ঢাকা ১১:২৭ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ০৯ জুলাই ২০২৬, ২৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বড় সংকটে প্লাস্টিক খাত, বিক্রি কমে বাড়ছে উৎপাদন খরচ

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৮:২৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬
  • ৫১২

উৎপাদন ব্যয় বাড়লেও কমছে প্লাস্টিক পণ্যের চাহিদা। ছবি: সংগৃহীত

প্লাস্টিক খাত এখন একসঙ্গে দুই ধরনের সংকটের মুখে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, অন্যদিকে দেশে কমেছে পণ্যের চাহিদা। ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলেও বিক্রি কমে যাওয়ায় আর্থিক চাপের মধ্যে পড়েছে দেশের প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্প।

বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর আগে প্লাস্টিকের কাঁচামাল প্রতি টন ৮০০ থেকে ৯০০ মার্কিন ডলারে আমদানি করা যেত। বর্তমানে সেই একই কাঁচামালের দাম বেড়ে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। কাঁচামালের এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পের বার্ষিক বাজার প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। আগে প্রতি মাসে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে গেছে। কিছু কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে চাহিদা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে প্যাকেজিং খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বিপিজিএমইএর সভাপতি শামীম আহমেদের ভাষ্য, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ডিটারজেন্ট, খাদ্যপণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রীসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের বিক্রি কমেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পে। কারণ প্লাস্টিক নিজে চূড়ান্ত পণ্য নয়; এটি বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

বর্তমানে দেশে প্রায় ৬ হাজার প্লাস্টিক কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কারখানা পোশাক, ওষুধ, খাদ্য, পানীয়সহ বিভিন্ন শিল্পে প্রয়োজনীয় প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং পণ্য সরবরাহ করে। তাই এই খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হলে এর প্রভাব দেশের সামগ্রিক শিল্প ও অর্থনীতিতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রে চালানের প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য ধরে শুল্ক নির্ধারণ করছে। এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে উৎপাদন খরচ প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়লেও বাজার পরিস্থিতির কারণে সেই বাড়তি ব্যয় পুরোপুরি ভোক্তাদের ওপর চাপানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে লাভ কমে গিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

বড় সংকটে প্লাস্টিক খাত, বিক্রি কমে বাড়ছে উৎপাদন খরচ

Update Time : ০৮:২৬:৩৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৯ জুলাই ২০২৬

প্লাস্টিক খাত এখন একসঙ্গে দুই ধরনের সংকটের মুখে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে, অন্যদিকে দেশে কমেছে পণ্যের চাহিদা। ফলে উৎপাদন ব্যয় বেড়ে গেলেও বিক্রি কমে যাওয়ায় আর্থিক চাপের মধ্যে পড়েছে দেশের প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্প।

বাংলাদেশ প্লাস্টিক দ্রব্য প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক অ্যাসোসিয়েশনের (বিপিজিএমইএ) তথ্য অনুযায়ী, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত শুরুর আগে প্লাস্টিকের কাঁচামাল প্রতি টন ৮০০ থেকে ৯০০ মার্কিন ডলারে আমদানি করা যেত। বর্তমানে সেই একই কাঁচামালের দাম বেড়ে ১ হাজার ৫০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে। কাঁচামালের এই মূল্যবৃদ্ধির কারণে উৎপাদন ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

আরও পড়ুন  যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনায় অগ্রগতি, যুদ্ধ শেষের নতুন আশা

শিল্পসংশ্লিষ্টরা জানান, দেশে প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পের বার্ষিক বাজার প্রায় ৬০ হাজার কোটি টাকা। আগে প্রতি মাসে প্রায় ৫ হাজার কোটি টাকার পণ্য বিক্রি হলেও বর্তমানে বিক্রি প্রায় ২৫ শতাংশ কমে গেছে। কিছু কিছু পণ্যের ক্ষেত্রে চাহিদা ৪০ শতাংশ পর্যন্ত হ্রাস পেয়েছে। বিশেষ করে প্যাকেজিং খাত সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে।

বিপিজিএমইএর সভাপতি শামীম আহমেদের ভাষ্য, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ায় ডিটারজেন্ট, খাদ্যপণ্য, গৃহস্থালি সামগ্রীসহ বিভিন্ন ভোগ্যপণ্যের বিক্রি কমেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং শিল্পে। কারণ প্লাস্টিক নিজে চূড়ান্ত পণ্য নয়; এটি বিভিন্ন শিল্পের উৎপাদন প্রক্রিয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপাদান।

আরও পড়ুন  আওয়ামী লীগের লুটপাটে শূন্য থেকে শুরু বিএনপি সরকারের ,মির্জা ফখরুলের দাবি

বর্তমানে দেশে প্রায় ৬ হাজার প্লাস্টিক কারখানা রয়েছে। এর মধ্যে প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কারখানা পোশাক, ওষুধ, খাদ্য, পানীয়সহ বিভিন্ন শিল্পে প্রয়োজনীয় প্লাস্টিক ও প্যাকেজিং পণ্য সরবরাহ করে। তাই এই খাতে দীর্ঘমেয়াদি সংকট তৈরি হলে এর প্রভাব দেশের সামগ্রিক শিল্প ও অর্থনীতিতেও পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

এদিকে ব্যবসায়ীরা অভিযোগ করেছেন, কাস্টমস কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রে চালানের প্রকৃত মূল্যের চেয়ে বেশি মূল্য ধরে শুল্ক নির্ধারণ করছে। এতে উৎপাদন ব্যয় আরও বেড়ে যাচ্ছে। অন্যদিকে উৎপাদন খরচ প্রায় ৩০ শতাংশ বাড়লেও বাজার পরিস্থিতির কারণে সেই বাড়তি ব্যয় পুরোপুরি ভোক্তাদের ওপর চাপানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে লাভ কমে গিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান টিকে থাকার লড়াই চালিয়ে যাচ্ছে।

আরও পড়ুন  ইরানের নতুন প্রস্তাব: হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া ও পারমাণবিক আলোচনা স্থগিতের পরিকল্পনা