ঢাকা ১১:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

সাবাহ এফকে: ৯ বছরে আজারবাইজান থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:২০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
  • ৫১৮

প্রথমবারের মতো চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলছে সাবাহ এফকে। ছবি: সংগৃহীত

সাবাহ এফকে-এর গল্পটা অনেকটা শূন্য থেকে শিখরে ওঠার মতো। মাত্র নয় বছর আগে প্রতিষ্ঠিত আজারবাইজানের এই ক্লাব এখন ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার সুযোগ পেয়েছে। এমন উত্থান ফুটবলের পাশাপাশি স্বপ্ন দেখা মানুষদেরও অনুপ্রেরণা দিতে পারে।

২০১৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে ক্লাবটির যাত্রা শুরু হয়। উদ্যোক্তা ইয়াকুব হুসেইনভ তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ব্রিজেস গ্রুপ অব কোম্পানিজের মাধ্যমে সাবাহ এফকে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রশাসনিক কাঠামোতেও করপোরেট জগতের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিদের যুক্ত করা হয়। ক্লাবটির ডাকনাম ‘দ্য আউলস’ বা পেঁচার দল।

প্রতিষ্ঠার পর প্রথম মৌসুমেই সাবাহ আজারবাইজানের দ্বিতীয় স্তরের লিগে পঞ্চম স্থান অর্জন করে। সরাসরি প্রিমিয়ার লিগে ওঠার মতো ফল ছিল না সেটি। তবে লাইসেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে অন্য কয়েকটি দল প্রয়োজনীয় আর্থিক, প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত শর্ত পূরণ করতে না পারায় সুযোগ আসে সাবাহর সামনে। সব যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হয়ে তারা সরাসরি শীর্ষ লিগে জায়গা করে নেয়।

ফিনল্যান্ডের কুপিও শহরে সাবাহ এফকের ফুটবলাররা
ইউরোপিয়ান অভিযানে ফিনল্যান্ডের কুপিও শহরে সাবাহর ফুটবলাররা। ছবি: সংগৃহীত

প্রিমিয়ার লিগে ওঠার পর প্রথম কয়েক মৌসুমে খুব দ্রুত বড় সাফল্য আসেনি। সপ্তম, ষষ্ঠ ও পঞ্চম স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করে দলটি। তবে মাঠের বাইরের অগ্রগতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংক রিপাবলিকার সঙ্গে স্পনসরশিপ চুক্তির মাধ্যমে ক্লাবের বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হয়। তাদের ঘরের মাঠ আলিনজা অ্যারেনার নামও বদলে রাখা হয় ব্যাংক রিপাবলিকা অ্যারেনা।

এরপর সাবাহ এফকে ধীরে ধীরে আজারবাইজানের শীর্ষ ক্লাবগুলোর কাতারে উঠে আসে। ২০২২-২৩ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে রানার্সআপ হয় তারা। চ্যাম্পিয়ন কারাবাগের চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকলেও এই ফলই সাবাহকে প্রথমবার ইউরোপিয়ান ক্লাব প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ এনে দেয়। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে স্থানীয় লিগ থেকে ইউরোপের মঞ্চে ওঠা ছিল বড় অর্জন।

চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেকের আগে অবশ্য সাবাহকে নিয়ে বড় প্রত্যাশা করার সুযোগ কম। বিশাল বাজেটের ক্লাবগুলোর তুলনায় তাদের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত। এমনকি দলটির পুরো স্কোয়াডের মূল্যও ইউরোপের বড় তারকাদের একজনের বার্ষিক আয়ের কাছাকাছি। তবু ফুটবলে অর্থই শেষ কথা নয়। নয় বছরের এই পথচলা প্রমাণ করে, পরিকল্পনা, বিনিয়োগ, ধৈর্য ও ধারাবাহিক চেষ্টা থাকলে ছোট জায়গা থেকেও বড় স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

জনপ্রিয় সংবাদ

সুন্দরবনের ‘নানা ভাই’ বাহিনীর প্রধানসহ ১২ বনদস্যুর আত্মসমর্পণ

সাবাহ এফকে: ৯ বছরে আজারবাইজান থেকে চ্যাম্পিয়নস লিগে

Update Time : ০৮:২০:১৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬

সাবাহ এফকে-এর গল্পটা অনেকটা শূন্য থেকে শিখরে ওঠার মতো। মাত্র নয় বছর আগে প্রতিষ্ঠিত আজারবাইজানের এই ক্লাব এখন ইউরোপের সবচেয়ে মর্যাদাপূর্ণ ক্লাব প্রতিযোগিতা চ্যাম্পিয়নস লিগে খেলার সুযোগ পেয়েছে। এমন উত্থান ফুটবলের পাশাপাশি স্বপ্ন দেখা মানুষদেরও অনুপ্রেরণা দিতে পারে।

