ইউক্রেনের কর্মকর্তাদের মতে, সাম্প্রতিক মাসগুলোতে রাশিয়া ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার ধরনেও পরিবর্তন এনেছে। একসঙ্গে বিপুল সংখ্যক ড্রোন এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চাপে ফেলার কৌশল নেওয়া হয়েছে। এতে প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা অনেক ক্ষেত্রে কার্যকর থাকলেও সব হামলা প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে না। ফলে রাজধানী কিয়েভসহ বিভিন্ন শহরে সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
সামরিক বিশ্লেষকদের ধারণা, যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাই ইউক্রেনের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে বিদ্যুৎকেন্দ্র, জ্বালানি অবকাঠামো, সামরিক ঘাঁটি এবং আবাসিক এলাকাকে রক্ষায় আধুনিক প্রতিরক্ষা প্রযুক্তির বিকল্প নেই। তাই প্যাট্রিয়টের মতো উন্নত ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহে ন্যাটো দেশগুলোর দ্রুত সিদ্ধান্ত যুদ্ধের পরিস্থিতিতে বড় পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের পাল্টা ড্রোন হামলাও রাশিয়ার ভেতরে চাপ সৃষ্টি করছে। সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন তেল শোধনাগার, সামরিক স্থাপনা ও সরবরাহ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলার ফলে কিছু অঞ্চলে জ্বালানি সরবরাহে বিঘ্ন এবং বিদ্যুৎ সমস্যার খবর সামনে এসেছে। যদিও এসব হামলার ক্ষয়ক্ষতি নিয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও স্থানীয় প্রতিবেদনগুলো পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।
জেলেনস্কি মনে করেন, যুদ্ধের এই পর্যায়ে শুধু সামরিক সহায়তা নয়, রাজনৈতিক ঐক্যও সমান গুরুত্বপূর্ণ। তিনি ন্যাটো ও ইউরোপীয় মিত্রদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, ইউক্রেনকে সহায়তা অব্যাহত থাকলে রাশিয়ার ওপর কূটনৈতিক চাপ আরও বাড়বে এবং শান্তি আলোচনার সম্ভাবনাও জোরালো হতে পারে। তার ভাষায়, যুদ্ধের অবসান ঘটাতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত অবস্থানই এখন সবচেয়ে কার্যকর পথ।
বিশ্লেষকদের মতে, আগামী কয়েক সপ্তাহ ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর সিদ্ধান্ত, যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান এবং নতুন সামরিক সহায়তার পরিমাণ যুদ্ধের ভবিষ্যৎ গতিপথ নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে। একই সঙ্গে রাশিয়ার হামলার তীব্রতা এবং ইউক্রেনের প্রতিরোধ সক্ষমতার ওপরও পরিস্থিতির পরিবর্তন অনেকটাই নির্ভর করবে।
সব মিলিয়ে, ন্যাটো সহায়তা এখন ইউক্রেনের জন্য শুধু সামরিক সহযোগিতার বিষয় নয়, বরং লাখো বেসামরিক মানুষের জীবন রক্ষা এবং দেশের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো টিকিয়ে রাখার অন্যতম প্রধান শর্ত হিসেবে দেখা হচ্ছে। তাই আসন্ন ন্যাটো বৈঠক এবং আন্তর্জাতিক নেতাদের আলোচনার ফলাফলের দিকে নজর রাখছে পুরো বিশ্ব।




























