ঢাকা ০২:৪১ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬, ১৪ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo দেশের ৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সার তৈরিতে ফ্রিল্যান্সার সামিটের উদ্যোগ Logo ১৪৪ ধারা জারি হবিগঞ্জে, এনসিপি-বিএনপির পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি Logo ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম পাকিস্তান: স্মরণীয় টেস্ট জয়ে সোবার্সকে বিশেষ শ্রদ্ধা Logo কুকুরেয়া ট্যাটু: বিশ্বকাপ জয়ের প্রতিশ্রুতির দুর্দান্ত গল্প Logo তাজা নাকি হিমায়িত ফল-সবজি, কোনটিতে বেশি পুষ্টিগুণ? Logo ব্রিকস সম্মেলন ২০২৬: দিল্লির আমন্ত্রণে বাংলাদেশের সিদ্ধান্ত, কী হতে পারে বড় বার্তা? Logo গিবত কেন বড় গুনাহ? বাঁচার ৭টি ইসলামী উপায় Logo পিসিওএস কী? নারীদের নীরব এই সমস্যার লক্ষণ, কারণ ও করণীয় Logo ২০২৭ হজ নিবন্ধন শুরু Logo সীতাকুণ্ডে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কে স্ক্র্যাপবাহী লরিতে হঠাৎ আগুন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম পাকিস্তান: স্মরণীয় টেস্ট জয়ে সোবার্সকে বিশেষ শ্রদ্ধা

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ১২:৫০:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫৩১

কিংবদন্তি গ্যারি সোবার্সের স্মরণে জয় উৎসর্গ ওয়েস্ট ইন্ডিজের। ছবি: সংগৃহীত

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম পাকিস্তান টেস্টে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে ২১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।

মাত্র ১২০ রানে অলআউট হয়ে ৯০ রানের ব্যবধানে হেরে যায় সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত বাবর আজম অপরাজিত থাকলেও অন্য প্রান্তে কোনো ব্যাটারই তাঁকে প্রয়োজনীয় সঙ্গ দিতে পারেননি।

এই জয়ের মাধ্যমে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একই সঙ্গে টানা চতুর্থ টেস্ট হারের হতাশা নিয়ে সিরিজের শেষ ম্যাচে নামতে হবে পাকিস্তানকে।

জেডন সিলসের আগুনঝরা বোলিং পাকিস্তানের ব্যাটিংকে গুঁড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে মোহাম্মদ আব্বাস পাঁচ উইকেট নিলেও তাঁর বোলিং দলকে হার থেকে বাঁচাতে পারেনি।

ম্যাচটির আবেগঘন দিক ছিল আরেকটি। কিংবদন্তি স্যার গারফিল্ড সোবার্সের জন্মদিনে পাওয়া এই জয় তাঁকে উৎসর্গ করেছে পুরো ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল।

অধিনায়ক রোস্টন চেজ বলেছেন, ম্যাচের আগেই সবাই ঠিক করেছিলেন জয় পেলে সেটি সোবার্সকে উৎসর্গ করবেন। শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতিও পূরণ হয়েছে।


ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম পাকিস্তান টেস্ট ম্যাচটি শুধু একটি জয়-পরাজয়ের গল্প নয়, বরং ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের গৌরব, পেস বোলিংয়ের আধিপত্য এবং কিংবদন্তি স্যার গারফিল্ড সোবার্সের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকবে।

ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তানের সামনে ছিল ২১১ রানের লক্ষ্য। চতুর্থ দিনের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন হয়ে ওঠায় লড়াই সহজ ছিল না। তবে পাকিস্তানের ব্যাটিং যে এত দ্রুত ভেঙে পড়বে, তা অনেকেই কল্পনা করেননি।

ইনিংসের শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। এক সময় মাত্র ৭১ রানেই ৯ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় তারা। শেষ উইকেটে বাবর আজম ও মোহাম্মদ আব্বাসের ৪৯ রানের জুটিতে একশ পেরোলেও হার এড়ানো সম্ভব হয়নি।

পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ৪০.২ ওভারে ১২০ রানে অলআউট হয়। বাবর আজম ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নামা মোহাম্মদ আব্বাস। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা শান মাসুদ চোট নিয়েও ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৩ রান করেন।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জেডন সিলস ২০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। জাস্টিন গ্রিভস ও কেমার রোচ দুটি করে উইকেট তুলে নেন। ক্যারিবিয়ান পেসারদের ধারাবাহিক আক্রমণে পাকিস্তানের ব্যাটাররা কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেননি।

এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৮১ রানে অলআউট হলেও প্রয়োজনীয় লিড তুলে নেয়। পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আব্বাস ২২ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন। দীর্ঘ সময় পর পাকিস্তানের পেসাররা প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখালেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় সেই সাফল্য ম্লান হয়ে যায়।

