মধ্যপ্রাচ্যে আবারও উত্তেজনা বেড়েছে। ইরানের দক্ষিণাঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর হামলার পর এর জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে মার্কিন সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে নতুন দফায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর দাবি করেছে ইরান। এ তথ্য জানিয়েছে দেশটির আধা-সরকারি সংবাদ সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সি। আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম বিবিসিও বিষয়টি নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
ইরানি সরকারের ঘনিষ্ঠ সূত্রের বরাতে জানানো হয়েছে, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) কুয়েতে অবস্থিত মার্কিন-সংশ্লিষ্ট সামরিক স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। একই সময়ে জর্ডানে থাকা মার্কিন ঘাঁটিতেও হামলার দাবি করা হয়। তবে জর্ডানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির আকাশসীমায় প্রবেশ করা আটটি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা দিয়ে সফলভাবে ভূপাতিত করা হয়েছে।
এদিকে ইরাকের রাজধানী বাগদাদের ‘ভিক্টরি বেস’ এলাকায় বিস্ফোরণের খবর পাওয়া গেছে। ওই এলাকাটি দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র-নেতৃত্বাধীন জোট বাহিনীর কার্যক্রমের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে পরিচিত। তবে বিস্ফোরণের ফলে ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করা হয়নি।
সাম্প্রতিক এই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় পুরো মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে। বিশেষ করে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থানরত মার্কিন ঘাঁটি ও মিত্র দেশগুলো সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বলে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উল্লেখ করা হয়েছে। সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, সংঘাত আরও বিস্তৃত হলে তা শুধু মধ্যপ্রাচ্য নয়, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার, সমুদ্রপথে বাণিজ্য এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তার ওপরও বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এদিকে উত্তেজনা কমানোর আহ্বান জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি কূটনৈতিক প্রচেষ্টা জোরদারের লক্ষ্যে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান, ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনা করেছেন।
আরাগচির ভাষ্য অনুযায়ী, আলোচনায় সংশ্লিষ্ট সব পক্ষই সামরিক সংঘাতের পরিবর্তে কূটনৈতিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন। পাশাপাশি আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, পারস্পরিক সহযোগিতা বৃদ্ধি এবং পরিস্থিতির আরও অবনতি ঠেকাতে সমন্বিতভাবে কাজ করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়েও একমত হয়েছেন তারা।
এখন পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে কুয়েত, জর্ডান বা ইরাকে কথিত হামলার বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে এবং সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সরকারি বক্তব্যের অপেক্ষায় রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহে মধ্যপ্রাচ্যে সামরিক উত্তেজনা নতুন মাত্রা পেয়েছে। তবে একই সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার সুযোগ এখনো রয়েছে। আগামী কয়েক দিনের ঘটনাপ্রবাহই নির্ধারণ করবে এই সংঘাত আরও বিস্তৃত হবে, নাকি কূটনৈতিক উদ্যোগের মাধ্যমে উত্তেজনা প্রশমিত হবে।




























