ঢাকা ০৩:৩৪ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২৬, ২৩ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

বিশ্বকাপ না জিতেও আক্ষেপ নেই রোনালদোর, ইউরোই তার বিশ্বকাপ

রোনালদোর ইউরোই বিশ্বকাপ

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ হলো না ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর। স্পেনের কাছে শেষ ষোলোতে ১-০ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। তবে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা হিসেবে বিশ্বকাপ না জেতাকে দেখছেন না পর্তুগিজ অধিনায়ক। তার মতে, ২০১৬ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অর্জন বিশ্বকাপ জয়ের সমান মূল্য বহন করে।

ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে পর্তুগাল দীর্ঘ সময় স্পেনকে রুখে দিলেও শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়াতে পারেনি। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের স্টপেজ টাইমে মিকেল মেরিনোর করা একমাত্র গোলেই জয় নিশ্চিত করে স্পেন। সেই গোলের সঙ্গে শেষ হয়ে যায় পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযানও।

ম্যাচটির আগে রোনালদো নিজেই জানিয়েছিলেন, এটিই তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। ফলে পর্তুগালের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে বিশ্বকাপ ট্রফি না জেতার বিষয়টি। তবে স্পেনের বিপক্ষে হারের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, বিশ্বকাপ না জেতার জন্য তার কোনো আক্ষেপ নেই।

রোনালদো বলেন, “পর্তুগালের হয়ে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয় এবং সেই ট্রফিটি আমার কাছে বিশ্বকাপের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ।” তার এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ফুটবল অঙ্গনে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রায় ২৩ বছরের দীর্ঘ পথচলায় পর্তুগালের জার্সিতে অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন রোনালদো। জাতীয় দলের হয়ে তিনি জিতেছেন ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০১৯ সালের উয়েফা নেশনস লিগ এবং ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগ শিরোপা। এই তিনটি ট্রফিকেই তিনি নিজের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখেন।

বিশ্বকাপের মঞ্চে অবশ্য প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পাননি রোনালদো। ২০০৬ সালে নিজের প্রথম বিশ্বকাপে পর্তুগালকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। সেটিই এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে তার সেরা সাফল্য। এরপর একাধিক আসরে অংশ নিলেও আর কখনও শেষ চার নিশ্চিত করতে পারেনি পর্তুগাল।

স্পেনের বিপক্ষে বিদায়ের পরও নিজের পারফরম্যান্স বা ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশ নন রোনালদো। তিনি বলেন, “আগামীকাল আমি পরিষ্কার বিবেক নিয়ে ঘুম থেকে উঠব। কারণ আমি নিজের সর্বস্ব দিয়ে খেলেছি। আমি পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি। ক্রিস্তিয়ানোর অভিষেকের আগে পর্তুগাল কোনো শিরোপাই জেতেনি।”

ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অনেকেই জানতে চান, পর্তুগালের জার্সিতে এটিই কি তার শেষ ম্যাচ ছিল? তবে এই বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে রাজি নন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলার।

রোনালদো স্পষ্ট করে বলেন, “আমি আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিই না। আমি খেলা চালিয়ে যাব কি না, তা এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ নয়।” তার এই মন্তব্যে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে আরও কিছুটা সময় নিতে চান তিনি।

বিশ্বকাপ ট্রফি অধরা থাকলেও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল খেলোয়াড় হিসেবে নিজের অবস্থান অনেক আগেই নিশ্চিত করেছেন রোনালদো। আর তার কাছে ২০১৬ সালের ইউরো জয়ই এমন এক স্মৃতি, যা বিশ্বকাপ না জেতার আক্ষেপকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

২১ বছর আগের সেই গোল, মিশরের বিপক্ষে মেসির মহাকাব্যের শুরু

বিশ্বকাপ না জিতেও আক্ষেপ নেই রোনালদোর, ইউরোই তার বিশ্বকাপ

Update Time : ১২:৪৮:২৭ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ৭ জুলাই ২০২৬

বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন পূরণ হলো না ক্রিস্তিয়ানো রোনালদোর। স্পেনের কাছে শেষ ষোলোতে ১-০ গোলে হেরে ২০২৬ বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিয়েছে পর্তুগাল। তবে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় অপূর্ণতা হিসেবে বিশ্বকাপ না জেতাকে দেখছেন না পর্তুগিজ অধিনায়ক। তার মতে, ২০১৬ সালে ইউরো চ্যাম্পিয়ন হওয়ার অর্জন বিশ্বকাপ জয়ের সমান মূল্য বহন করে।