২০১৭ সালের ৮ সেপ্টেম্বর আজারবাইজানের রাজধানী বাকুতে ক্লাবটির যাত্রা শুরু হয়। উদ্যোক্তা ইয়াকুব হুসেইনভ তাঁর ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান ব্রিজেস গ্রুপ অব কোম্পানিজের মাধ্যমে সাবাহ এফকে প্রতিষ্ঠা করেন। প্রশাসনিক কাঠামোতেও করপোরেট জগতের পাশাপাশি ক্রীড়াঙ্গনের পরিচিত ব্যক্তিদের যুক্ত করা হয়। ক্লাবটির ডাকনাম ‘দ্য আউলস’ বা পেঁচার দল।

আরও পড়ুন  লামিন ইয়ামালের শৈশব: দাদির ত্যাগে গড়ে ওঠা বার্সেলোনা তারকার গল্প

প্রতিষ্ঠার পর প্রথম মৌসুমেই সাবাহ আজারবাইজানের দ্বিতীয় স্তরের লিগে পঞ্চম স্থান অর্জন করে। সরাসরি প্রিমিয়ার লিগে ওঠার মতো ফল ছিল না সেটি। তবে লাইসেন্সিংয়ের ক্ষেত্রে অন্য কয়েকটি দল প্রয়োজনীয় আর্থিক, প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত শর্ত পূরণ করতে না পারায় সুযোগ আসে সাবাহর সামনে। সব যাচাইয়ে উত্তীর্ণ হয়ে তারা সরাসরি শীর্ষ লিগে জায়গা করে নেয়।

ফিনল্যান্ডের কুপিও শহরে সাবাহ এফকের ফুটবলাররা
ইউরোপিয়ান অভিযানে ফিনল্যান্ডের কুপিও শহরে সাবাহর ফুটবলাররা। ছবি: সংগৃহীত

প্রিমিয়ার লিগে ওঠার পর প্রথম কয়েক মৌসুমে খুব দ্রুত বড় সাফল্য আসেনি। সপ্তম, ষষ্ঠ ও পঞ্চম স্থানে থেকে মৌসুম শেষ করে দলটি। তবে মাঠের বাইরের অগ্রগতি ছিল গুরুত্বপূর্ণ। ব্যাংক রিপাবলিকার সঙ্গে স্পনসরশিপ চুক্তির মাধ্যমে ক্লাবের বিনিয়োগ ও বাণিজ্যিক কার্যক্রম আরও শক্তিশালী হয়। তাদের ঘরের মাঠ আলিনজা অ্যারেনার নামও বদলে রাখা হয় ব্যাংক রিপাবলিকা অ্যারেনা।

আরও পড়ুন  ৮৮ বছরের রেকর্ড ধরে রাখতে মরক্কোর বিপক্ষে ব্রাজিল

এরপর সাবাহ এফকে ধীরে ধীরে আজারবাইজানের শীর্ষ ক্লাবগুলোর কাতারে উঠে আসে। ২০২২-২৩ মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে রানার্সআপ হয় তারা। চ্যাম্পিয়ন কারাবাগের চেয়ে ৯ পয়েন্ট পিছিয়ে থাকলেও এই ফলই সাবাহকে প্রথমবার ইউরোপিয়ান ক্লাব প্রতিযোগিতায় খেলার সুযোগ এনে দেয়। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে স্থানীয় লিগ থেকে ইউরোপের মঞ্চে ওঠা ছিল বড় অর্জন।

চ্যাম্পিয়নস লিগে অভিষেকের আগে অবশ্য সাবাহকে নিয়ে বড় প্রত্যাশা করার সুযোগ কম। বিশাল বাজেটের ক্লাবগুলোর তুলনায় তাদের আর্থিক সামর্থ্য সীমিত। এমনকি দলটির পুরো স্কোয়াডের মূল্যও ইউরোপের বড় তারকাদের একজনের বার্ষিক আয়ের কাছাকাছি। তবু ফুটবলে অর্থই শেষ কথা নয়। নয় বছরের এই পথচলা প্রমাণ করে, পরিকল্পনা, বিনিয়োগ, ধৈর্য ও ধারাবাহিক চেষ্টা থাকলে ছোট জায়গা থেকেও বড় স্বপ্নের দিকে এগিয়ে যাওয়া সম্ভব।

আরও পড়ুন  সাবাহ এফকে: চ্যাম্পিয়নস লিগে অজানা উত্থানের গল্প