মস্তিষ্কে টিউমার ধরা পড়ার খবর মুহূর্তেই বদলে দিয়েছিল হলিউড অভিনেত্রী বিজি ফিলিপসের জীবন। ৪৭ বছর বয়সী এই অভিনেত্রী জানান, গত ছয় মাস তাঁর জীবনের সবচেয়ে অদ্ভুত ও কঠিন সময়গুলোর একটি। কোনো স্পষ্ট উপসর্গ না থাকলেও নিজের শরীর ও মস্তিষ্ক নিয়ে অস্বস্তির অনুভূতিকে গুরুত্ব দিয়েছিলেন তিনি। শেষ পর্যন্ত সেই সিদ্ধান্তই তাঁকে দ্রুত চিকিৎসার সুযোগ করে দেয়।
ঘটনাটি সামনে আসে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে। পুরো শরীরের একটি এমআরআই করানোর পর তাঁর মস্তিষ্কে একটি অস্বাভাবিক অংশ শনাক্ত হয়। পরবর্তী পরীক্ষায় সেটি টিউমার হিসেবে নিশ্চিত হয়। এর আগে চিকিৎসকের কাছ থেকে স্ক্যান করানোর প্রয়োজন নেই বলেও শুনেছিলেন তিনি। তবে নিজের অনুভূতিকে উপেক্ষা না করে অন্য চিকিৎসকের পরামর্শ নেন ফিলিপস। সেই পরীক্ষাতেই ধরা পড়ে গ্রেড-২ অলিগোডেনড্রোগ্লিওমা, যা তুলনামূলকভাবে ধীরে বেড়ে ওঠা বিরল ধরনের মস্তিষ্কের টিউমার।
ফিলিপস জানান, প্রায় দুই বছর ধরে তিনি বন্ধুদের বলতেন, তাঁর মস্তিষ্ক যেন আগের মতো কাজ করছে না। প্রথমে বিষয়টিকে বয়সজনিত পরিবর্তন বা মেনোপজের আগের সময়ের সঙ্গে যুক্ত করেছিলেন। কিন্তু অস্বস্তির অনুভূতি পুরোপুরি দূর হয়নি। টিউমারের খবর জানার পর তিনি এতটাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন যে স্বাভাবিকভাবে শ্বাস নিতেও কষ্ট হচ্ছিল। এর মধ্যেই তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও ‘ডওসনস ক্রিক’ সহ-অভিনেতা জেমস ভ্যান ডার বিক কোলন ক্যানসারে মারা যান। সেই শোকও তাঁর মানসিক চাপ আরও বাড়িয়ে দিয়েছিল।
এরপর ২ মার্চ প্রায় পাঁচ ঘণ্টার অস্ত্রোপচারে ফিলিপসের মস্তিষ্ক থেকে ২ দশমিক ৬ সেন্টিমিটার আকারের টিউমারটি অপসারণ করা হয়। পরীক্ষার পর সেটি গ্রেড-২ অলিগোডেনড্রোগ্লিওমা বলে নিশ্চিত করেন চিকিৎসকেরা। দ্রুত শনাক্ত হওয়ায় টিউমারটি সম্পূর্ণ অপসারণ করা সম্ভব হয়েছে এবং আপাতত কেমোথেরাপি বা রেডিয়েশনের প্রয়োজন নেই। অস্ত্রোপচারের মাত্র দুই দিন পরই বাড়ি ফিরেছিলেন অভিনেত্রী। তাঁর ঘনিষ্ঠ বন্ধু মিশেল উইলিয়ামসও এ সময় নিয়মিত পাশে ছিলেন।
তবে অস্ত্রোপচারের পরও পুরোপুরি ঝুঁকিমুক্ত ছিলেন না ফিলিপস। ‘কুপারটিনো’ সিরিজের শুটিংয়ে ফেরার পর তাঁর অস্ত্রোপচারের ক্ষতস্থানে স্ট্যাফিলোকক্কাস সংক্রমণ ধরা পড়ে। সংক্রমিত অংশ পরিষ্কার করতে তাঁকে আবার অস্ত্রোপচার করাতে হয়। চিকিৎসকেরা এখন নিয়মিত স্ক্যানের মাধ্যমে তাঁর অবস্থা পর্যবেক্ষণ করছেন। ফিলিপসের ভাষ্য অনুযায়ী, অস্ত্রোপচারের পর তাঁর মস্তিষ্ককে আর আগের মতো ‘ভাঙা’ মনে হচ্ছে না।
অভিনেত্রী এখন এই কঠিন অভিজ্ঞতাকে ইতিবাচকভাবে দেখছেন। তাঁর মতে, শরীরের অস্বাভাবিক অনুভূতিকে গুরুত্ব দেওয়া এবং প্রয়োজন হলে আরও তথ্য নেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ১৯৯৯ সালে অভিনয় শুরু করা ফিলিপস ‘ফ্রিকস অ্যান্ড গিকস’, ‘ডওসনস ক্রিক’ ও ‘কুগার টাউন’-এর মতো জনপ্রিয় কাজে অভিনয় করেছেন। চিকিৎসা শেষে তিনি আবারও অভিনয়ে ফিরেছেন। দ্রুত রোগ শনাক্ত ও চিকিৎসা পাওয়াকে নিজের সৌভাগ্য মনে করে ফিলিপস এখন অন্যদেরও নিজের শরীরের সংকেতকে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিচ্ছেন।






