ডালাস স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত ম্যাচটিতে পর্তুগাল দীর্ঘ সময় স্পেনকে রুখে দিলেও শেষ পর্যন্ত পরাজয় এড়াতে পারেনি। ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধের স্টপেজ টাইমে মিকেল মেরিনোর করা একমাত্র গোলেই জয় নিশ্চিত করে স্পেন। সেই গোলের সঙ্গে শেষ হয়ে যায় পর্তুগালের বিশ্বকাপ অভিযানও।

ম্যাচটির আগে রোনালদো নিজেই জানিয়েছিলেন, এটিই তার ক্যারিয়ারের শেষ বিশ্বকাপ। ফলে পর্তুগালের বিদায়ের সঙ্গে সঙ্গে আলোচনায় উঠে আসে বিশ্বকাপ ট্রফি না জেতার বিষয়টি। তবে স্পেনের বিপক্ষে হারের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি জানান, বিশ্বকাপ না জেতার জন্য তার কোনো আক্ষেপ নেই।

আরও পড়ুন  ৮ বছর পর ফিরেই তিউনিসিয়াকে ৫-১ গোলে বিধ্বস্ত করল সুইডেন

রোনালদো বলেন, “পর্তুগালের হয়ে আমার সবচেয়ে বড় অর্জন হলো ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয় এবং সেই ট্রফিটি আমার কাছে বিশ্বকাপের মতোই সমান গুরুত্বপূর্ণ।” তার এই মন্তব্য নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে ফুটবল অঙ্গনে।

আন্তর্জাতিক ফুটবলে প্রায় ২৩ বছরের দীর্ঘ পথচলায় পর্তুগালের জার্সিতে অসংখ্য রেকর্ড গড়েছেন রোনালদো। জাতীয় দলের হয়ে তিনি জিতেছেন ২০১৬ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ, ২০১৯ সালের উয়েফা নেশনস লিগ এবং ২০২৫ সালের উয়েফা নেশনস লিগ শিরোপা। এই তিনটি ট্রফিকেই তিনি নিজের ক্যারিয়ারের গুরুত্বপূর্ণ অর্জন হিসেবে দেখেন।

আরও পড়ুন  রোনালদো কেন সাংবাদিককে বললেন ‘ভালো প্রশ্ন করুন'?

বিশ্বকাপের মঞ্চে অবশ্য প্রত্যাশা অনুযায়ী সাফল্য পাননি রোনালদো। ২০০৬ সালে নিজের প্রথম বিশ্বকাপে পর্তুগালকে সেমিফাইনালে তুলেছিলেন তিনি। সেটিই এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপে তার সেরা সাফল্য। এরপর একাধিক আসরে অংশ নিলেও আর কখনও শেষ চার নিশ্চিত করতে পারেনি পর্তুগাল।

স্পেনের বিপক্ষে বিদায়ের পরও নিজের পারফরম্যান্স বা ক্যারিয়ার নিয়ে হতাশ নন রোনালদো। তিনি বলেন, “আগামীকাল আমি পরিষ্কার বিবেক নিয়ে ঘুম থেকে উঠব। কারণ আমি নিজের সর্বস্ব দিয়ে খেলেছি। আমি পর্তুগালের হয়ে তিনটি শিরোপা জিতেছি। ক্রিস্তিয়ানোর অভিষেকের আগে পর্তুগাল কোনো শিরোপাই জেতেনি।”

ম্যাচ শেষে স্বাভাবিকভাবেই তার ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন ওঠে। অনেকেই জানতে চান, পর্তুগালের জার্সিতে এটিই কি তার শেষ ম্যাচ ছিল? তবে এই বিষয়ে এখনই কোনো সিদ্ধান্ত জানাতে রাজি নন ৪১ বছর বয়সী এই তারকা ফুটবলার।

আরও পড়ুন  রোনালদোর শেষ বিশ্বকাপ মহারণ? পর্তুগাল-স্পেন ম্যাচে চোখ বিশ্বজুড়ে

রোনালদো স্পষ্ট করে বলেন, “আমি আবেগের বশবর্তী হয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নিই না। আমি খেলা চালিয়ে যাব কি না, তা এই মুহূর্তে গুরুত্বপূর্ণ নয়।” তার এই মন্তব্যে বোঝা যায়, আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে অবসর নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাতে আরও কিছুটা সময় নিতে চান তিনি।

বিশ্বকাপ ট্রফি অধরা থাকলেও ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সফল খেলোয়াড় হিসেবে নিজের অবস্থান অনেক আগেই নিশ্চিত করেছেন রোনালদো। আর তার কাছে ২০১৬ সালের ইউরো জয়ই এমন এক স্মৃতি, যা বিশ্বকাপ না জেতার আক্ষেপকে অনেকটাই ম্লান করে দিয়েছে।