এই হারের ফলে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক টেস্ট পারফরম্যান্স আরও হতাশাজনক হয়ে উঠেছে। শেষ ১৭ টেস্টের মধ্যে তারা হেরেছে ১৩টিতে। বিদেশের মাটিতে এটি তাদের টানা অষ্টম পরাজয়। সর্বশেষ ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কায় টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছিল পাকিস্তান।

অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য জয়টি ছিল বিশেষ আবেগের। কারণ, ম্যাচটি জেতা হয়েছে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার স্যার গারফিল্ড সোবার্সের জন্মদিনে।

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক রোস্টন চেজ বলেন, পুরো দল আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, জয় পেলে সেটি সোবার্সকে উৎসর্গ করা হবে। তাঁর ভাষায়, এই কিংবদন্তি ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, সেই অবদানের প্রতি সম্মান জানাতেই এই উৎসর্গ।

চেজ আরও বলেন, আশা করি সোবার্স ওপর থেকে এই জয় দেখে খুশি হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ত্রিনিদাদের দর্শকদের ধন্যবাদ জানান পুরো ম্যাচে দলের পাশে থাকার জন্য।

এটি টেস্ট ইতিহাসেও একটি বিরল ম্যাচ। দুই দলের পেসাররাই ম্যাচের ৪০টি উইকেট ভাগ করে নিয়েছেন। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে এমন ঘটনা এই প্রথম, যা ম্যাচটিকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।

এখন সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে পোর্ট অব স্পেনে। সিরিজে সমতা ফেরাতে মরিয়া পাকিস্তান, আর সিরিজ নিশ্চিত করতে আত্মবিশ্বাসী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাই ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য আরেকটি জমজমাট লড়াই অপেক্ষা করছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

দেশের ৬৪ জেলায় ফ্রিল্যান্সার তৈরিতে ফ্রিল্যান্সার সামিটের উদ্যোগ

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম পাকিস্তান: স্মরণীয় টেস্ট জয়ে সোবার্সকে বিশেষ শ্রদ্ধা

Update Time : ১২:৫০:৩০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৯ জুলাই ২০২৬

ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম পাকিস্তান টেস্টে দুর্দান্ত এক জয় তুলে নিয়েছে ক্যারিবিয়ানরা। ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে ২১১ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে পাকিস্তানের ব্যাটিং লাইনআপ পুরোপুরি ভেঙে পড়ে।

মাত্র ১২০ রানে অলআউট হয়ে ৯০ রানের ব্যবধানে হেরে যায় সফরকারীরা। শেষ পর্যন্ত বাবর আজম অপরাজিত থাকলেও অন্য প্রান্তে কোনো ব্যাটারই তাঁকে প্রয়োজনীয় সঙ্গ দিতে পারেননি।

এই জয়ের মাধ্যমে দুই ম্যাচের সিরিজে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে গেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ। একই সঙ্গে টানা চতুর্থ টেস্ট হারের হতাশা নিয়ে সিরিজের শেষ ম্যাচে নামতে হবে পাকিস্তানকে।

জেডন সিলসের আগুনঝরা বোলিং পাকিস্তানের ব্যাটিংকে গুঁড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে মোহাম্মদ আব্বাস পাঁচ উইকেট নিলেও তাঁর বোলিং দলকে হার থেকে বাঁচাতে পারেনি।

ম্যাচটির আবেগঘন দিক ছিল আরেকটি। কিংবদন্তি স্যার গারফিল্ড সোবার্সের জন্মদিনে পাওয়া এই জয় তাঁকে উৎসর্গ করেছে পুরো ওয়েস্ট ইন্ডিজ দল।

অধিনায়ক রোস্টন চেজ বলেছেন, ম্যাচের আগেই সবাই ঠিক করেছিলেন জয় পেলে সেটি সোবার্সকে উৎসর্গ করবেন। শেষ পর্যন্ত সেই প্রতিশ্রুতিও পূরণ হয়েছে।


ওয়েস্ট ইন্ডিজ বনাম পাকিস্তান টেস্ট ম্যাচটি শুধু একটি জয়-পরাজয়ের গল্প নয়, বরং ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটের গৌরব, পেস বোলিংয়ের আধিপত্য এবং কিংবদন্তি স্যার গারফিল্ড সোবার্সের প্রতি গভীর শ্রদ্ধার প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকবে।

আরও পড়ুন  পাকিস্তানে এইচআইভি আক্রান্তের সংখ্যা নিয়ে নতুন তথ্য, চিকিৎসার বাইরে হাজারো রোগী

