ঢাকা ০৪:৪৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬, ১৫ শ্রাবণ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সংবাদ শিরোনাম :
Logo চট্টগ্রামে এক দিনের ভ্রমণ: ঘুরে দেখুন সেরা ৭ দর্শনীয় স্থান Logo গ্রেপ্তার এড়াতে চেহারা বদলেছিলেন ডেভিড ইমন, তবু শেষ রক্ষা হয়নি Logo ৪২ বছর বয়সে মাতৃত্বের স্বাদ পেলেন কারিশমা তান্না Logo চন্দনাইশে বন্যার পানিতে ভেসে গেল মৎস্যচাষি জেলে টিটু দাশের স্বপ্ন Logo জন্মদিনে ফিরে দেখা ববিতা, যে ১২টি তথ্য হয়তো জানেন না Logo একটি কভার গান বদলে দিয়েছে তাঁদের পথচলা, যেভাবে শুরু হয়েছিল যাত্রা Logo ‘গুলশানের চামেলি’তে নতুন রূপে বাঁধন, থাকছে শক্তিশালী নারী চরিত্র Logo গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডে গান জমা দেবে না বিটিএস, বিস্মিত ভক্তরা Logo অনুপম রায়ের ঢাকা কনসার্ট আবার স্থগিত, জানা গেল কারণ Logo মার্কিন নিষেধাজ্ঞায় চীনের ক্ষোভ, ‘প্রয়োজনীয় জবাব’ দেওয়ার ঘোষণা

জন্মদিনে ফিরে দেখা ববিতা, যে ১২টি তথ্য হয়তো জানেন না

বাংলা চলচ্চিত্রে ববিতার অবদান আজও অনন্য। ছবি: সংগৃহীত

ববিতা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম কিংবদন্তি অভিনেত্রী। ফরিদা আক্তার পপি নাম নিয়ে জন্ম নেওয়া এই তারকা আজ ৭৩ বছরে পা রাখলেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে তিনি দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। তবে শুধু অভিনয় নয়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও চলচ্চিত্রে আসার গল্পেও রয়েছে অনেক অজানা অধ্যায়। জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক ববিতার জীবনের ১২টি জানা–অজানা তথ্য।

১৯৫৩ সালের ৩০ জুলাই বাগেরহাটে জন্মগ্রহণ করেন ববিতা। ছোটবেলা থেকেই সিনেমার শুটিং দেখার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল। তবে নিজে কখনো অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেননি। প্রথমবার পরিচালক নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘চাওয়া পাওয়া’ সিনেমার শুটিং দেখতে গিয়েই চলচ্চিত্রের পরিবেশ কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান। তখনও তাঁর ভাবনায় অভিনয় নয়, ছিল শুধুই কৌতূহল।

পরবর্তীতে পরিচালক জহির রায়হান তাঁর ‘সংসার’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু শুরুতে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন ববিতা। পরে মা ও বড় বোনের অনুরোধে রাজি হন। তখন তিনি মাত্র ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সিনেমাটি বক্স অফিসে সফল না হলেও তাঁর অভিনয়জীবনের সূচনা হয়ে যায়। পরে আবারও জহির রায়হান তাঁকে উর্দু সিনেমা ‘জ্বলতে সুরজ কে নিচে’-তে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে নানা কারণে ছবিটির কাজ শেষ হয়নি।

অভিনয়ের পাশাপাশি চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নও ছিল ববিতার। তাঁর মা ছিলেন একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক এবং ছোটবেলায় মায়ের কাজে সহকারী হিসেবে সময় কাটাতেন তিনি। দুষ্টু স্বভাবের ববিতা মায়ের অনুপস্থিতিতে রোগীদের কাছ থেকে গোপনে টাকা নিতেন। পরে সেই টাকা জমিয়ে বান্ধবীদের নিয়ে সিনেমা দেখতে যেতেন। স্কুল ফাঁকি দিয়ে গুলিস্তানের নাজ সিনেমা হলে ‘হোটেল সাহারা’ দেখা ছিল তাঁর শৈশবের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

জহির রায়হানের আরেকটি বাংলা সিনেমা মুক্তির পর সেটি ব্যাপক সাফল্য পায়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। রাজ্জাকের সঙ্গে ‘স্বরলিপি’, ‘পিচঢালা পথ’ ও ‘টাকা আনা পাই’-সহ একাধিক ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে গড়ে ওঠে বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি। একের পর এক সফল সিনেমা তাঁকে দেশের শীর্ষ অভিনেত্রীদের কাতারে নিয়ে যায়।

ববিতার আন্তর্জাতিক পরিচিতির বড় অধ্যায় শুরু হয় কিংবদন্তি নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে। তাঁর প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘অশনি সংকেত’-এ অভিনয় করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা অর্জন করেন ববিতা। ১৯৭৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক সম্মাননা লাভ করে। অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং অনন্য অবদানের মাধ্যমে ববিতা আজও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উজ্জ্বল এক নাম। জন্মদিনে দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীরা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করছেন এই গুণী অভিনেত্রীকে।

জনপ্রিয় সংবাদ

চট্টগ্রামে এক দিনের ভ্রমণ: ঘুরে দেখুন সেরা ৭ দর্শনীয় স্থান

জন্মদিনে ফিরে দেখা ববিতা, যে ১২টি তথ্য হয়তো জানেন না

Update Time : ০১:০৫:৩৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ জুলাই ২০২৬

