি দক্ষিণ আমেরিকার দলটি।
ড্রয়ের ফলে গ্রুপ ‘সি’-তে ব্রাজিল ও মরক্কো উভয়ের সংগ্রহ এখন ১ পয়েন্ট। ফলে পরবর্তী ম্যাচগুলো দুই দলের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। নকআউট পর্বে যাওয়ার লড়াইয়ে প্রতিটি পয়েন্ট এখন মূল্যবান।
তবে ফলাফল নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ দেখছেন না আনচেলত্তি। সমালোচকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচে যেকোনো কিছু ঘটতে পারে এবং কোনো দলই শুরু থেকেই নিখুঁত ফুটবল খেলতে পারে না। তার মতে, আসল বিষয় হলো ধীরে ধীরে নিজেদের উন্নত করা এবং টুর্নামেন্টের গভীরে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হওয়া।
ব্রাজিল কোচের বিশ্বাস, এই ড্র থেকে শিক্ষা নিয়েই সামনে আরও শক্তিশালী হয়ে ফিরবে তার দল। বিশ্বকাপের পথ এখনো দীর্ঘ এবং শিরোপার লড়াইয়ে নিজেদের অবস্থান প্রমাণ করার জন্য সামনে অনেক সুযোগ রয়েছে। আগামী ম্যাচে হাইতির বিপক্ষে জয় তুলে নিয়ে সেই যাত্রাকে নতুন গতি দিতে চাইবে সেলেসাওরা।






















