ডেঙ্গুতে ৩ মৃত্যু হয়েছে গত ২৪ ঘণ্টায়। একই সময়ে নতুন করে ৯০৭ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদফতরের পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়। নতুন রোগী ও মৃত্যুর এই হিসাবের ফলে চলতি বছর দেশে ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ে আবারও উদ্বেগ বাড়ছে।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন মোট ৩০ হাজার ৮৩০ জন। এ সময়ের মধ্যে ডেঙ্গুতে প্রাণ হারিয়েছেন ৮৮ জন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন ২ হাজার ৯০ জন ডেঙ্গু রোগী।
গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ঢাকা বিভাগে। এই সময়ে এ বিভাগে নতুন রোগীর সংখ্যা ৩০৫ জন। এরপর খুলনা বিভাগে ২০২ জন এবং বরিশাল বিভাগে ১৬৩ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।
এ ছাড়া চট্টগ্রাম বিভাগে ৯৯ জন, রাজশাহী বিভাগে ৭৩ জন, ময়মনসিংহ বিভাগে ৪৫ জন এবং রংপুর বিভাগে ১৯ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। সিলেট বিভাগেও নতুন করে একজন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। অর্থাৎ রাজধানীকেন্দ্রিকতার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চলেই ডেঙ্গু রোগীর উপস্থিতি দেখা যাচ্ছে।
ডেঙ্গু এডিস মশাবাহিত একটি ভাইরাসজনিত রোগ। সাধারণত এডিস মশার কামড়ের মাধ্যমে ডেঙ্গু ভাইরাস মানুষের শরীরে ছড়ায়। বর্ষাকালে বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পরিষ্কার পানিতে এডিস মশার বংশবিস্তার হতে পারে। তাই বাড়ি ও আশপাশের এলাকায় পানি জমতে না দেওয়া ডেঙ্গু প্রতিরোধের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপায়।
চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৩০ হাজার ছাড়িয়ে যাওয়ায় পরিস্থিতি নিয়ে বাড়তি সতর্কতার প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। বিশেষ করে হাসপাতালগুলোতে প্রতিদিন নতুন রোগী ভর্তি হওয়ায় চিকিৎসাসেবা ব্যবস্থার ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে। একই সময়ে ডেঙ্গুতে মৃত্যুর সংখ্যাও ধীরে ধীরে বাড়ছে।
ডেঙ্গুর সাধারণ উপসর্গের মধ্যে রয়েছে জ্বর, মাথাব্যথা, শরীর ও জয়েন্টে ব্যথা, দুর্বলতা এবং চোখের পেছনে ব্যথা। তবে রোগের তীব্রতা বাড়লে পেটব্যথা, বারবার বমি, রক্তপাত, অতিরিক্ত দুর্বলতা বা অস্বাভাবিক অস্থিরতার মতো গুরুতর লক্ষণ দেখা দিতে পারে। এসব উপসর্গ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু আক্রান্ত ব্যক্তির চিকিৎসা করলেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। একই সঙ্গে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। বাসাবাড়ির ছাদ, বারান্দা, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, ড্রাম কিংবা অন্য কোনো স্থানে পানি জমে থাকলে তা নিয়মিত পরিষ্কার করা প্রয়োজন।
স্বাস্থ্য অধিদফতরের সর্বশেষ হিসাব বলছে, বর্তমানে ২ হাজার ৯০ জন ডেঙ্গু রোগী দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। নতুন রোগী শনাক্ত ও ভর্তি অব্যাহত থাকায় পরিস্থিতির ওপর নজর রাখছে স্বাস্থ্য বিভাগ। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষকে মশার কামড় থেকে সুরক্ষিত থাকার পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।
ডেঙ্গুতে ৩ মৃত্যু এবং এক দিনে ৯০৭ জনের হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার তথ্যটি চলতি মৌসুমে রোগটির বিস্তারের বিষয়টি সামনে এনেছে। তাই জ্বর বা ডেঙ্গুর সন্দেহজনক উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। পাশাপাশি ঘরের ভেতর ও বাইরে জমে থাকা পানি নিয়মিত পরিষ্কার করলে এডিস মশার বিস্তার কমানো সম্ভব।



























