চুনতি অভয়ারণ্যে বন, বন্যপ্রাণী ও জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে আরও সক্রিয়ভাবে যুক্ত করতে দুই দিনব্যাপী প্রশিক্ষণ শুরু হয়েছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে বনাঞ্চল পুনরুদ্ধার ও পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষায় স্থানীয়দের ভূমিকা বাড়ানোই এ প্রশিক্ষণের অন্যতম লক্ষ্য।
চুনতি অভয়ারণ্যের রেঞ্জে ‘জলবায়ু সহনশীল বন পুনরুদ্ধার’ প্রকল্পের আওতায় এ প্রশিক্ষণ কার্যক্রম শুরু হয়। প্রশিক্ষণে স্থানীয় অংশগ্রহণকারীদের বন ও বন্যপ্রাণী রক্ষার প্রয়োজনীয়তা, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহারের বিষয়ে ধারণা দেওয়া হচ্ছে।
প্রশিক্ষণে বনভূমির ওপর মানুষের চাপ কমানো, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল রক্ষা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মোকাবিলার বিভিন্ন দিক তুলে ধরা হচ্ছে। একই সঙ্গে স্থানীয় জনগোষ্ঠী কীভাবে নিজেদের এলাকার প্রাকৃতিক সম্পদ রক্ষায় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে, সে বিষয়েও গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
আয়োজকদের মতে, শুধু সরকারি উদ্যোগের মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদে বন রক্ষা করা সম্ভব নয়। স্থানীয় মানুষের অংশগ্রহণ ও সহযোগিতা থাকলে সংরক্ষণ কার্যক্রম আরও কার্যকর হবে। তাই চুনতি অভয়ারণ্যের আশপাশের জনগোষ্ঠীকে সচেতন ও দক্ষ করে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
দুই দিনের এই প্রশিক্ষণের মাধ্যমে স্থানীয়দের মধ্যে বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ বিষয়ে সচেতনতা বাড়বে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। পাশাপাশি বন পুনরুদ্ধার, প্রাকৃতিক পরিবেশ রক্ষা এবং জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণে স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি অংশগ্রহণও নিশ্চিত হবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
বন্যপ্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগ, চট্টগ্রামের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই প্রশিক্ষণকে চুনতি বনাঞ্চলের পরিবেশ রক্ষায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে। স্থানীয় মানুষ ও সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর সমন্বিত প্রচেষ্টায় ভবিষ্যতে বনাঞ্চলকে আরও নিরাপদ ও জলবায়ু সহনশীল করে তোলার প্রত্যাশা রয়েছে।


























