ঢাকা ১২:৩৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৭ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ড্রেন হয়েছে, দুর্ভোগ কমেনি- সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবছে খুলনা

বৃষ্টির পানিতে তলিয়ে গেছে খুলনা নগরীর প্রধান সড়ক। ছবি: সংগৃহীত

খুলনা নগরী এর চিরচেনা ছন্দ সামান্য বৃষ্টির ছোঁয়াতেই পুরোপুরি থমকে গেছে। গত বুধবার রাতভর দফায় দফায় বর্ষণের ফলে শহরের প্রধান সড়কগুলোর পাশাপাশি অলিগলিও এখন পানির নিচে। খুলনা আবহাওয়া অফিস বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে, যার ফলে নিম্নাঞ্চলের বহু বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

বিগত সরকারের আমলে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ড্রেনের কাজ সময়মতো শেষ না করা এবং রূপসার পাম্প হাউস ও স্লুইস গেটগুলো অকেজো থাকায় মূলত এই সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ড্রেন নির্মাণ করা হলেও সেগুলোর বেড উঁচু হওয়ায় বাড়িঘরের পানি সরতে পারছে না। ফলে বৃষ্টির পানি আটকে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতা।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দৌলতপুর, খালিশপুর ও মুজগুন্নি এলাকার পানি কারিকরপাড়া খাল হয়ে ময়ূর নদে যাওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় তা প্রবাহিত হতে পারছে না। এর ওপর রূপসা নদীতে জোয়ার এলে নদীর পানি উল্টো নালা দিয়ে শহরের ভেতরে ঢুকে স্ট্যান্ড রোড, চানমারী ও কেএমপি সদরদপ্তর এলাকা প্লাবিত করছে।

শহরের এই দুর্বিষহ অবস্থার জন্য সিটি করপোরেশনের দূরদর্শিতার অভাব, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকা এবং খাল-বিল দখলকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগী নাগরিকেরা। বেলার তথ্য অনুযায়ী, নগরের ৩১টি ওয়ার্ডে একসময়ের ২৯৮টি জলাশয়ের মধ্যে ৮০টিরই এখন কোনো অস্তিত্ব নেই এবং ২৭টি জলাশয় আংশিক ভরাট হয়ে গেছে।

জলাবদ্ধতা নিরসনে বিগত সাড়ে পাঁচ বছরে মেগা প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা ব্যয় করে দুই শতাধিক নালা নির্মাণ এবং সাতটি খাল খনন করা হয়েছে। তবে ঢাকনাযুক্ত এসব নালা পরিষ্কারের কোনো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা না থাকায় এবং ম্যানুয়ালি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করায় দৃশ্যমান অবকাঠামোর কোনো সুফল মিলছে না।

জনপ্রিয় সংবাদ

ড্রেন হয়েছে, দুর্ভোগ কমেনি- সামান্য বৃষ্টিতেই ডুবছে খুলনা

Update Time : ১২:১২:৫১ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

খুলনা নগরী এর চিরচেনা ছন্দ সামান্য বৃষ্টির ছোঁয়াতেই পুরোপুরি থমকে গেছে। গত বুধবার রাতভর দফায় দফায় বর্ষণের ফলে শহরের প্রধান সড়কগুলোর পাশাপাশি অলিগলিও এখন পানির নিচে। খুলনা আবহাওয়া অফিস বৃহস্পতিবার ভোর পর্যন্ত ৭৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে, যার ফলে নিম্নাঞ্চলের বহু বাসাবাড়ি ও দোকানপাটে পানি ঢুকে পড়ে চরম দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছে।

বিগত সরকারের আমলে অপরিকল্পিত ড্রেনেজ ব্যবস্থা, ড্রেনের কাজ সময়মতো শেষ না করা এবং রূপসার পাম্প হাউস ও স্লুইস গেটগুলো অকেজো থাকায় মূলত এই সংকটের সৃষ্টি হচ্ছে। কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে নতুন ড্রেন নির্মাণ করা হলেও সেগুলোর বেড উঁচু হওয়ায় বাড়িঘরের পানি সরতে পারছে না। ফলে বৃষ্টির পানি আটকে তৈরি হচ্ছে দীর্ঘমেয়াদী জলাবদ্ধতা।

আরও পড়ুন  নিউজিল্যান্ড সিরিজের শেষ টি-টোয়েন্টিতে অপরিবর্তিত দল নিয়ে মাঠে নামছে বাংলাদেশ

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, দৌলতপুর, খালিশপুর ও মুজগুন্নি এলাকার পানি কারিকরপাড়া খাল হয়ে ময়ূর নদে যাওয়ার কথা থাকলেও দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় তা প্রবাহিত হতে পারছে না। এর ওপর রূপসা নদীতে জোয়ার এলে নদীর পানি উল্টো নালা দিয়ে শহরের ভেতরে ঢুকে স্ট্যান্ড রোড, চানমারী ও কেএমপি সদরদপ্তর এলাকা প্লাবিত করছে।

শহরের এই দুর্বিষহ অবস্থার জন্য সিটি করপোরেশনের দূরদর্শিতার অভাব, সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা না থাকা এবং খাল-বিল দখলকে দায়ী করছেন ভুক্তভোগী নাগরিকেরা। বেলার তথ্য অনুযায়ী, নগরের ৩১টি ওয়ার্ডে একসময়ের ২৯৮টি জলাশয়ের মধ্যে ৮০টিরই এখন কোনো অস্তিত্ব নেই এবং ২৭টি জলাশয় আংশিক ভরাট হয়ে গেছে।

আরও পড়ুন  বিশ্ববাজারে দাম কমলেও দেশে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি, উদ্বেগ প্রকাশ জামায়াত আমিরের

জলাবদ্ধতা নিরসনে বিগত সাড়ে পাঁচ বছরে মেগা প্রকল্পের আওতায় প্রায় ৭৫০ কোটি টাকা ব্যয় করে দুই শতাধিক নালা নির্মাণ এবং সাতটি খাল খনন করা হয়েছে। তবে ঢাকনাযুক্ত এসব নালা পরিষ্কারের কোনো স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থা না থাকায় এবং ম্যানুয়ালি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ না করায় দৃশ্যমান অবকাঠামোর কোনো সুফল মিলছে না।