ববিতা বাংলাদেশের চলচ্চিত্রের অন্যতম কিংবদন্তি অভিনেত্রী। ফরিদা আক্তার পপি নাম নিয়ে জন্ম নেওয়া এই তারকা আজ ৭৩ বছরে পা রাখলেন। দীর্ঘ অভিনয়জীবনে অসংখ্য জনপ্রিয় চলচ্চিত্র উপহার দিয়ে তিনি দর্শকের হৃদয়ে স্থায়ী জায়গা করে নিয়েছেন। তবে শুধু অভিনয় নয়, তাঁর ব্যক্তিগত জীবন ও চলচ্চিত্রে আসার গল্পেও রয়েছে অনেক অজানা অধ্যায়। জন্মদিনে ফিরে দেখা যাক ববিতার জীবনের ১২টি জানা–অজানা তথ্য।

১৯৫৩ সালের ৩০ জুলাই বাগেরহাটে জন্মগ্রহণ করেন ববিতা। ছোটবেলা থেকেই সিনেমার শুটিং দেখার প্রতি তাঁর প্রবল আগ্রহ ছিল। তবে নিজে কখনো অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন দেখেননি। প্রথমবার পরিচালক নারায়ণ ঘোষ মিতার ‘চাওয়া পাওয়া’ সিনেমার শুটিং দেখতে গিয়েই চলচ্চিত্রের পরিবেশ কাছ থেকে দেখার সুযোগ পান। তখনও তাঁর ভাবনায় অভিনয় নয়, ছিল শুধুই কৌতূহল।

আরও পড়ুন  ইথা টিজারে দারুণ চমক, শ্রদ্ধা কাপুরের প্রত্যাবর্তনে মুগ্ধ ভক্তরা

পরবর্তীতে পরিচালক জহির রায়হান তাঁর ‘সংসার’ সিনেমায় অভিনয়ের প্রস্তাব দেন। কিন্তু শুরুতে সেই প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন ববিতা। পরে মা ও বড় বোনের অনুরোধে রাজি হন। তখন তিনি মাত্র ষষ্ঠ শ্রেণির শিক্ষার্থী। সিনেমাটি বক্স অফিসে সফল না হলেও তাঁর অভিনয়জীবনের সূচনা হয়ে যায়। পরে আবারও জহির রায়হান তাঁকে উর্দু সিনেমা ‘জ্বলতে সুরজ কে নিচে’-তে নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তবে নানা কারণে ছবিটির কাজ শেষ হয়নি।

আরও পড়ুন  ‘গবলিন’ এর দশ বছর: আবেগঘন পুনর্মিলনে ফিরলেন প্রিয় তারকারা

অভিনয়ের পাশাপাশি চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্নও ছিল ববিতার। তাঁর মা ছিলেন একজন হোমিওপ্যাথি চিকিৎসক এবং ছোটবেলায় মায়ের কাজে সহকারী হিসেবে সময় কাটাতেন তিনি। দুষ্টু স্বভাবের ববিতা মায়ের অনুপস্থিতিতে রোগীদের কাছ থেকে গোপনে টাকা নিতেন। পরে সেই টাকা জমিয়ে বান্ধবীদের নিয়ে সিনেমা দেখতে যেতেন। স্কুল ফাঁকি দিয়ে গুলিস্তানের নাজ সিনেমা হলে ‘হোটেল সাহারা’ দেখা ছিল তাঁর শৈশবের অন্যতম স্মরণীয় অভিজ্ঞতা।

জহির রায়হানের আরেকটি বাংলা সিনেমা মুক্তির পর সেটি ব্যাপক সাফল্য পায়। এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। রাজ্জাকের সঙ্গে ‘স্বরলিপি’, ‘পিচঢালা পথ’ ও ‘টাকা আনা পাই’-সহ একাধিক ব্যবসাসফল সিনেমায় অভিনয় করে গড়ে ওঠে বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম জনপ্রিয় জুটি। একের পর এক সফল সিনেমা তাঁকে দেশের শীর্ষ অভিনেত্রীদের কাতারে নিয়ে যায়।

আরও পড়ুন  মধুমিতা সরকার ঢাকার সিনেমায়: চমকপ্রদ নায়িকা হচ্ছেন ‘গুলশানের চামেলি’তে

ববিতার আন্তর্জাতিক পরিচিতির বড় অধ্যায় শুরু হয় কিংবদন্তি নির্মাতা সত্যজিৎ রায়ের হাত ধরে। তাঁর প্রথম রঙিন চলচ্চিত্র ‘অশনি সংকেত’-এ অভিনয় করে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রশংসা অর্জন করেন ববিতা। ১৯৭৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত এই সিনেমা জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে একাধিক সম্মাননা লাভ করে। অভিনয়, ব্যক্তিত্ব এবং অনন্য অবদানের মাধ্যমে ববিতা আজও বাংলা চলচ্চিত্রের ইতিহাসে উজ্জ্বল এক নাম। জন্মদিনে দেশের চলচ্চিত্রপ্রেমীরা শ্রদ্ধা ও ভালোবাসার সঙ্গে স্মরণ করছেন এই গুণী অভিনেত্রীকে।