তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন নিয়ে কাজ শুরু করেছে সরকার বলে জানিয়েছেন পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন আজাদ। তিনি বলেন, বিএনপি সরকার কথার চেয়ে কাজে বিশ্বাস করে এবং তিস্তা ইস্যুতে রাজনৈতিক স্টান্টবাজির সময় শেষ হয়ে এসেছে।
পঞ্চগড়-নীলফামারী সীমান্তে নির্মাণাধীন ‘পঞ্চগড় গেট’-এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানের উদ্বোধন শেষে শুক্রবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী জানান, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন বিএনপি সরকারের নির্বাচনী ইশতেহারের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতিশ্রুতি। সেই প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার প্রয়োজনীয় কার্যক্রম এগিয়ে নিচ্ছে।
তিনি বলেন, তিস্তা নদীর দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা সমাধানে পরিকল্পিত উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রকল্পের কাজ দৃশ্যমান হবে।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, উত্তরাঞ্চলের মানুষের জীবন-জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশ রক্ষায় এই প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। নদী ব্যবস্থাপনা উন্নত হলে বন্যা নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি কৃষি উৎপাদনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকার তিস্তা নিয়ে কাজ শুরু করার পর কৃতিত্ব নেওয়ার উদ্দেশ্যে জামায়াতসহ ১১ দল আন্দোলনে নেমেছে। তাঁর দাবি, বিএনপি যখন তিস্তা নিয়ে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তখন এসব দলের কার্যকর কোনো ভূমিকা ছিল না।
ফরহাদ হোসেন আজাদ বলেন, তিস্তা নিয়ে যারা বর্তমানে আন্দোলন করছে, তাদের আগে কোনো বাস্তবসম্মত পরিকল্পনা ছিল না। এখন রাজনৈতিক সুবিধা নেওয়ার জন্য আন্দোলনের নামে প্রচারণা চালানো হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন একটি দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ। এর মাধ্যমে নদী ব্যবস্থাপনা, পানি সংরক্ষণ, কৃষি উন্নয়ন এবং উত্তরাঞ্চলের মানুষের আর্থসামাজিক উন্নয়নের সুযোগ তৈরি হবে।
পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী বলেন, সরকার তিস্তা প্রকল্প বাস্তবায়নে দৃঢ়ভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজ সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন হলে দীর্ঘদিনের পানি সংকট, নদীভাঙন ও বন্যার মতো সমস্যার সমাধানে বড় ধরনের পরিবর্তন আসবে।
তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তিস্তা নদীকে ঘিরে উন্নয়ন পরিকল্পনা শুধু একটি প্রকল্প নয়, এটি উত্তরাঞ্চলের মানুষের ভবিষ্যৎ উন্নয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
সরকারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে নদীর নাব্যতা বৃদ্ধি, পানি ব্যবস্থাপনা উন্নয়ন এবং জনজীবনে স্থিতিশীলতা আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।


























