ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬, ২৬ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :

ব্রয়লার মুরগি দামে নতুন ধাক্কা এখনো কমেনি বাজার

রাজধানীর বাজারে বাড়তি দামে বিক্রি হচ্ছে ব্রয়লার মুরগি। ছবি: সংগৃহীত

ব্রয়লার মুরগি বাজারে এখনো বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। প্রায় ১০ দিন আগে কেজিতে যে ২০ টাকা দাম বেড়েছিল, তা এখনো কমেনি। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে সোনালি মুরগি, কয়েক ধরনের মাছ এবং ডিমের দামও আগের তুলনায় বেশি থাকায় সাধারণ ক্রেতাদের বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে। বিক্রেতাদের ধারণা, আরও কয়েক দিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার এবং শেওড়াপাড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ দোকানে ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজি ২০০ টাকা। কোথাও কোথাও ১৯০ টাকায় বিক্রি হলেও সোনালি মুরগির কেজি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং হাইব্রিড বা কালারবার্ড মুরগির দাম ৩০০ থেকে ৩১০ টাকার মধ্যে রয়েছে। দুই সপ্তাহ আগেও ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা।

শুধু মুরগিই নয়, মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এক থেকে দেড় কেজি ওজনের রুই মাছ এখন ৩৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না, যা আগে প্রায় ৩০০ টাকায় বিক্রি হতো। দুই কেজি বা তার বেশি ওজনের রুইয়ের দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। এছাড়া তেলাপিয়া, পাঙাশ ও কই মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং শিং মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতিরিক্ত গরম এবং বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে অনেক খামারে মুরগি উৎপাদন কমে গেছে। কারওয়ান বাজারের এক বিক্রেতার মতে, গত দুই মাসে গরমে অনেক মুরগি মারা গেছে এবং বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে অনেক খামার নতুন করে বাচ্চা তুলতে পারেনি। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। অন্যদিকে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সবজির সরবরাহও কিছুটা কমে গেছে।

মাছ ও মুরগির দাম বাড়ায় ডিমের চাহিদাও বেড়েছে। বর্তমানে ফার্মের বাদামি ডিম প্রতি ডজন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের সাদা ও বাদামি ডিমের দাম ১১০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে রয়েছে। সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেল, দেশি পেঁয়াজ ও শসার দামও বেড়েছে। তবে সরু ও মোটা চাল, খোলা আটা, আমদানি করা রসুন এবং বেগুনের দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে।

শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা রেহানা আক্তার বলেন, ঈদের আগে তিনি ১৫০ টাকায় ব্রয়লার মুরগি কিনেছিলেন, কিন্তু দাম বাড়ার পর তা আর আগের অবস্থায় ফেরেনি। তাঁর ভাষায়, বেশির ভাগ মাছের দামও এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ব্রয়লার মুরগি ও অন্যান্য আমিষজাত পণ্যের দামে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।

জনপ্রিয় সংবাদ

সতীর্থদের আনফলো করেছেন রোনালদো? ভাইরাল তথ্য ঘিরে তোলপাড়

ব্রয়লার মুরগি দামে নতুন ধাক্কা এখনো কমেনি বাজার

Update Time : ০৮:১১:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬

ব্রয়লার মুরগি বাজারে এখনো বাড়তি দামেই বিক্রি হচ্ছে। প্রায় ১০ দিন আগে কেজিতে যে ২০ টাকা দাম বেড়েছিল, তা এখনো কমেনি। রাজধানীর বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি ১৯০ থেকে ২০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। একই সঙ্গে সোনালি মুরগি, কয়েক ধরনের মাছ এবং ডিমের দামও আগের তুলনায় বেশি থাকায় সাধারণ ক্রেতাদের বাড়তি খরচ বহন করতে হচ্ছে। বিক্রেতাদের ধারণা, আরও কয়েক দিন এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকতে পারে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর কৃষি মার্কেট, টাউন হল বাজার এবং শেওড়াপাড়া বাজার ঘুরে দেখা গেছে, বেশির ভাগ দোকানে ব্রয়লার মুরগির দাম প্রতি কেজি ২০০ টাকা। কোথাও কোথাও ১৯০ টাকায় বিক্রি হলেও সোনালি মুরগির কেজি ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা এবং হাইব্রিড বা কালারবার্ড মুরগির দাম ৩০০ থেকে ৩১০ টাকার মধ্যে রয়েছে। দুই সপ্তাহ আগেও ব্রয়লার মুরগির দাম ছিল ১৭০ থেকে ১৮০ টাকা।

আরও পড়ুন  আজকের স্বর্ণ ও রুপার দাম, কত কমলো সোনার মূল্য?

শুধু মুরগিই নয়, মাছের বাজারেও ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এক থেকে দেড় কেজি ওজনের রুই মাছ এখন ৩৫০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না, যা আগে প্রায় ৩০০ টাকায় বিক্রি হতো। দুই কেজি বা তার বেশি ওজনের রুইয়ের দাম ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা। এছাড়া তেলাপিয়া, পাঙাশ ও কই মাছের দামও কেজিতে ২০ থেকে ৩০ টাকা বেড়েছে। চিংড়ি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকা, পাবদা ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা এবং শিং মাছ ৪০০ থেকে ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।

আরও পড়ুন  টিসিবির পণ্য নিম্নমানের—অভিযোগ উপকারভোগীদের

ব্যবসায়ীরা বলছেন, অতিরিক্ত গরম এবং বিদ্যুৎ সমস্যার কারণে অনেক খামারে মুরগি উৎপাদন কমে গেছে। কারওয়ান বাজারের এক বিক্রেতার মতে, গত দুই মাসে গরমে অনেক মুরগি মারা গেছে এবং বিদ্যুতের অনিয়মিত সরবরাহের কারণে অনেক খামার নতুন করে বাচ্চা তুলতে পারেনি। ফলে বাজারে সরবরাহ কমে যাওয়ায় দাম বেড়েছে। অন্যদিকে কয়েক দিনের বৃষ্টিতে সবজির সরবরাহও কিছুটা কমে গেছে।

মাছ ও মুরগির দাম বাড়ায় ডিমের চাহিদাও বেড়েছে। বর্তমানে ফার্মের বাদামি ডিম প্রতি ডজন ১৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ছোট আকারের সাদা ও বাদামি ডিমের দাম ১১০ থেকে ১২০ টাকার মধ্যে রয়েছে। সরকারি সংস্থা টিসিবির তথ্য অনুযায়ী, গত এক সপ্তাহে খোলা সয়াবিন তেল, দেশি পেঁয়াজ ও শসার দামও বেড়েছে। তবে সরু ও মোটা চাল, খোলা আটা, আমদানি করা রসুন এবং বেগুনের দামে কিছুটা স্বস্তি এসেছে।

আরও পড়ুন  স্টার্টআপ জগতে বিনিয়োগকারীদের পরিবর্তিত চাহিদা ও বাস্তবতা

শেওড়াপাড়ার বাসিন্দা রেহানা আক্তার বলেন, ঈদের আগে তিনি ১৫০ টাকায় ব্রয়লার মুরগি কিনেছিলেন, কিন্তু দাম বাড়ার পর তা আর আগের অবস্থায় ফেরেনি। তাঁর ভাষায়, বেশির ভাগ মাছের দামও এখন সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে গেছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা বলছেন, সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ব্রয়লার মুরগি ও অন্যান্য আমিষজাত পণ্যের দামে বড় ধরনের পরিবর্তনের সম্ভাবনা কম।