ঢাকা ১১:৫০ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৬ অগাস্ট ২০২৬, ১১ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বিশ্বে তেলের চাহিদা কমবে ভয়াবহ সতর্কতা আইইএর

আইইএ বৈশ্বিক তেলের চাহিদা কমার পূর্বাভাস দিয়েছে। ছবি: সংগৃহীত

বিশ্বে তেলের চাহিদা চলতি ২০২৬ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেলের চাহিদা কমতে পারে। এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে ২০২০ সালে করোনা মহামারির পর প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক তেলের চাহিদায় বার্ষিক পতন দেখা যাবে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ।

শুক্রবার প্রকাশিত আইইএর তেলবাজার বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত তেল উৎপাদন এবং রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকুচিত হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বে তেলের চাহিদা কমার প্রভাব মূলত নির্দিষ্ট অঞ্চল ও কিছু তেলজাত পণ্যে বেশি দেখা যাবে। যদিও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী না হলে সংকট আরও গভীর হতে পারে। আইইএ মনে করছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু হলে উৎপাদক দেশগুলো আবার উৎপাদন বাড়াতে পারবে এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থাও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে।

আইইএর তেলবাজারবিষয়ক প্রধান টরিল বোসোনি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। তাঁর মতে, দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সম্ভাবনা কম। তবে অন্যান্য উৎপাদক দেশের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে এবং যুদ্ধের আগে যে পরিমাণ চাহিদার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তা কিছুটা কম হতে পারে। ফলে বছরের শেষ দিকে বৈশ্বিক বাজারে আবারও সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। সেপ্টেম্বর ডেলিভারির ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৬ দশমিক ২৫ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম স্থিতিশীল থেকে প্রতি ব্যারেল ৭২ দশমিক ৯ ডলারে লেনদেন হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দামের ওঠানামা আরও বাড়তে পারে।

বর্তমান পরিস্থিতিতে আইইএ বিশ্বকে সতর্ক করে বলেছে, স্থায়ী শান্তিচুক্তি ছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ হামলার মুখে পড়েছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল আবারও সীমিত হয়ে পড়েছে। তাই বিশ্বে তেলের চাহিদা, সরবরাহ ও দামের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা সফল হয় তার ওপর।

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বে তেলের চাহিদা কমবে ভয়াবহ সতর্কতা আইইএর

Update Time : ০৭:০৯:৩৬ পূর্বাহ্ন, শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬

বিশ্বে তেলের চাহিদা চলতি ২০২৬ সালে উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে বলে সতর্ক করেছে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ)। সংস্থাটির সর্বশেষ পূর্বাভাস অনুযায়ী, এ বছর দৈনিক প্রায় ১০ লাখ ব্যারেল তেলের চাহিদা কমতে পারে। এই পূর্বাভাস বাস্তবায়িত হলে ২০২০ সালে করোনা মহামারির পর প্রথমবারের মতো বৈশ্বিক তেলের চাহিদায় বার্ষিক পতন দেখা যাবে। বিশ্লেষকদের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতই এই পরিস্থিতির প্রধান কারণ।

শুক্রবার প্রকাশিত আইইএর তেলবাজার বিষয়ক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সংঘাত তেল উৎপাদন এবং রপ্তানিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলেছে। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি পরিবহন ব্যাহত হওয়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ সংকুচিত হয়েছে। বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই নৌপথে জাহাজ চলাচল বাধাগ্রস্ত হওয়ায় পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল রপ্তানি স্বাভাবিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না।

আরও পড়ুন  ইরান যুদ্ধের প্রভাবে স্বর্ণের দামে বড় পতন, দেশে ভরি কত কমলো?

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বিশ্বে তেলের চাহিদা কমার প্রভাব মূলত নির্দিষ্ট অঞ্চল ও কিছু তেলজাত পণ্যে বেশি দেখা যাবে। যদিও পরিস্থিতি ধীরে ধীরে উন্নতির সম্ভাবনা রয়েছে, তবে যুদ্ধবিরতি দীর্ঘস্থায়ী না হলে সংকট আরও গভীর হতে পারে। আইইএ মনে করছে, হরমুজ প্রণালি পুনরায় পুরোপুরি চালু হলে উৎপাদক দেশগুলো আবার উৎপাদন বাড়াতে পারবে এবং আন্তর্জাতিক সরবরাহ ব্যবস্থাও ধীরে ধীরে স্বাভাবিক হবে।

আরও পড়ুন  প্রবাসী আয় কমার কারণ কী?

আইইএর তেলবাজারবিষয়ক প্রধান টরিল বোসোনি জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি এখনো অত্যন্ত অনিশ্চিত। তাঁর মতে, দ্রুত স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার সম্ভাবনা কম। তবে অন্যান্য উৎপাদক দেশের সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে এবং যুদ্ধের আগে যে পরিমাণ চাহিদার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল, বাস্তবে তা কিছুটা কম হতে পারে। ফলে বছরের শেষ দিকে বৈশ্বিক বাজারে আবারও সরবরাহ চাহিদার তুলনায় বেশি হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

এদিকে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কিছুটা কমেছে। সেপ্টেম্বর ডেলিভারির ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭৬ দশমিক ২৫ ডলারে নেমে এসেছে। একই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম স্থিতিশীল থেকে প্রতি ব্যারেল ৭২ দশমিক ৯ ডলারে লেনদেন হয়েছে। বাজার বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধ পরিস্থিতি দীর্ঘায়িত হলে দামের ওঠানামা আরও বাড়তে পারে।

আরও পড়ুন  আইএমএফের সঙ্গে নতুন ঋণ নিয়ে বৈঠক শুরু কাল, আলোচনায় থাকছে নতুন বেতনকাঠামো

বর্তমান পরিস্থিতিতে আইইএ বিশ্বকে সতর্ক করে বলেছে, স্থায়ী শান্তিচুক্তি ছাড়া বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনা কঠিন হবে। ইতোমধ্যে কয়েকটি তেলবাহী জাহাজ হামলার মুখে পড়েছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচল আবারও সীমিত হয়ে পড়েছে। তাই বিশ্বে তেলের চাহিদা, সরবরাহ ও দামের ভবিষ্যৎ অনেকটাই নির্ভর করছে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত কত দ্রুত নিয়ন্ত্রণে আসে এবং আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক উদ্যোগ কতটা সফল হয় তার ওপর।