ঢাকা ০৮:৫৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬, ৫ আষাঢ় ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা: চুক্তি থেকে কে কী পেল?

  • ডেস্ক নিউজ
  • Update Time : ০৬:১০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬
  • ৫১১

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা চুক্তির পর হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়ার প্রতীকী দৃশ্য। ছবি: সংগৃহীত

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা বোমা হামলার শতাধিক দিন পর অবশেষে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছেছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি এই চুক্তি দুই পক্ষকেই নিজেদের জনগণের সামনে বিজয় দাবি করার সুযোগ করে দিয়েছে, যদিও সমালোচকদের মতে গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ শিথিল করার বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরানের জন্য এই চুক্তির বড় অর্জন হলো যুদ্ধের মধ্যেও রাষ্ট্রব্যবস্থা ও নেতৃত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, এই সমঝোতা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেল রপ্তানিতে ছাড়, কিছু সম্পদ উন্মুক্ত করা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে উভয় দেশেই চুক্তিটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ইরানের কট্টরপন্থিরা আশঙ্কা করছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া হতে পারে। আবার যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রিপাবলিকান নেতা মনে করছেন, ওয়াশিংটন ইরানকে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সুবিধা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি আপাতত যুদ্ধ থামাতে সফল হলেও প্রকৃত পরীক্ষা হবে আগামী ৬০ দিনের আলোচনায়। কারণ পারমাণবিক কর্মসূচি, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সমঝোতা: চুক্তি থেকে কে কী পেল?

Update Time : ০৬:১০:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৯ জুন ২০২৬

ইরানে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের টানা বোমা হামলার শতাধিক দিন পর অবশেষে একটি সমঝোতা চুক্তিতে পৌঁছেছে তেহরান ও ওয়াশিংটন। যুদ্ধবিরতির পাশাপাশি এই চুক্তি দুই পক্ষকেই নিজেদের জনগণের সামনে বিজয় দাবি করার সুযোগ করে দিয়েছে, যদিও সমালোচকদের মতে গুরুত্বপূর্ণ অনেক প্রশ্নের উত্তর এখনো মেলেনি।

সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী, আগামী ৬০ দিনের মধ্যে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হবে। একই সঙ্গে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ, হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু এবং ইরানের ওপর মার্কিন নৌ অবরোধ শিথিল করার বিষয়ও এতে অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ইরানের জন্য এই চুক্তির বড় অর্জন হলো যুদ্ধের মধ্যেও রাষ্ট্রব্যবস্থা ও নেতৃত্ব অক্ষুণ্ণ রাখা। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র দাবি করছে, এই সমঝোতা ইরানকে পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন থেকে বিরত রাখার লক্ষ্যের দিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।

চুক্তির আওতায় যুক্তরাষ্ট্র ইরানি তেল রপ্তানিতে ছাড়, কিছু সম্পদ উন্মুক্ত করা এবং নিষেধাজ্ঞা শিথিলের উদ্যোগ নেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। এছাড়া ইরানের পুনর্গঠন ও অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য ৩০০ বিলিয়ন ডলারের একটি পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে উভয় দেশেই চুক্তিটি নিয়ে বিতর্ক রয়েছে। ইরানের কট্টরপন্থিরা আশঙ্কা করছেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে অতিরিক্ত ছাড় দেওয়া হতে পারে। আবার যুক্তরাষ্ট্রের অনেক রিপাবলিকান নেতা মনে করছেন, ওয়াশিংটন ইরানকে অতিরিক্ত অর্থনৈতিক সুবিধা দিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, এই চুক্তি আপাতত যুদ্ধ থামাতে সফল হলেও প্রকৃত পরীক্ষা হবে আগামী ৬০ দিনের আলোচনায়। কারণ পারমাণবিক কর্মসূচি, সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম এবং আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো এখনো বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।