বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা বাড়িয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। রপ্তানিমুখী তৈরি পোশাকশিল্পে দেশীয় সুতা বা কাপড় ব্যবহারকারী রপ্তানিকারকদের জন্য বিকল্প নগদ সহায়তার হার দেড় শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে বস্ত্র খাতের উদ্যোক্তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নেওয়া এই সিদ্ধান্তে দেশীয় কাঁচামালের ব্যবহার আরও বাড়বে বলে আশা করা হচ্ছে। নতুন হার ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।
অর্থ মন্ত্রণালয় গত বৃহস্পতিবার এ–সংক্রান্ত নির্দেশনা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের কাছে পাঠিয়েছে। নির্দেশনায় বলা হয়েছে, নগদ সহায়তা পেতে হলে রপ্তানিকারকদের দেশীয় উৎস থেকে সুতা বা কাপড় সংগ্রহের প্রমাণপত্র জমা দিতে হবে। শুল্ক বন্ড ও ডিউটি ড্র-ব্যাক সুবিধার বিকল্প হিসেবে এই নগদ সহায়তা দেওয়া হবে। এখন বাংলাদেশ ব্যাংক এ বিষয়ে চূড়ান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
বস্ত্রকল মালিকদের সংগঠন বিটিএমএর সভাপতি শওকত আজিজ রাসেলের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল সম্প্রতি রাজধানীর আগারগাঁওয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ভবনে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেন। সেখানে দেশীয় সুতা ব্যবহারে উৎসাহ দিতে নগদ সহায়তা ১ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৫ শতাংশ করার দাবিসহ মোট ছয় দফা প্রস্তাব তুলে ধরা হয়। সরকারের সাম্প্রতিক সিদ্ধান্তে সেই দাবির অন্যতম অংশ বাস্তবায়িত হলো।
জানা গেছে, বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা বাড়ানোর বিষয়টি আগের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ও আলোচনায় ছিল। নীতিগতভাবে ইতিবাচক অবস্থান থাকলেও তখন চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। পরবর্তী সময়ে নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় আসে। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে ধারাবাহিক আলোচনা শেষে প্রধানমন্ত্রীর সম্মতির পর অর্থ মন্ত্রণালয় বাংলাদেশ ব্যাংককে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা পাঠিয়েছে।
এর আগে স্থানীয় সুতা ব্যবহার করে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে ৪ শতাংশ নগদ সহায়তা দেওয়া হতো। তবে স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে উত্তরণের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে তা কমিয়ে ৩ শতাংশ করা হয়। পরে আরও কমিয়ে ১ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়। পাশাপাশি এই সহায়তার ওপর ৫ শতাংশ করও পরিশোধ করতে হতো রপ্তানিকারকদের। নতুন সিদ্ধান্তে আবারও সহায়তার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেল।
ব্যবসায়ীরা মনে করছেন, বস্ত্র খাতে নগদ সহায়তা ৫ শতাংশে উন্নীত হওয়ায় দেশীয় সুতা ও কাপড়ের ব্যবহার বাড়বে, যা স্থানীয় বস্ত্রশিল্পকে আরও শক্তিশালী করবে। একই সঙ্গে রপ্তানিকারকেরাও আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান ধরে রাখতে অতিরিক্ত সহায়তা পাবেন। এখন বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রজ্ঞাপন জারির পর এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া শুরু হবে।

























