মোজি অ্যান্ড কোং এখন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনার অন্যতম নাম। কভার গান দিয়ে জনপ্রিয়তা পাওয়া এই সংগীতজুটি খুব অল্প সময়েই শ্রোতাদের মন জয় করেছে। আজ রাজধানীর তেজগাঁওয়ের ইয়ামাহা ফ্ল্যাগশিপ সেন্টারে ‘মেলোডি মোজাইক উইথ মোজি অ্যান্ড কোং’ অনুষ্ঠানে গান পরিবেশন করবেন শুভেন্দু দাশ শুভ ও সানজিদা মাহমুদ নন্দিতা। পুরোনো বাংলা ও হিন্দি গানকে নতুন সাউন্ড ডিজাইনে উপস্থাপন করাই তাঁদের মূল লক্ষ্য, যা ইতোমধ্যে তরুণ ও প্রবীণ—দুই প্রজন্মের কাছেই প্রশংসা কুড়িয়েছে।
শুভেন্দু দাশ শুভ ও সানজিদা মাহমুদ নন্দিতা দীর্ঘদিন ধরেই দেশের সংগীতাঙ্গনে কাজ করছেন। কোক স্টুডিও বাংলার জনপ্রিয় ‘বুলবুলি’ ও ‘দাঁড়ালে দুয়ারে’ গানের মাধ্যমে তাঁদের কাজ আলোচনায় আসে। তবে আলাদা ব্যান্ড গড়ার পরিকল্পনা তখন ছিল না। ২০২৪ সালের শেষদিকে তাঁরা জনপ্রিয় হিন্দি গান ‘ইয়ে রাতে ইয়ে মৌসম’-এর একটি কভার প্রকাশ করেন। গানটি প্রকাশের পর অপ্রত্যাশিত সাড়া পেয়ে নতুনভাবে ভাবতে শুরু করেন। এরপর ২০২৫ সালের ৩ জানুয়ারি আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে ‘মোজি অ্যান্ড কোং’। তাঁদের ভাষায়, ‘মোজি’ মানে হলো স্বস্তি নিয়ে, নিজের মতো করে সংগীতচর্চা করা।
এই সংগীতজুটির সবচেয়ে বড় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি আসে ‘সাওয়ারিয়া’ গানের কভার প্রকাশের পর। চলতি বছরের এপ্রিল মাসে স্টুডিওর একটি অনানুষ্ঠানিক মুহূর্তে নন্দিতা গানটি গাইছিলেন। সেই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন শুভেন্দু। কয়েক মাস পর হঠাৎ করেই তাঁরা জানতে পারেন, বিশ্বখ্যাত সংগীত পরিচালক এ আর রাহমান নিজের ইনস্টাগ্রাম স্টোরিতে তাঁদের পরিবেশনা শেয়ার করেছেন। প্রথমে বিষয়টি বিশ্বাসই করতে পারেননি তাঁরা। পরে রাহমানের অফিসিয়াল প্রোফাইলে দেখে নিশ্চিত হন। তাঁদের মতে, এই স্বীকৃতি ভবিষ্যতের কাজের জন্য বড় অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।
মোজি অ্যান্ড কোং নিজেদের সংগীতধারায় বড় আয়োজনের বদলে সরলতাকেই প্রাধান্য দিচ্ছে। একটি গিটার এবং দুটি কণ্ঠ দিয়েই তাঁরা তৈরি করছেন ভিন্নধর্মী পরিবেশনা। শুভেন্দুর মতে, বর্তমান ব্যস্ত জীবনে মানুষ শান্ত ও হৃদয়ছোঁয়া সংগীত খুঁজছে। সেই জায়গা থেকেই তাঁরা শ্রোতাদের কাছে পৌঁছাতে চান। নন্দিতা জানান, তাঁদের গান অনেকের জন্য মানসিক প্রশান্তির উৎস হয়ে উঠেছে। ডিমেনশিয়ায় আক্রান্ত এক প্রবীণ নারী থেকে শুরু করে উদ্বেগে ভোগা অনেক শ্রোতাই তাঁদের গান শুনে স্বস্তি পান বলে জানিয়েছেন।
অনলাইনে তাঁদের শ্রোতাদের বড় একটি অংশ ২৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী হলেও ৩০ থেকে ৪৫ বছর বয়সীদের মধ্যেও জনপ্রিয়তা বাড়ছে। কনসার্টে বিভিন্ন বয়সী দর্শকের উপস্থিতি তাঁদের অনুপ্রাণিত করে। এক অনুষ্ঠানে ৮০ বছর বয়সী এক নারী ওয়াকার নিয়ে এসে পুরো অনুষ্ঠান উপভোগ করেছিলেন। সেই অভিজ্ঞতার কথা স্মরণ করে নন্দিতা বলেন, এমন ভালোবাসাই তাঁদের সংগীতচর্চার সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি। দর্শকদের আন্তরিক প্রতিক্রিয়াই নতুন নতুন কাজের সাহস জোগায়।
কভার গানের সাফল্যের পর এবার মৌলিক গান নিয়েও ব্যস্ত সময় পার করছেন শুভেন্দু ও নন্দিতা। বছরের শেষ দিকে নতুন অ্যালবাম কিংবা একাধিক সিঙ্গেল প্রকাশের পরিকল্পনা রয়েছে তাঁদের। নতুন গানেও তাঁরা নিজেদের পরিচিত সফট সাউন্ড ধরে রাখতে চান। শ্রোতাদের জন্য ভিন্ন স্বাদের সংগীত উপহার দেওয়ার পাশাপাশি পুরোনো গানের আবেগ নতুন প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে মোজি অ্যান্ড কোং।