ত্রিনিদাদের ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত সিরিজের প্রথম টেস্টে পাকিস্তানের সামনে ছিল ২১১ রানের লক্ষ্য। চতুর্থ দিনের উইকেট ব্যাটিংয়ের জন্য কঠিন হয়ে ওঠায় লড়াই সহজ ছিল না। তবে পাকিস্তানের ব্যাটিং যে এত দ্রুত ভেঙে পড়বে, তা অনেকেই কল্পনা করেননি।

ইনিংসের শুরু থেকেই নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারাতে থাকে সফরকারীরা। এক সময় মাত্র ৭১ রানেই ৯ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে কার্যত ছিটকে যায় তারা। শেষ উইকেটে বাবর আজম ও মোহাম্মদ আব্বাসের ৪৯ রানের জুটিতে একশ পেরোলেও হার এড়ানো সম্ভব হয়নি।

পাকিস্তান শেষ পর্যন্ত ৪০.২ ওভারে ১২০ রানে অলআউট হয়। বাবর আজম ৫৮ রানে অপরাজিত থাকেন। দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ২৩ রান করেন ১১ নম্বরে ব্যাট করতে নামা মোহাম্মদ আব্বাস। প্রথম ইনিংসে সেঞ্চুরি করা শান মাসুদ চোট নিয়েও ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৩ রান করেন।

আরও পড়ুন  কারখানার কর্মী থেকে বিশ্বকাপের নায়ক, জার্মানির উন্দাভের অবিশ্বাস্য গল্প

ওয়েস্ট ইন্ডিজের হয়ে জেডন সিলস ২০ রানে ৫ উইকেট নিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন। জাস্টিন গ্রিভস ও কেমার রোচ দুটি করে উইকেট তুলে নেন। ক্যারিবিয়ান পেসারদের ধারাবাহিক আক্রমণে পাকিস্তানের ব্যাটাররা কোনো প্রতিরোধই গড়তে পারেননি।

এর আগে দ্বিতীয় ইনিংসে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ১৮১ রানে অলআউট হলেও প্রয়োজনীয় লিড তুলে নেয়। পাকিস্তানের হয়ে মোহাম্মদ আব্বাস ২২ রানে ৫ উইকেট শিকার করেন। দীর্ঘ সময় পর পাকিস্তানের পেসাররা প্রতিপক্ষের ২০ উইকেট নেওয়ার কৃতিত্ব দেখালেও ব্যাটিং ব্যর্থতায় সেই সাফল্য ম্লান হয়ে যায়।

এই হারের ফলে পাকিস্তানের সাম্প্রতিক টেস্ট পারফরম্যান্স আরও হতাশাজনক হয়ে উঠেছে। শেষ ১৭ টেস্টের মধ্যে তারা হেরেছে ১৩টিতে। বিদেশের মাটিতে এটি তাদের টানা অষ্টম পরাজয়। সর্বশেষ ২০২৩ সালে শ্রীলঙ্কায় টেস্ট জয়ের স্বাদ পেয়েছিল পাকিস্তান।

অন্যদিকে ওয়েস্ট ইন্ডিজের জন্য জয়টি ছিল বিশেষ আবেগের। কারণ, ম্যাচটি জেতা হয়েছে ক্রিকেট ইতিহাসের অন্যতম সেরা অলরাউন্ডার স্যার গারফিল্ড সোবার্সের জন্মদিনে।

আরও পড়ুন  কাশ্মীর ইস্যু নিয়ে জাতিসংঘে পাকিস্তানের নতুন দাবি নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা

ম্যাচ শেষে অধিনায়ক রোস্টন চেজ বলেন, পুরো দল আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছিল, জয় পেলে সেটি সোবার্সকে উৎসর্গ করা হবে। তাঁর ভাষায়, এই কিংবদন্তি ক্যারিবিয়ান ক্রিকেটকে যে উচ্চতায় নিয়ে গেছেন, সেই অবদানের প্রতি সম্মান জানাতেই এই উৎসর্গ।

চেজ আরও বলেন, আশা করি সোবার্স ওপর থেকে এই জয় দেখে খুশি হয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি ত্রিনিদাদের দর্শকদের ধন্যবাদ জানান পুরো ম্যাচে দলের পাশে থাকার জন্য।

এটি টেস্ট ইতিহাসেও একটি বিরল ম্যাচ। দুই দলের পেসাররাই ম্যাচের ৪০টি উইকেট ভাগ করে নিয়েছেন। ক্যারিবিয়ান অঞ্চলে এমন ঘটনা এই প্রথম, যা ম্যাচটিকে আরও স্মরণীয় করে তুলেছে।

এখন সিরিজের দ্বিতীয় ও শেষ টেস্ট অনুষ্ঠিত হবে পোর্ট অব স্পেনে। সিরিজে সমতা ফেরাতে মরিয়া পাকিস্তান, আর সিরিজ নিশ্চিত করতে আত্মবিশ্বাসী ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাই ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য আরেকটি জমজমাট লড়াই অপেক্ষা করছে।